শিক্ষামন্ত্রীর সামনে প্রশাসনের ব্যঙ্গাত্মক সমালোচনা ছাত্র ইউনিয়নের
জাবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শিক্ষামন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন ব্যর্থতা, একাডেমিক স্থবিরতা এবং শিক্ষার্থীদের হয়রানির প্রতিবাদে ব্যতিক্রমী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাবি শাখার একাংশ। বিভিন্ন দাবিসংবলিত ও ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সামনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
শুক্রবার (১৯ জুন) শিক্ষামন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পরিদর্শনে এলে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের নেতাকর্মীরা এই কর্মসূচি পালন করেন।
উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন ব্যর্থতার দিকে ইঙ্গিত করে প্রশংসার আড়ালে তীব্র ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করছেন ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা ছিল—‘বৈশ্বিক র্যাংকিংয়ের ১৪০০-এর তালিকা থেকে বাদ পড়ায় উপাচার্যকে অভিনন্দন’, ‘ভবন নির্মাণ ইজ গোয়িং ওয়েল, গবেষণা ইজ নো মোর’, ‘একাডেমিক নিপীড়কদের ক্রমাগত দায়মুক্তি দেওয়ায় উপাচার্যকে অভিনন্দন’, ‘জুলাই বিপ্লবের নামে “আত্মশুদ্ধি” পাড়ায় অভিনন্দন (মিটিং অ্যালাউন্স ৪০ লাখ)’, ‘জুলাই প্রশংসার মাস্টারমাইন্ডদের অব্যাহতি দেওয়ায় উপাচার্যকে অভিনন্দন’ ইত্যাদি।
কর্মসূচি চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেন জাবি শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ইমন। শিক্ষার্থীদের নিত্যদিনের ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে সনদ উত্তোলন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের যে পরিমাণ হয়রানি ও অবিচারের শিকার হতে হয়, তাতে এটি কোনোভাবেই একটি বিশ্ববিদ্যালয় বলে মনে হবে না।”
নতুন প্রশাসনের প্রতি শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে ব্যবধানের কথা তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, “ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর নতুন উপাচার্য দায়িত্ব নিলেও একাডেমিক বা প্রশাসনিক কোনো ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে পারেননি। প্রশাসনের এই চরম ব্যর্থতার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিতেই আমরা আজকের এই কর্মসূচির আয়োজন করেছি।”
শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসনের টনক না নড়া পর্যন্ত আন্দোলন ও সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন ছাত্র ইউনিয়নের এই নেতা।
ঢাকা/আহসান/জান্নাত