ঢাকা     শনিবার   ২০ জুন ২০২৬ ||  আষাঢ় ৬ ১৪৩৩ || ৪ মহররম ১৪৪৮ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

কর বাড়লে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যয়বহুল হবে, শঙ্কায় বারভিডা

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:০২, ২০ জুন ২০২৬  
কর বাড়লে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যয়বহুল হবে, শঙ্কায় বারভিডা

২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ওপর কর বৃদ্ধির ফলে বাজারে এসব গাড়ির দাম আরও বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)। সংগঠনটির দাবি, এতে মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার সুযোগ এবং ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে পুরো খাত।

শনিবার (২০ জুন) রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া অনুষ্ঠানে এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন বারভিডা সভাপতি আব্দুল হক।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ওপর কর ও শুল্কের চাপ বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে আমদানি ব্যয় বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত গাড়ির মূল্যও বৃদ্ধি পাবে। এতে একদিকে ক্রেতারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, অন্যদিকে বিক্রি কমে যাওয়ায় সরকারের রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

আব্দুল হক জানান, দেশে গাড়ির নিবন্ধনের সংখ্যা ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তার ভাষ্য, আগে যেখানে বছরে প্রায় ২১ হাজার গাড়ি নিবন্ধন হতো, বর্তমানে তা কমে প্রায় ৯ হাজার ৪০০-তে নেমে এসেছে। নতুন কর কাঠামো কার্যকর হলে আগামী অর্থবছরে এ সংখ্যা আরও কমে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, সিসি-ভিত্তিক শুল্ক কাঠামোর পরিবর্তনের কারণে অনেক ক্ষেত্রে নতুন গাড়ির তুলনায় রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দাম বেশি হয়ে যাচ্ছে। এতে বাজারে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তিও বাড়তে পারে।

প্রস্তাবিত বাজেটে বৈদ্যুতিক (ইভি) গাড়ির জন্য কিছু শুল্ক সুবিধা রাখা হলেও তা সাধারণ মানুষের জন্য খুব বেশি কার্যকর হবে না বলে মনে করেন বারভিডা সভাপতি। তিনি বলেন, ইভি গাড়ির দাম এখনও অধিকাংশ ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। একইভাবে বৈদ্যুতিক বাস আমদানিতে কর ছাড় দেওয়া হলেও উচ্চমূল্যের কারণে এর সুফল সাধারণ পরিবহন খাতে দ্রুত প্রতিফলিত হবে না।

আব্দুল হক আরও বলেন, দেশে চলাচলকারী ইলেকট্রিক রিকশাগুলোকে নিবন্ধন ও কর ব্যবস্থার আওতায় আনা হলে সরকার অতিরিক্ত রাজস্ব পেতে পারে। একইসঙ্গে এ খাতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তিনি প্লাগ-ইন হাইব্রিড ও রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড গাড়ির জন্য সমন্বিত ও বাস্তবসম্মত শুল্ক কাঠামো প্রণয়নের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বারভিডার পক্ষ থেকে প্রকাশিত লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সরকার বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার উৎসাহিত করতে আমদানিতে বিভিন্ন ধরনের শুল্ক ছাড় দিলেও দেশে এখনও পর্যাপ্ত চার্জিং অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। ফলে এ খাতের দ্রুত সম্প্রসারণে বাস্তব চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

সংগঠনটির মতে, জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব হাইব্রিড গাড়ির ব্যবহার এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দেশে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি হয়েছে। তাই টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বৈদ্যুতিক গাড়ির পাশাপাশি হাইব্রিড গাড়িকেও সমান নীতিগত সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।

বারভিডা নেতারা মনে করেন, বাস্তবমুখী কর ও শুল্কনীতি গ্রহণ করা হলে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।

ঢাকা/তুহিন//

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়