ঢাকা     রোববার   ৩১ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৭ ১৪৩৩ || ১৫ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

অস্ট্রেলিয়ার কৃষকদের আতঙ্কের নাম ইঁদুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:১২, ৩১ মে ২০২৬  
অস্ট্রেলিয়ার কৃষকদের আতঙ্কের নাম ইঁদুর

অস্ট্রেলিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে ইঁদুরের উপদ্রব কৃষকদের আতঙ্কিত করে তুলেছে। এই ইঁদুরগুলো বাড়ির আশেপাশে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং শস্যক্ষেত ধ্বংস করছে।

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও সারের সরবরাহ অনিশ্চিত হওয়ায় কৃষকরা এমনিতেই চাপের মধ্যে আছেন। নতুন উপদ্রবের ফলে কৃষকরা হয় ইঁদুরের খেয়ে ফেলা ফসল পুনরায় রোপণ করতে, অথবা ইঁদুরের বিষ মেশানো জীবাণুমুক্ত বীজের মতো টোপ বিছিয়ে চাষের মূল্যবান সময় বাঁচাতে লাখ লাখ ডলার খরচ করছেন।

আরো পড়ুন:

পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার মিনজেনিউতে গম, ক্যানোলা, লুপিন এবং বার্লি চাষ করা ১৪ হাজার হেক্টরের একটি খামারের মালিক ৪৩ বছর বয়সী জিওফ কসগ্রোভ বলেন, “এতে অনেক খরচ হয় এবং এটা স্রেফ টোপের দামের বিষয় নয়। ওরা আপনার মাথা খারাপ করে দেবে - রাতে, ছাদে, এয়ার কন্ডিশনিং ইউনিটের ভেতরে দৌড়াদৌড়ি করে। আপনি ওদের শুনতে ও গন্ধ পেতে পারেন - এটা যেন একটা পচনশীল দেহের মতো।”

কসগ্রোভ ২৫ বছর ধরে চাষাবাদ করছেন এবং এই সময়ে তাকে মাত্র দুইবার ইঁদুরের টোপ ব্যবহার করতে হয়েছে। চলতি বছরের ইঁদুরের উপদ্রব ‘২০২১ সালের চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ’ বলে জানান তিনি।

২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়ার অনেক অংশে ইঁদুরের উপদ্রব ছড়িয়ে পড়েছিল, যার মধ্যে নিউ সাউথ ওয়েলসের বিশাল এলাকা এবং কুইন্সল্যান্ডের কিছু অংশ স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ উপদ্রবের শিকার হয়েছিল।

নিউ সাউথ ওয়েলসের পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, কারাগারে ইঁদুরের ব্যাপক ক্ষতির কারণে শত শত বন্দিকে অন্যত্র স্থানান্তরিত হতে বাধ্য করা হয়েছিল।

এবার, মার্চ মাসে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার কৃষকেরা সর্বপ্রথম মহামারীর মতো ইঁদুরের উপদ্রবের খবর দিতে শুরু করেন এবং এর কিছুদিন পরেই তাদের প্রতিবেশী দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়াতেও একই ঘটনা ঘটে।

কসগ্রোভের খামার থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা উত্তরে, ৫৯ বছর বয়সী কৃষিবিদ ও কৃষক বেলিন্ডা ইস্টো প্রায় পাঁচ বছর আগে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় আঘাত হানা ইঁদুরের উপদ্রবের কথা স্মরণ করেন।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর অন্যতম জেরাল্ডটনের ৮০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত নোলবায় তার ৫ হাজার ৫০০ হেক্টরের খামার থেকে তিনি বলেন, “গতবার (২০২১ সালে) ওরা আমার হ্যান্ডব্যাগে ঢুকে পড়েছিল। ওরা সব জায়গায় ছিল - মেঝেতে, দেয়ালে, ভাঁড়ার ঘরে। কিন্তু এ বছর ভাঁড়ার ঘরে ওদের পাইনি।”

তিনি বলেন, এর কারণ হলো, “ওরা সেখানেই থাকছে যেখানে খাবার আছে। গত বছর আমাদের রেকর্ড পরিমাণ ফসল হয়েছিল, তাই ইঁদুরগুলো প্রচুর খাবার পাচ্ছে।”

শস্য উৎপাদনকারীদের জন্য শরৎকাল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময়, কারণ এই সময়েই তারা তাদের ফসল রোপণ করেন।

কৃষিবিদ ইস্টো কৃষকদের তাদের ফসল বিষয়ে পরামর্শ দেন এবং এই বছর তিনি বীজ রোপণের পরপরই যত দ্রুত সম্ভব টোপ দেওয়ার জন্য তাদের অনুরোধ করছেন।

তিনি বলেন, “বীজ বপনকারীর ঠিক পরেই যদি টোপ দেওয়ার যন্ত্রটি যথেষ্ট দ্রুত না আসে, তাহলে রাতে ইঁদুর এসে নালা থেকে বীজ খেয়ে ফেলে। আপনি যদি রাত ৮টায় বীজ বপন শেষ করে পরের দিন আসেন, তাহলে দেখবেন আপনার ফসলের কয়েকটি সারি নেই।”

ইস্টো জানান, কৃষকরা খুবই সহনশীল, কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ডিজেল ও সারের ক্রমবর্ধমান মূল্য তাদের উপর কঠিন আঘাত হেনেছে।

তিনি বলেন, “দুই-তিন মাস আগে আমরা জ্বালানির জন্য যা ব্যয় করতাম, এখন তার দ্বিগুণ দিচ্ছি।”
 

ঢাকা/শাহেদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়