যেকোনো মুহূর্তে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার হুমকি ইরানের
ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইয়্যেদ মজিদ মুসাভি
ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তু এবং শত্রু জাহাজগুলোর ওপর পুরোপুরি তাক করা আছে। বাহিনীগুলো এখন আঘাত হানার জন্য চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে। খবর প্রেস টিভির।
শনিবার (৯ মে) রাতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইয়্যেদ মজিদ মুসাভি এক বিবৃতিতে এই হুঁশিয়ারি দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই বিবৃতিতে তিনি জানান, ইরানের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও ড্রোনগুলো এখন সরাসরি মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলোর ওপর তাক করা আছে। তিনি আরো স্পষ্ট করেন যে, পারস্য উপসাগরে মার্কিন উস্কানি আর সহ্য করবে না তেহরান।
প্রেস টিভির তথ্যমতে, ইরানি ট্যাঙ্কারের ওপর মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে আইআরজিসির সাম্প্রতিক জোরালো পদক্ষেপের পরই এই কঠোর সতর্কবাণী দেওয়া হলো। জাস্কের কাছে ইরানি জাহাজ ও ট্যাঙ্কারগুলোতে মার্কিন বাহিনী হামলা চালানোর পর, আইআরজিসির নৌবাহিনী জাহাজ-বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক ড্রোন ব্যবহার করে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে পাল্টা অভিযান চালায়।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ইরানি এই হামলায় শত্রু পক্ষের সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। মার্কিন জাহাজগুলো ওই এলাকা থেকে বিশৃঙ্খলভাবে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
ইরানি কর্মকর্তারা এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর বেপরোয়া কর্মকাণ্ডকে আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের জন্য এক বিপজ্জনক হুমকি হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন।
আইআরজিসি নেভি জোর দিয়ে বলেছে, কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের জন্য একমাত্র নিরাপদ ও অনুমোদিত করিডোর হলো সেগুলোই, যা ইরান দ্বারা নির্ধারিত। বিদেশি বাহিনীর পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের বিচ্যুতি বা শত্রুতামূলক পদক্ষেপের মোকাবিলা খুব কঠোর ও তাৎক্ষণিকভাবে করা হবে।
বর্তমানে পুরো আইআরজিসি বাহিনীকে ‘হাই অ্যালার্ট’ অবস্থায় রাখা হয়েছে। ইরানের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ রক্ষায় তারা যেকোনো সময় বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
ঢাকা/ফিরোজ
নারায়ণগঞ্জে বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৫ জন দগ্ধ