১১ দিন পর দেশে এলো প্রবাসী রনির মরদেহ
শেরপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া স্বজন ও এলাকাবাসী শেষবারের মতো রনিকে দেখতে ভিড় করেন
পরিবারের স্বপ্ন পূরণে সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন শেরপুরের ঝিনাইগাতীর পালাপাড়া গ্রামের প্রবাসী মো. রনি মিয়া (৩০)। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। সৌদি আরবের রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ১১ দিন পর তার মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শনিবার জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
গত ২১ এপ্রিল সৌদি আরবের রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তিনি। মৃত্যুর ১১ দিন পর গত ২ মে তার মরদেহ দেশে আসে।
মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া স্বজন ও এলাকাবাসী শেষবারের মতো তাকে দেখতে ভিড় করেন। কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বাবা আব্দুর রাজ্জাক ও মা মল্লিকা বেগম শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। মা বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। স্ত্রী দিলরুবা আক্তারও স্বামীর মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না।
রনির দুই সন্তান সুমাইয়া আক্তার (৭) ও মুফাসিনা আক্তার (৩) এখনো পুরো ঘটনা বুঝে উঠতে পারেনি। পরিবারের সদস্যরা জানান, সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়েই বিদেশে গিয়েছিলেন রনি।
জানা গেছে, অভাবের সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে প্রথমে ২০২৪ সালে ফুড ডেলিভারির কাজে সৌদি আরবে যান তিনি। তবে দুই মাসের মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে দেশে ফিরে আসেন। পরে ২০২৫ সালের অক্টোবরে আবারো সৌদি আরবে যান। কিন্তু এবারও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই কেড়ে নেয় তার জীবন।
নিহতের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার বলেন, “স্বামী হারিয়েছি, বিধবা হয়েছি। আমার সন্তানরা এতিম হয়েছে। এখন সন্তানদের কীভাবে মানুষ করব জানি না।” তিনি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল আমীন বলেন, “সৌদি আরবে এভাবে একজন শ্রমিকের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। নিহতের পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করবে উপজেলা প্রশাসন।”
ঢাকা/তারিকুল/ইভা