ঢাকা     শনিবার   ১৬ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ২ ১৪৩৩ || ২৯ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

সিরাজগঞ্জে রক্তমাখা চিঠি, ‘রঘু ডাকাত’ আতঙ্কে রাত জেগে পাহারা গ্রামবাসীর

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:০৫, ১৬ মে ২০২৬   আপডেট: ১৯:০৬, ১৬ মে ২০২৬
সিরাজগঞ্জে রক্তমাখা চিঠি, ‘রঘু ডাকাত’ আতঙ্কে রাত জেগে পাহারা গ্রামবাসীর

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রহস্যজনক রক্তমাখা চিঠি দিয়ে হত্যা ও ডাকাতির হুমকিতে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত কয়েক দিনে গ্রামের অন্তত ১৫টি বাড়িতে ‘রঘু ডাকাত’ পরিচয় দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে দুর্বৃত্তের দল। চিঠিতে দরজা খোলা রাখার নির্দেশ দিয়ে অমান্য করলে জিন্দা লাশ বানিয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর থেকে গ্রামে বিরাজ করছে আতঙ্ক। সন্ধ্যা নামলেই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে রাস্তা ও বাজার। শিশুদের একা স্কুলে পাঠাতেও ভয় পাচ্ছেন অভিভাবকেরা। রাতভর পাহারা দিয়েও চুরি-ডাকাতি ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছেন গ্রামবাসী।

জানা যায়, উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের টেকুয়াপাড়া গ্রামে গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে দুর্বৃত্তরা আবু সাঈদের বাড়ি থেকে দুটি গরু লুটের চেষ্টা করে। এ সময় তার মেয়ে বিথি খাতুনের চিৎকারে গ্রামবাসী ছুটে আসে। পরে ডাকাতরা গরু ফেলে পালিয়ে যায়। পালানোর আগে বিথি খাতুনকে উদ্দেশ্য করে ঘরের ভেতরে একটি রক্তমাখা চিঠি রেখে যায়। চিঠিতে লেখা ছিল: আপনার মেয়ের জন্য আজকে বেঁচে গেলেন, ভাইবেন না আবার বাঁচবেন। মেয়ে মানুষের এত সাহস ভালো না। কালকে রাতে বাঁচতে চাইলে দরজা খোলা রাখবেন।

এ ঘটনায় এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর আগেও একই গ্রামে চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে ডাকাতির চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। 

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আমজাদ হোসেন জানান, গত ১২ মে মাগরিবের নামাজ শেষে বাড়ি ফিরে তিনি ও তার স্ত্রী অচেতন হয়ে পড়েন। পরে গভীর রাতে জেগে উঠে দেখেন ঘরের শোকেজের লকার ভেঙে নগদ ১ লাখ টাকা, ১২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ৫ ভরি রুপার গহনা ও মূল্যবান মালামাল লুট করা হয়েছে। এতে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনার পর শুক্রবার (১৫ মে) শাহজাদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আমজাদ হোসেন।

অন্যদিকে, আবু হোসেন নামে আরেক বাসিন্দা জানান, কয়েকদিন আগে চেতনানাশক স্প্রে করে তার বাড়ি থেকে প্রায় ২ লাখ টাকা মূল্যের একটি ষাঁড় গরু চুরি করে নিয়ে যায় দূর্বৃত্তরা।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, প্রতিটি চিঠিতে আলাদা কোড নাম্বার ব্যবহার করা হয়েছে, যা আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তদের অতিদ্রুত সনাক্তসহ গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসী। 

টেকুয়াপাড়া মিলন সংঘের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘‘গত চার-পাঁচ দিনে অন্তত ১৫টি বাড়িতে এমন চিঠি দেওয়া হয়েছে। গ্রামের যুবকেরা রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে। তারপরও চুরি ও হুমকি বন্ধ হচ্ছে না। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে গরু পালন করা হচ্ছে। এ সুযোগ টার্গেট করেই সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় হয়েছে।’’

শাহজাদপুর থানার ওসি (তদন্ত) নাজমুল কাদের বলেন, ‘‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।’’

এ প্রসঙ্গে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা সারমিন জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে থানা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা/অদিত্য//

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়