জাবিতে মেডিকেল ও নার্সিং বিভাগ চালুর ইঙ্গিত শিক্ষামন্ত্রীর
জাবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) মেডিকেল সায়েন্স, হেলথ সায়েন্স ও নার্সিংয়ের মতো যুগোপযোগী বিভাগ চালুর ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। একইসঙ্গে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইনের আদলে জাবিকে আধুনিকায়ন করে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য একটি ‘পাইলট প্রজেক্ট’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে ৫৫ তম ব্যাচের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রবেশিকা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল পাস হয়েছে। ১৯৭৩ সালের আইন কিংবা বিগত সময়ে যেভাবে ৫৬টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, সেভাবে আর বিশ্ববিদ্যালয় করা হচ্ছে না। নতুন আইন ও নতুন ধারা নিয়ে আমরা একটি বিশ্ববিদ্যালয় করছি, যা বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য নতুন এক যাত্রার সূচনা করবে।”
জাবিকে নিয়ে নতুন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ড. মিলন বলেন, “আমি উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করছিলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আইনের আদলে কাজ করা যায় কি না। যেহেতু এটি শতভাগ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়, এখানে হেলথ সায়েন্স, নার্সিং এবং মেডিকেল সায়েন্স বিভাগ চালুর সুযোগ রয়েছে।”
উন্নত বিশ্বের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘ইউরোপ, আমেরিকা ও মালয়েশিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মেডিকেল কলেজ ও মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থাকে। আমরা বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই ধারণা যুক্ত করেছি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। তাই এটিকেও আধুনিকায়ন করে নতুন ধারার বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। আমরা যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা চাই।”
দেশের ৫৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ই একমাত্র শতভাগ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় উল্লেখ করে এর ভৌগোলিক গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, “ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে এটি দেশের কেন্দ্রীয় স্থানে অবস্থিত। উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব কিংবা পশ্চিম—যেদিক থেকেই বিবেচনা করা হোক না কেন, এই অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
শিক্ষার্থীদের শুধু বিসিএসকেন্দ্রিক না হয়ে উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “শুধু বিসিএস কর্মকর্তা তৈরির মাধ্যমে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারিত হয় না। সাংস্কৃতিক, সাহিত্য ও সৃজনশীল নানা ক্ষেত্রে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।”
এ সময় ফেডএক্সের (FedEx) মতো বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রকল্প ও উদ্যোক্তা হওয়ার দিকে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন শিক্ষামন্ত্রী।
ঢাকা/আহসান/জান্নাত