ঢাকা     শুক্রবার   ১৫ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ১ ১৪৩৩ || ২৭ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

প্রিন্স উইলিয়ামের হাত থেকে এমবিই খেতাব গ্রহণ করলেন আবু তাহের

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:১৫, ১৫ মে ২০২৬   আপডেট: ১৬:৫০, ১৫ মে ২০২৬
প্রিন্স উইলিয়ামের হাত থেকে এমবিই খেতাব গ্রহণ করলেন আবু তাহের

আবু তাহেরকে সম্মানসূচক ব্যাজ পরিয়ে দিচ্ছেন প্রিন্স উইলিয়াম

যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক উইন্ডসর ক্যাসেলে ‘মেম্বার অব দ্য অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (এমবিই)’ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন বিশিষ্ট হিসাবরক্ষক, সাহিত্যিক ও সমাজসেবক আবু তাহের। বুধবার (১৩ মে) প্রিন্স উইলিয়ামের হাত থেকে তিনি এ সম্মাননা গ্রহণ করেন।

দীর্ঘদিনের পেশাগত সাফল্য, সাহিত্যচর্চা, সমাজসেবা ও কমিউনিটি উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ যুক্তরাজ্য সরকার তাকে এ মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননায় ভূষিত করে।

আরো পড়ুন:

লন্ডনের নিকটবর্তী উইন্ডসর ক্যাসেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আবু তাহেরের সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী মিতা তাহের, মেয়ে অনিকা তাহের এবং ছেলে তামিম তাহের। পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে মুহূর্তটি আরো আবেগঘন হয়ে ওঠে। 

সম্মাননা গ্রহণের পর আবু তাহের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “এমবিই খেতাব পাওয়া আমার জন্য খুবই গর্ব ও সম্মানের। এই স্বীকৃতি আমাকে সমাজ ও মানুষের কল্যাণে আরো বেশি কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে। আমি এই অর্জন আমার পরিবার, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও কমিউনিটির মানুষদের উৎসর্গ করছি।”

বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করা আবু তাহের ১৯৮৭ সালে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি একজন দক্ষ ও পেশাদার হিসাবরক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৯৯ সালে পূর্ব লন্ডনে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘মাহি অ্যান্ড কো সার্টিফায়েড প্র্যাকটিসিং অ্যাকাউন্ট্যান্টস’। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ব্যক্তি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে আর্থিক পরামর্শ ও হিসাবরক্ষণ সেবা দিয়ে সুপরিচিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তিনি ইনস্টিটিউট অব সার্টিফায়েড প্র্যাকটিসিং অ্যাকাউন্ট্যান্টস--এর ফেলো সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

পেশাগত জীবনের পাশাপাশি সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায়ও আবু তাহের সুপরিচিত। ছাত্রজীবন থেকেই কবিতা ও লেখালেখির প্রতি তার আগ্রহ ছিল প্রবল। ১৯৮৮ সালে যুক্তরাজ্যে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত ‘সংহতি  লিটারেচার সোসাইটি’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তিনি। প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি থেকে বর্তমানে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি সংগঠনটিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিত সাহিত্যিক প্ল্যাটফর্মে রূপ দিয়েছেন। সংগঠনটির উদ্যোগে নিয়মিত কবিতা উৎসব, সাহিত্যসভা, কর্মশালা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও আবু তাহেরের রয়েছে বিস্তৃত সম্পৃক্ততা। তিনি ‘মাসুমা মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর মাধ্যমে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা প্রদান করে আসছেন। নারীর ক্ষমতায়নে অবদান রাখতে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘টিফাইভ টেইলারিং ট্রেনিং সেন্টার’, যেখানে নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

এছাড়া তিনি ‘ভিশন কেয়ার ফাউন্ডেশন’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, অপারেশন ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনায় যুক্ত রয়েছেন। শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন প্রকল্পেও তার সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে।

সার্বজনীন গোলাপগঞ্জ উৎসবের অন্যতম আয়োজক হিসেবেও তিনি প্রশংসিত। লন্ডনে আয়োজিত এ উৎসব প্রবাসী গোলাপগঞ্জবাসীর মিলনমেলায় পরিণত হয় এবং ব্যাপক সাড়া ফেলে।

বর্তমানে তার আরেকটি স্বপ্নের প্রকল্প ‘হেভেন কেয়ার হোম’ বাস্তবায়নের কাজ চলছে, যেখানে বৃদ্ধ ও অসহায় মানুষের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে পেশা, সাহিত্য ও সমাজসেবাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে আবু তাহের যে অবদান রেখে চলেছেন, তা প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজে এক অনুকরণীয় উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং দেশ-বিদেশে বসবাসরত সব বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গর্বের বিষয়।

ঢাকা/ফিরোজ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়