ঢাকা     রোববার   ১০ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৭ ১৪৩৩ || ২২ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের চোখে মা: ভালোবাসা, ত্যাগ ও আশ্রয়ের গল্প

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:১৫, ১০ মে ২০২৬  
নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের চোখে মা: ভালোবাসা, ত্যাগ ও আশ্রয়ের গল্প

পৃথিবীতে সবচেয়ে নিঃস্বার্থ, নির্মল ও গভীর ভালোবাসার নাম ‘মা’। ছোট্ট একটি শব্দ, অথচ এর বিস্তৃতি যেন আকাশ ছাপিয়ে যায়। মানুষের জন্মের প্রথম মুহূর্ত থেকে জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে ছায়ার মতো পাশে থাকেন মা। সন্তানের হাসিতে তিনি হাসেন, কষ্টে নীরবে কাঁদেন, অথচ নিজের ত্যাগের গল্প কখনোই সামনে আনেন না। মায়েরা যেন এমন এক বৃক্ষ, যারা রোদ নিজের গায়ে মেখে সন্তানের জন্য ছায়া ধরে রাখেন সারাজীবন।

বিশ্ব মা দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিক দিন নয়; বরং মায়ের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এক আবেগঘন উপলক্ষ। এই দিনকে ঘিরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরাও ভাগাভাগি করেছেন তাদের অনুভূতি, স্মৃতি ও ভালোবাসার গল্প।

আরো পড়ুন:

নোবিপ্রবি শিক্ষার্থী ময়ূরী নূর বলেন, “যার মা নেই, তার দুনিয়ায় যেন কেউ নেই। ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে সবার জীবনেই ‘মা’ হলো সেই প্রথম শব্দ, যা উচ্চারণ করলেই হৃদয়ে এক ধরনের অদ্ভুত প্রশান্তি নেমে আসে। শৈশবের দুর্বল সময় থেকে জীবনের প্রতিটি কঠিন ধাপে মা-ই আগলে রাখেন সন্তানকে।

তার ভাষ্যে, একজন মেয়ে হিসেবে বড় হতে হতে তিনি বুঝতে শিখেছেন, মা আসলে কী। কিভাবে একজন মা নিজের কষ্ট আড়াল করে পরিবারের সবাইকে সুখে রাখেন, কিভাবে নিঃস্বার্থভাবে সবার যত্ন নেন। তার অনুভূতিতে, “আমার জীবনের সত্যিকারের সুপারহিরো আমার মা। তিনি শুধু আমাকে জন্ম দেননি, বরং আমার জীবনের প্রতিটি পাতায় অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছেন।”

এই মা দিবসে তার চাওয় পৃথিবীর সব মা তাদের প্রাপ্য সম্মান ও ভালোবাসা পাক। যারা প্রতিনিয়ত নিজেদের ক্লান্তি ভুলে সন্তানের মুখে হাসি ফোটান, তাদের খুশি রাখার অঙ্গীকার করুক সবাই।

ময়ূরী আরো বলেন, “ব্যস্ত জীবনের ভিড়ে আমরা অনেক সময় মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে ভুলে যাই। অথচ একটি ছোট্ট ‘ভালোবাসি মা’, কিংবা একটু সময় নিয়ে মায়ের পাশে বসা, এগুলোই একজন মায়ের কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় উপহার হয়ে উঠতে পারে। কারণ পৃথিবীতে এমন কেউ নেই, যে মায়ের মতো নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসতে পারে।”

আরেক শিক্ষার্থী তাহমিদ হাসান বলেন, “আজকের ব্যস্ত পৃথিবীতে আমরা প্রায়ই মায়ের অবদানকে স্বাভাবিক বলে ধরে নিই। অথচ একজন মা নিরবে-নিঃশব্দে নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে সন্তানের সাফল্যে নিজের সার্থকতা খুঁজে পান। মা এমন এক অনুভূতি, যেখানে লুকিয়ে আছে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, নিরাপত্তা আর নির্মল প্রশান্তি।”

তিনি আরো বলেন, “জীবনের প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সাহসের নাম মা। যে মা দূরে থেকেও সন্তানের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেন, শত প্রতিকূলতার মধ্যেও সন্তানের পাশে থাকেন, সেইসব মায়েদের প্রতিই বিশ্ব মা দিবসে গভীর শ্রদ্ধা জানানো উচিত।”

শিক্ষার্থী সুমাইয়া মুক্তা শোনান নিজের জীবনের এক আবেগঘন স্মৃতি। তিনি জানান, তার বাবা ইন্তেকাল করেছেন আট বছর আগে। কিন্তু আজও তার মা প্রতিটি বিষয়েই বাবার স্মৃতি খুঁজে পান। ঘরের সবচেয়ে সুন্দর ফার্নিচার কিংবা শোকেসের কাপসেট দেখলেই বলেন, “এটা তোমাদের আব্বার সঙ্গে গিয়ে কেনা।” ভাইদের কবুতরের ঘর বানাতে দেখলেও হঠাৎ বলে ওঠেন, “তোদের আব্বা কী সুন্দর করে একটা মুরগির খোঁয়াড় বানাইছিলো!”

সুমাইয়ার ভাষায়, তার মায়ের জীবনের প্রতিটি সাফল্যের পেছনেই ছিলেন বাবা। তার কাছে সাফল্য মানে ছিল সংসারটাকে সুন্দর করে গুছিয়ে রাখা, নিজের হাতে বানানো পর্দা টাঙিয়ে ঘরটাকে আপন করে তোলা। আজ তিনি বুঝতে পারেন, মা শুধু সংসার সামলান না; মা আসলে স্মৃতি, ভালোবাসা আর পুরো পরিবারটাকে আগলে রাখেন নিঃশব্দে।

শিক্ষার্থী সাজ্জাদ শাহরিয়ার বলেন, “মা পৃথিবীর প্রথম আশ্রয়, প্রথম শিক্ষক এবং প্রথম বন্ধু। একজন মা সন্তানের জন্য নিজের সুখ, স্বপ্ন ও আরাম ত্যাগ করতেও এক মুহূর্ত ভাবেন না। সন্তানের হাসিতে তিনি হাসেন, কষ্টে নীরবে চোখের জল ফেলেন। রাত জেগে সন্তানের পাশে থাকা, ছোট ছোট ইচ্ছে পূরণ করা কিংবা বিপদের সময় সাহস জোগানো, সবকিছুতেই প্রকাশ পায় মায়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। তাই মা দিবস শুধু একটি দিন নয়; এটি মায়ের ত্যাগ ও ভালোবাসাকে নতুন করে স্মরণ করার উপলক্ষ।”

মায়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের জন্য বিশেষ কোনো দিনের প্রয়োজন না হলেও, বিশ্ব মা দিবস যেন সেই অনুভূতিগুলো আবারো মনে করিয়ে দেয়। কারণ পৃথিবীর সব সম্পর্কের ঊর্ধ্বে একজন মা-ই সন্তানের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও অফুরন্ত ভালোবাসা।

ঢাকা/শফিউল্লাহ/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়