বিশ্বকাপের আগে দ. আফ্রিকায় ভিসা সংকট, যাত্রা পিছিয়ে বড় অস্বস্তিতে
বিশ্বকাপের মঞ্চে নামার আগে সাধারণত দলগুলো ব্যস্ত থাকে কৌশল, অনুশীলন আর প্রস্তুতি নিয়ে। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবলারদের এখন লড়তে হচ্ছে এক ভিন্ন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে- ভিসা জটিলতা। বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র ১১ দিন আগে এমন পরিস্থিতি দেশটির ফুটবল অঙ্গনে সৃষ্টি করেছে তীব্র অস্বস্তি ও ক্ষোভ।
রবিবার পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্দেশে রওনা হতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা দল। কিছু খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার ভিসা এখনও হাতে না পৌঁছানোয় স্থগিত করতে হয়েছে তাদের যাত্রা।
সহ-আয়োজক মেক্সিকোর বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ১১ দিনের মধ্যেই। বিশ্বের কোটি কোটি দর্শকের নজর থাকবে সেই ম্যাচে। অথচ এখনও যাত্রাই শুরু করতে পারেনি দলটি।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শিবিরের জন্য মেক্সিকোর পাচুকা শহরে যাওয়ার কথা ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। এজন্য একটি বিশেষ উড়োজাহাজও প্রস্তুত ছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ভিসা-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে শেষ মুহূর্তে সফর পিছিয়ে যায়।
ঘটনাটি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী গেইটন ম্যাকেঞ্জি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, “দক্ষিণ আফ্রিকা ফুটবল সংস্থার এই ভ্রমণ ও ভিসা বিপর্যয় লজ্জাজনক এবং খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের প্রতি চরম অবিচার।”
তিনি আরও বলেন, “আমি ফুটবল সংস্থাকে জানিয়েছি, এই বিশৃঙ্খলার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং আমাকে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে হবে। আমাদের পুরো বিশ্বের সামনে বোকা বানানো হচ্ছে।”
এক বিবৃতিতে দক্ষিণ আফ্রিকা ফুটবল সংস্থা স্বীকার করেছে যে ভিসা-সংক্রান্ত সমস্যার কারণেই নির্ধারিত সময়ে দলটি যাত্রা করতে পারেনি।
সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়, “কিছু খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার ভিসা-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের কারণে দলটি পরিকল্পনা অনুযায়ী সকালে যাত্রা করতে পারেনি।”
তবে সমস্যার প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ফুটবল সংস্থা আরও জানিয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব দলকে মেক্সিকো সিটিতে পাঠানোর জন্য দিন-রাত কাজ চলছে।
বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের আগে এমন প্রশাসনিক জটিলতা দক্ষিণ আফ্রিকার প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। কারণ প্রতিটি দিনই এখন গুরুত্বপূর্ণ, আর অনুশীলন শিবিরে দেরিতে যোগ দিলে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হতে পারে দলকে।
ঢাকা/আমিনুল