ঢাকা     রোববার   ১০ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৭ ১৪৩৩ || ২২ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

একজন শ্রমজীবী মায়ের মহাকাব্য

ক্যাম্পাস ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:২৭, ১০ মে ২০২৬   আপডেট: ১৩:১৭, ১০ মে ২০২৬
একজন শ্রমজীবী মায়ের মহাকাব্য

মা—শুধু আমার জীবনের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ শব্দই নয়, আমার প্রতিটি সাফল্যের পেছনে জ্বলে থাকা এক অনন্ত বাতিঘর। আমি বলছি আমার মায়ের কথা। পৃথিবীর অনেক পবিত্র ও শুভ্র শব্দের শুরু যেন ‘ম’ দিয়েই—মন্দির, মসজিদ, মন। আর সেই প্রতিটি শব্দের গভীরে কোথাও না কোথাও আমি মায়েরই ছায়া খুঁজে পাই।

আমার মা একজন পোশাকশ্রমিক। ছোটবেলা থেকে আমি আর আমার প্রিয় অনুজ বোন মায়ের কাছ থেকে পেয়েছি অফুরন্ত ভালোবাসা, নির্ভরতা আর ত্যাগের উষ্ণ ছায়া। জীবনের যত অভাব, যত ক্লান্তি, যত কষ্ট—সবকিছুকে আড়াল করে মা আমাদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেছেন প্রতিদিন।

আরো পড়ুন:

স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে, কলেজের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে আজ আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছি। এই পথচলার পেছনে যদি একজন মানুষের নাম বলতে হয়, তবে নিঃসন্দেহে তিনি আমার মা। গত দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন—শুধু আমাদের ভবিষ্যৎটাকে একটু সুন্দর করার আশায়।
কত দিন দেখেছি, সারাদিনের পরিশ্রম শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাড়ি ফিরেও মা আমাদের জন্য হাসিমুখে অপেক্ষা করছেন। নিজের কষ্টের কথা তিনি কখনো বলেননি। একদিন খুব মায়া নিয়ে তাকে বলেছিলাম, “মা, তুমি তো খুব ক্লান্ত হয়ে যাও, কিছুদিন বিশ্রাম নাও।”

মা শুধু মৃদু হেসে বলেছিলেন, “না বাবা, তোদের সুখের জন্য আমার এই পরিশ্রম কিছুই না।”

এই একটি বাক্যের ভেতরেই যেন লুকিয়ে আছে একজন মায়ের সমগ্র জীবনদর্শন। নিজের সুখ, নিজের বিশ্রাম, নিজের স্বপ্ন—সবকিছুই তিনি সন্তানের ভবিষ্যতের কাছে নীরবে সমর্পণ করে দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগে মা একদিন বলেছিলেন, তিনি আমার ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসবেন। ক্যাম্পাস দেখা তার কাছে শুধু একটি ইচ্ছা নয়, এটি তার বহুদিনের লালিত স্বপ্ন। কিন্তু বাস্তবতা বড় কঠিন। মায়ের তেমন ছুটি নেই, অবসর নেই। সংসার আর দায়িত্বের চাকার সঙ্গে নিজেকেও যেন বেঁধে ফেলেছেন তিনি।

তবুও আমি বিশ্বাস করি, খুব শিগগিরই একদিন আমি তাকে আমার ক্যাম্পাসে নিয়ে যাব। সেই দিন আমি শুধু একজন ছাত্র থাকব না; একজন সন্তানের মতো গর্ব নিয়ে মায়ের হাত ধরে বলব, “দেখো মা, তোমার কষ্ট বৃথা যায়নি।”

পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি রইল আমার গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর প্রণাম। কারণ মায়েরা নিঃশব্দে যে যুদ্ধটা লড়ে যান, তার কোনো ইতিহাস লেখা হয় না—তবুও সেই যুদ্ধের ওপরই দাঁড়িয়ে থাকে অসংখ্য সন্তানের স্বপ্নময় ভবিষ্যৎ।

লেখক: শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
সহযোগী সদস্য, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম

ঢাকা/জান্নাত/লিপি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়