জিয়াউর রহমান ছিলেন সততা ও নৈতিকতার প্রতীক: রিজভী
নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় রুহুল কবির রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন সততা ও নৈতিকতার প্রতীক। শিক্ষানীতি, কৃষিনীতি, বিজ্ঞান কিংবা বৈদেশিক নীতি—যে বিষয়েই আলোচনা হোক না কেন, তিনি দীর্ঘ সময় বিশ্লেষণ করতে পারতেন।
রবিবার (৩১ মে) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভার সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘‘বিশেষণ কী দেব, উনি নিজেই রাগ করেন। বলেন, বিশেষণ দেবেন না। শুধু এইটুকু বলতে পারি, তিনি ১৭ বছর নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। আজ জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।’’
তিনি বলেন, ‘‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজেই ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান। তার শিক্ষানীতি, কৃষিনীতি, বিজ্ঞান কিংবা বৈদেশিক নীতি—যে বিষয়েই আলোচনা হোক না কেন, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে তা বিশ্লেষণ করতে পারতেন। আমরা যারা তখন ছাত্রজীবনে ছিলাম, কিছুটা দূর থেকে তাকে দেখেছি। কিন্তু তার ঘনিষ্ঠ সহকর্মীদের কাছ থেকে শুনেছি, রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তার অবদান যেমন অনন্য, তেমনি ব্যক্তি মানুষ হিসেবেও তিনি ছিলেন অসাধারণ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাসহ রাষ্ট্র পরিচালনায় তার যে অবদান, তা বহুবার আলোচিত হয়েছে।’’
‘‘একজন সাধারণ মানুষ, পেশাজীবী কিংবা রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন—এমন কেউ যদি তার জীবনাচরণ অনুসরণ করেন, তাহলে তিনি একজন স্বচ্ছ ও পরিশুদ্ধ মানুষ হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবেন,’’ যোগ করেন তিনি।
রিজভী বলেন, ‘‘আমি একবার আব্রাহাম লিংকনের একটি চিঠি পড়েছিলাম। তিনি তার সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে প্রধান শিক্ষককে লিখেছিলেন—‘আমার সন্তানকে এমন শিক্ষা দেবেন, যাতে সে জানে নকল করার চেয়ে অকৃতকার্য হওয়া ভালো; পাঁচ ডলার কুড়িয়ে পাওয়ার চেয়ে এক ডলার পরিশ্রম করে উপার্জন করা শ্রেয়; এবং নীরব হাসির গোপন সৌন্দর্যও তাকে শেখাবেন।’ এটাই একজন প্রকৃত রাষ্ট্রনায়কের চিন্তা। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানও ছিলেন ঠিক তেমনই।’’
‘‘রাজশাহীর এক সাবেক সংসদ সদস্যের কাছ থেকে শুনেছি, একবার তিনি রাষ্ট্রপতির জন্য এক ঝুড়ি আম নিয়ে বঙ্গভবনে গিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হন এবং উপহার হিসেবে আনা সেই আম সরিয়ে ফেলতে বলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমাকে আম দিতে আসলো!’—এটাই ছিল তার চরিত্রের দৃঢ়তা এবং সততার পরিচয়।’’ বলেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের স্বল্পাহার, পরিমিতি বোধ, দূরদৃষ্টি ও সাদাসিধে জীবনযাপন আমাদের জন্য অনুসরণীয়। রাষ্ট্রপতি হয়েও তিনি যে জীবনযাপন করেছেন, তা যদি আমরা অনুসরণ করতে পারি, তাহলে সমাজে ভালো মানুষের সংখ্যা বাড়বে, অপরাধ কমবে এবং দেশ আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী হবে।’’
বক্তব্যে বিরোধী দল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এক নেতা বলেছেন, সরকার চাঁদাবাজি বন্ধের কথা বললেও চাঁদাবাজি নাকি বন্ধ হয়নি। আমি তাদের বলতে চাই, আমি হয়তো খুব বেশি লেখাপড়া করিনি, কিন্তু খবরের কাগজের শিরোনাম পড়তে পারি। পত্রিকায় দেখেছি, ফেনীতে জাকির নামে এক জামায়াত নেতা মামলা প্রত্যাহারের কথা বলে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। সংবাদ প্রকাশের পর তাকে বহিষ্কারও করা হয়েছে।’’
এছাড়া ফেনী নদীর বালুঘাট দখলকে কেন্দ্র করে জামায়াতের আরও কয়েকজন নেতার নাম এসেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
‘‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী একসময় গুপ্ত রাজনীতির কথা বলেছিলেন। আমি মনে করি, সেটাই তাদের বৈশিষ্ট্য। এই গুপ্ত রাজনীতির মধ্যে চাঁদাবাজও আছে, দখলবাজও আছে। অথচ তারা বারবার অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে। তারা আবার আরবি শব্দ ব্যবহার করে—‘হাদিয়াবাজি’, ‘ইয়ানাতবাজি’। এসব বিষয়ে সবচেয়ে বেশি পারদর্শী কারা, সেটি জনগণ ভালো করেই জানে।’’
‘‘কেউ কেউ বলেন, ১৯৭১ সালের জামায়াত আর বর্তমান জামায়াত এক নয়। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, অতীতে যারা জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছিল, সেগুলো কি এখন অবৈধ হয়ে গেছে, আর এখনকারগুলো বৈধ?’’ প্রশ্ন রাখেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো ভিসি ড. লুতফর রহমান, ইউজিসির চেয়ারম্যান ড. মামুন আহমেদ প্রমুখ।
ঢাকা/নজরুল//