নবজীবন পল্লীতে ছিলো পি কে হালদারের বিলাসবহুল বাগানবাড়ি
ছবি: সংগৃহীত
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাবড়া অশোকনগর পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাছ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিল পি কে হালদারের সহযোগী সুকুমার মৃধা। শুক্রবার (১৩ মে) আর্থিক দুর্নীতির খোঁজে তল্লাশি চালাতে গিয়ে ভারতের ডিরেক্টরেট অব এনফোর্সমেন্টের (ইডি) অনুসন্ধানে উঠে আসে প্রকৃত রহস্য।
ইডি জানায়, পি কে হালদার অর্থাৎ প্রশান্ত কুমার হালদার এবং সুকুমার মৃধা প্রকৃতপক্ষে অশোকনগরের দীর্ঘদিনের প্রতিবেশী। এতেই ইডির কাছে প্রায় স্পষ্ট দু’জনের দীর্ঘদিনের যোগসাজশেই এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের এই বিপুল আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে।
ওই অঞ্চলে পি কে হালদারের নবজীবন পল্লীতে সুবিশাল বিলাসবহুল বাগানবাড়ি আছে। ঠিক তার পাশেই আছে সুকুমার মৃধার আরেক বিলাসবহুল বাগান বাড়ি। সুকুমার একজন মাছ ব্যবসায়ী হিসেবে সেখানে পরিচিত হলেও তার আর্থিক সঙ্গতি নিয়ে বারবার প্রশ্ন ছিল এলাকাবাসীর মধ্যে।
ইডি’র তদন্তে জানা যায়, শুধুমাত্র অশোকনগরে একাধিক সম্পত্তি কিনেছে পি কে এবং সুকুমার। এদিন অশোকনগরের ৩টি বাড়িতে একযোগে তল্লাশি শুরু করে ইডি। যার একটিতে থাকতেন সুকুমার মৃধার মেয়ে অনিন্দিতার জামাই। তাকে জেরা করেছে ইডি।
অন্যদিকে, অশোকনগরের বিলাসবহুল বাড়িতে পি কে হালদারের আত্মীয় প্রণব কুমার হালদার ও তার দুই ছেলে মিঠুন হালদার ও বিশ্বজিৎ হালদারকেও জেরা শুরু করেছে ইডি।
স্থানীয়রা জানতেন, প্রণব কুমার হালদার ছিলেন সরকারি কর্মচারী। তার বড় ছেলে একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত এবং ছোট ছেলে মিঠুন হালদার বিএসএফ জওয়ান হিসেবে কর্মরত। আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তির দিকে তারাও ছিল ইডির নজরে।
তাদের চারবিঘা জমির উপর বিলাসবহুল বাড়িটির কারণে এলাকাবাসীর মনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এনআরবি গ্লোবালের বেআইনি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে ঢুকেছে বলে ইডির অনুমান।
সূত্রের খবর, কলকাতা ছাড়াও দিল্লী, মুম্বাই এবং ভারতের অন্যান্য শহরেও পি কে এবং সুকুমার জুটির বিনিয়োগ আছে বলে অনুমান করছে ইডি। আপাতত পি কে এবং সুকুমার- দুই পরিবারকে জেরা করে সেই সম্পত্তির হদিস খুঁজছে ভারতের অর্থ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় এই সংস্থা।
এ ছাড়া, অশোকনগরের গণ্ডি ছাড়িয়ে কলকাতার ইএম বাইপাস সংলগ্ন এলাকা, কলকাতা সংলগ্ন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অভিজাত এলাকায় একাধিক বাড়ি ও অফিস রয়েছে এই যুগলের।
পড়ুন: ভারতে গ্রেপ্তার পি কে হালদার
কলকাতায় যেভাবে এই জুটির বেআইনি সম্পত্তির হদিস পেয়েছে ইডি- তাতে বলা যায়, এনআরবি গ্লোবাল কাণ্ডে পাচারের বড় টাকার হদিসই মিলছে। তবে এই সম্পত্তি ক্রয়ের টাকা কোন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে ফিরবে সেটি এখন দেখার বিষয়।
উল্লেখ্য, হাজার কোটি টাকা পাচারকারী প্রশান্ত কুমার ওরফে পি কে হালদারসহ ছয় জনকে ভারতে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা। শনিবার (১৪ মে) দুপুরে ভারতের ডিরেক্টরেট অব এনফোর্সমেন্ট (ইডি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ঢাকা/এনএইচ
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজয়ের শপথ রবিবার