ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  ফাল্গুন ১১ ১৪৩২ || ৬ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

‘আব্বার কবর আমার বুকের জায়গার চেয়ে বড় না’

বিনোদন ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৪৩, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১১:৪৯, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
‘আব্বার কবর আমার বুকের জায়গার চেয়ে বড় না’

শাহনাজ খুশি

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাহনাজ খুশি। তার অভিনয়ে মুগ্ধ অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী। কেবল অভিনয় নয়, লেখার হাতও দারুণ। মাঝে মধ্যে শৈশব বা হারিয়ে ফেলা দিন নিয়ে কলম ধরেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। এবার বাবাকে নিয়ে আবেগঘন বার্তা দিলেন এই অভিনেত্রী।   

ব্যক্তিগত অনুভূতির এ বার্তার শুরুতে শাহনাজ খুশি বলেন, “আমরা আমাদের বাবাকে আব্বা বলতাম। আবেগের জায়গায় আমি বরাবরই স্টুপিড টাইপের। বর্তমান সময়ের আধুনিক মানুষগুলো যখন উৎসুক হয়ে সুগন্ধির ব্র্যান্ড পরীক্ষা করে, তখন আমি প্রিয় মানুষের গন্ধ খুঁজি। কখনো যে তা উৎকট হয় না তা নয়, তবুও। কারণ আমি আসলেই গ্রাম্য।”

আরো পড়ুন:

শাহনাজ খুশি তার বাবা-মাকে কখনো জড়িয়ে ধরেননি। এ কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমার ছেলেরা জোরে জাপটে ধরে আদর করে। দিনে শতবার আদর আর আবদার পাশাপাশি চলে। ইদানীং আমার খুব মনে হয়, আমি/আমরা কোনোদিন আব্বা-মাকে জড়িয়ে ধরিনি। চোখ সমান ভালোবাসার পাহাড় থাকার পরও ঈদের দিন আর প্রতি বছর ফাইনাল পরীক্ষার দিন পা ছুঁয়ে সালাম করা ছাড়া, আব্বাকে আর ছোঁয়া হয়নি!”

বাবার স্মৃতিচারণ করে শাহনাজ খুশি বলেন, “অথচ আব্বার তেল মেখে গোসল করা, ব্যাক ব্রাশ করা চুলের ভাঁজ, ইট চাপা দেয়া ঘাসের মতো স্বর্নমাখা হলুদ ফর্সা গায়ের রং, কোনো পারফিউম ছাড়াই আব্বা আব্বা একটা গন্ধ বুকের ভেতর কেমন যে উথাল-পাতাল করত। আমাদের বাড়িতে আব্বা মাকে জড়িয়ে ধরে ভালোবাসার ভার মুক্ত হবার নিয়ম ছিল না।”

অভিমানের কেটলিতে শাহনাজ খুশি তার অনুভূতি জমা করেছেন। তার ভাষায়, “সেই যে প্রকাশিত না হবার নিয়মটা নিজের অজান্তেই নিয়মিত হয়ে গেছে। সন্তান, ভালোবাসারজন কাউকেই সবটা ধরা/বলা হয় না। অনুভুতির সবটুকু একটা অভিমানের কেটলিতে ভরে অবিরাম ধোঁয়া তুলে জ্বাল দেই...!”

আফসোস নিয়ে শাহনাজ খুশি বলেন, “আব্বার কবরটা আমার বুকের জায়গার চেয়ে বড় না। প্রায় জায়গাটার প্রচন্ড তাপে, হাঁসফাঁস করে মরি, তবু কবরটা ছুঁয়ে নিয়ম ভেঙে বলা হয় না, আব্বা আমার কোনো কথাই বলা হয়নি। তেমনই কিছু অলিখিত নিষ্ঠুর অন্যায়গুলো ডিঙিয়ে, নিয়ম ভুলে কিছুতেই বলতে পারি না যে, এটা ভুল/ এ বড় অন‍্যায়! কারণ মানুষকে ছোট করে দেখতে শিখে বড় হইনি আমি! আমার আর কিছুই বলা হবে না কোনো দিন! চেয়ে চেয়ে দেখার কারাদণ্ড আমার আজন্মের...।”

ঢাকা/শান্ত

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়