ঢাকা     রোববার   ০৩ মার্চ ২০২৪ ||  ফাল্গুন ১৯ ১৪৩০

পূর্ববর্তী উম্মতের জন্য রোজা কেমন ছিল 

মাওলানা মুনীরুল ইসলাম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:১৪, ১২ এপ্রিল ২০২২   আপডেট: ১২:১৮, ১২ এপ্রিল ২০২২
পূর্ববর্তী উম্মতের জন্য রোজা কেমন ছিল 

রোজার ইতিহাস অনেক দীর্ঘ। আগেকার উম্মতরাও রোজা পালন করতেন এবং তাদের ওপরও রোজা ফরজ ছিল। এর প্রমাণ হলো, পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা পরহেজগার হতে পার।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৩)

‘তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর’ বলে বোঝানো হচ্ছে, প্রথম নবী হজরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত সব যুগের মানুষ তথা সব নবীর শরিয়তে রোজা পালনের বাধ্যবাধকতা ছিল নামাজের মতোই। হজরত আদম আলাইহিস সালামের যুগে প্রতি মাসে তিনটি রোজা রাখার বিধান ছিল। হজরত দাউদ আলাইহিস সালাম একদিন পর একদিন রোজা রাখতেন। (রুহুল মা’আনি, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া)

পবিত্র কুরআনে হজরত মারিয়াম আলাইহাস সালাম সম্পর্কে রয়েছে, ‘আপনি বলুন, আমি আল্লাহর জন্য রোজা পালন করছি, আজ আমি কারো সঙ্গে কথা বলব না।’ (সুরা মারিয়াম : আয়াত ২৬) 

তাফসিরে হক্কানিতে তাওরাত তথা বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্ট-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে যে, ইহুদিদের ওপর সপ্তম মাসের ১০ তারিখে কাফফারার রোজা রাখা ওয়াজিব ছিল। প্রাচীন খ্রিস্টানরাও সেই রোজা রাখতো বলে কথিত আছে। হজরত মুসা আলাইহিস সালাম তুর পর্বতে ৪০দিন রোজা রেখেছেন। হজরত দানিয়াল আলাইহিস সালাম একাধারে তিন সপ্তাহ রোজা পালন করেছেন।

আল্লামা ইবনে কাসির রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, দ্বিতীয় হিজরির শাবান মাসে বদর যুদ্ধের আগে রমজানের রোজা ফরজ করা হয়। বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা ইউসুফ বাননুরি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, দ্বিতীয় হিজরির ১০ শাবান রোজা ফরজ করা হয় এবং এই সনেই কেবলা পরিবর্তনসহ জাকাত-ফিতরার হুকুম অবতীর্ণ হয়।

প্রথম কোন রোজা ফরজ ছিল এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেন, ১০ মহররম তথা আশুরার রোজা ফরজ ছিল। আবার কারো কারো মতে ‘আইয়ামুল বিজ’ তথা প্রত্যেক চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের রোজা ফরজ ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনায় হিজরত করলেন তখন আইয়ামুল বীজ-এর রোজা রাখতেন। হিজরতের দ্বিতীয় বর্ষে উম্মতে মুহাম্মদির জন্য রোজা ফরজ করা হয়। এ সময় এ আয়াত নাজিল হয়- ‘রমজান মাস, এ মাসেই নাজিল করা হয়েছে কুরআনÑ যা মানুষের জন্য হেদায়েত, সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন এবং হক ও বাতিলের পার্থক্যকারী। অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, সে যেন এ মাসে রোজা পালন করে। তবে কেউ অসুস্থ হলে অথবা সফরে থাকলে এ সংখ্যা অন্য সময় পূরণ করবে। আল্লাহ চান তোমাদের জন্য যা সহজ তা, আর তিনি চান না তোমাদের জন্য যা কষ্টকর তা, যেন তোমরা সংখ্যা পূর্ণ করো এবং আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করো, তোমাদের সৎপথে পরিচালিত করার জন্য এবং তোমরা যেন শোকর করতে পার।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৫)। এ আয়াত নাজিলের পর আশুরার রোজা অথবা আইয়ামুল বিজ-এর রোজা পালনের ফরজ হুকুম বাতিল হয়ে যায়।

বিখ্যাত সাহাবি হজরত আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনা থেকে জানা যায়, আগে রোজা ছিল এক সন্ধ্যা থেকে আরেক সন্ধ্যা পর্যন্ত। রাতে ঘুমানোর পরে পানাহার ও জৈবিক চাহিদা পূরণ করা বৈধ ছিল না। দ্বিতীয় হিজরিতে রোজা ফরজ হওয়ার পর থেকে উম্মতে মুহাম্মদি দীর্ঘ এক মাসব্যাপী রোজা পালন করে আসছে।

লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরাম
 

/তারা/ 

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়