পশ্চিমবঙ্গে সরকারি অনুমতি ছাড়া পশু জবাই নিষিদ্ধ করল বিজেপি সরকার
কলকাতা ব্যুরো || রাইজিংবিডি.কম
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার পশু জবাইয়ের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রকাশ্যে যত্রতত্র নয়, শুধু সরকার স্বীকৃত কসাইখানাতেই পশু জবাই দিতে হবে। জবাই দিতে লাগবে নির্দিষ্ট পশুর ফিটনেস সার্টিফিকেট বা অনুমতিপত্র।
১৩ মে রাজ্য সরকারের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের নির্দেশ একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ পশু হত্যা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০-এর উল্লেখ করে লেখা হয়েছে, “কোনো ব্যক্তি কোনো পশু (ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর, পুরুষ ও স্ত্রী মোষ, মোষের বাচ্চা এবং মুষ্ক-ছেদিত মোষ) জবাই দিতে পারবেন না, যদি না তিনি সেই পশুটি জবাই উপযুক্ত- এই মর্মে কোনো ফিটনেস সার্টিফিকেট বা অনুমতি পত্র সংগ্রহ করেন।”
নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, “কোনো পৌরসভার চেয়ারম্যান বা কোনো পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং একজন সরকারি পশু চিকিৎসক যৌথভাবে পশুটি যে জবাই উপযুক্ত সেই সংক্রান্ত অনুমতিপত্র প্রদান করতে পারেন, যদি তারা উভয়েই এই বিষয়ে লিখিতভাবে একমত হন যে, কাজ ও প্রজননের ক্ষেত্রে পশুটির বয়স ১৪ বছরের বেশি অথবা পশুটি বার্ধক্য, আঘাত, বিকৃতি বা অন্য কোনো দুরারোগ্য ব্যাধির কারণে স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়েছে, তবেই সেটিকে জবাই করা যাবে।”
প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে, কলকাতা হাইকোর্টের ২০১৮ সালের ৬ আগস্টের রায় এবং সে সংক্রান্ত ২০২২ সালের ৮ জুনের সরকারি নির্দেশিকা অনুসরণ করে সাফ জানানো হয়েছে অনুমতিপত্র থাকলেও প্রকাশ্যে গরু, মহিষ জবাই দেওয়া যাবে না। জবাই দেওয়া যাবে কেবল সরকার স্বীকৃত কসাইখানায়।
কেউ নিয়ম ভাঙলে আইন মোতাবেক তার কী শাস্তি হবে, সেটাও জানানো হয়েছে। সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। যৌথ অনুমতিপত্র ছাড়া পশু জবাই করলে বা নিষিদ্ধ স্থানে এই কাজ করলে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, ১ হাজার রুপি জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডই হতে পারে।
তবে এই ধরনের অনুমতিপত্র প্রদানে অস্বীকৃতির ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি উক্ত অস্বীকৃতির সংবাদ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানাতে পারবেন।
একই সঙ্গে নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০-এর বিধি কার্যকর করার উদ্দেশ্যে পৌরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, অথবা সরকারি পশুচিকিৎসক কর্তৃক অনুমোদিত কোনো ব্যক্তি পরিদর্শনে (কসাইখানা) গেলে কেউ বাধা দিতে পারবেন না।
ঢাকা/সুচরিতা/ফিরোজ
হামে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু