চা বাগানের মানুষগুলো অদ্ভুত রকমের মায়াবী: সাফা কবির
সাফা কবির
সবুজে ঘেরা নির্জন চা বাগান, দূরে টিলা, চারপাশে কুয়াশার মতো নীরবতা। দিনের আলো ফুরোলেই সেখানে নেমে আসে অন্যরকম এক রহস্যময় পরিবেশ। আর সেই পরিবেশের ভেতরেই নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাফা কবির।
সম্প্রতি একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে ‘চা গরম’ নাটকের শুটিং ঘিরে নানা স্মৃতি শেয়ার করেন সাফা কবির। সেখানে উঠে আসে চা বাগানের মানুষের জীবন, তাদের সরলতা, আতিথেয়তা এবং শুটিং চলাকালীন কিছু ভৌতিক অনুভূতির গল্পও।
সাফা জানান, চা বাগানের মানুষদের আন্তরিকতা তাকে ভীষণভাবে স্পর্শ করেছে। তাদের জীবনযাপন যেমন সাধারণ, তেমনই হৃদয়ও অনেকটা নির্মল। অভিনেত্রীর ভাষায়, “ওখানকার মানুষগুলো অদ্ভুত রকমের মায়াবী। শুটিংয়ের ফাঁকে তাদের সঙ্গে অনেক গল্প হয়েছে, তাদের বাড়িতে বসে খাওয়ার সুযোগও হয়েছে। ফিরে আসার সময় তাদের মন খারাপ দেখে আমার নিজেরও খুব খারাপ লাগছিল।”
তবে এই সৌন্দর্যের আড়ালেই ছিল এক ধরনের নিঃসঙ্গতা আর ভয়ের আবহ। সাফা জানান, যে বাংলোতে তারা ছিলেন সেটি ছিল একটি টিলার ওপরে, চারদিকে বিস্তীর্ণ চা বাগান ছাড়া আর কিছুই নেই। গভীর রাত নামলে পুরো পরিবেশ বদলে যেত।
কিছুটা ব্যাখ্যা করে সাফা কবির বলেন, “নাটকের একটি সংলাপ ছিল, ‘আশেপাশে ২০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো মানুষ নেই।’ বাস্তবেও পরিবেশটা অনেকটা সেরকম ছিল। রাতে যখন শেয়ালগুলো বাংলোর খুব কাছে এসে ডাকত, তখন সত্যিই গা ছমছম করত।”
চা বাগান ঘিরে প্রচলিত ভৌতিক গল্প নিয়েও কথা বলেন এই অভিনেত্রী। রহস্য রেখে তিনি জানান, নাটকে যেসব ঘটনা দেখানো হয়েছে, তার অনেক কিছুই বাস্তব অনুভূতি থেকে নেওয়া। ফলে দর্শক খুব সহজেই গল্পের ভয় ও আবহের সঙ্গে নিজেদের মিল খুঁজে পাবেন।
তবে ভূতের গল্পের চেয়েও ব্যক্তিগতভাবে একটি জিনিসকে সবচেয়ে বেশি ভয় পান সাফা কবির। তা হলো—সাপ। অভিনেত্রী হাসতে হাসতেই জানান, তার ‘স্নেক ফোবিয়া’ রয়েছে। সাপের নাম শুনলেই ভেতরে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করে।
সব মিলিয়ে ‘চা গরম’ শুধু একটি নাটকের শুটিং ছিল না, বরং সাফা কবিরের কাছে এটি ছিল প্রকৃতি, মানুষ আর অজানা ভয়ের সঙ্গে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা।
ঢাকা/রাহাত/শান্ত
ঈদুল আজহায় ছুটি ৭ দিন, প্রজ্ঞাপন জারি