ঢাকা     রোববার   ১০ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৭ ১৪৩৩ || ২২ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ইরানে হামলার জন্য ইরাকে ইসরায়েলের গোপন ঘাঁটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:০১, ১০ মে ২০২৬   আপডেট: ১৩:১২, ১০ মে ২০২৬
ইরানে হামলার জন্য ইরাকে ইসরায়েলের গোপন ঘাঁটি

প্রতীকী ছবি

ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা পরিচালনার লক্ষ্যে ইরাকের মরুভূমিতে গোপনে একটি সামরিক ঘাঁটি তৈরি করেছে ইসরায়েল। এমনকি ঘাঁটিটির গোপনীয়তা বজায় রাখতে, এটি খুঁজে পাওয়ার কাছাকাছি বলে আসা ইরাকি সেনাদের ওপরও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ তথ্য জানিয়েছে। খবর রুশ সংবাদমাধ্যম আরটির।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরান বিরোধী সামরিক অভিযান শুরু করার ঠিক আগে এই গোপন ঘাঁটিটি গড়ে করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র এই ঘাঁটির বিষয়ে অবগত ছিল বলে জানা গেছে। এখানে ইসরায়েলি স্পেশাল ফোর্স অবস্থান করত এবং এটি ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর জন্য লজিস্টিক হাব ও অনুসন্ধান-উদ্ধারকারী দলের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো- যাতে কোনো ইসরায়েলি পাইলট ভূপাতিত হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

আরো পড়ুন:

মার্চের শুরুতে একজন স্থানীয় মেষপালক মরুভূমিতে হেলিকপ্টার চলাচলসহ ‘অস্বাভাবিক সামরিক কার্যকলাপ’ লক্ষ্য করে কর্তৃপক্ষকে জানালে ঘাঁটিটি প্রায় উন্মোচিত হয়ে যায়। ইরাকি সেনারা বিষয়টি তদন্ত করতে গেলে তাদের ওপর ভারী গুলিবর্ষণ করা হয়। এই হামলায় একজন ইরাকি সেনা নিহত এবং অন্য দুজন আহত হন।

ঘটনাস্থলে বিদেশি সামরিক বাহিনীর উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়ার পর বাগদাদ প্রাথমিকভাবে এই ঘটনার জন্য ওয়াশিংটনকে দায়ী করেছিল। ইরাকের জয়েন্ট অপারেশন কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাইস আল-মুহাম্মাদাবি এই হামলা সম্পর্কে বলেন, “মনে হচ্ছে বিমান হামলার আগে সেখানে ভূমিতে একটি নির্দিষ্ট বাহিনী ছিল। এই বেপরোয়া অভিযানটি কোনো সমন্বয় বা অনুমোদন ছাড়াই চালানো হয়েছে।”

ইসরায়েল থেকে ইরানের দূরত্ব ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটারের বেশি। পাঁচ সপ্তাহের দীর্ঘ বিমান অভিযানে এই ঘাঁটিটি ইসরায়েলি বাহিনীকে অনেক সুবিধা দিয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) এই প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এই ঘটনা ইরান-ইসরায়েল দ্বন্দ্ব কীভাবে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে এতে জড়িয়ে ফেলেছে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

গত মার্চ মাসে পদত্যাগ করা মার্কিন সাবেক কাউন্টার-টেরোরিজম প্রধান জো কেন্ট ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে টেনে আনার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানান, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছিল যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না এবং হামলা চালালে তারা আমেরিকান ঘাঁটি ও হরমুজ প্রণালি লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানবে। কেন্টের দাবি, ইসরায়েলি প্রোপাগান্ডা শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনে জয়ী হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধে জড়াতে বাধ্য করে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা এই দাবি অস্বীকার করেছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই সপ্তাহে বলেছেন যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতেই কাজ করেছেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে টেনে এনেছেন- এমন ধারণাকে তিনি ‘ভুল ধারণা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়