উত্তরায় রিকশাচালককে হত্যার খবর ভিত্তিহীন গুজব: ডিএমপি
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর উত্তরার ‘উত্তরা স্কয়ার' শপিং মলে এক রিকশাচালককে মারধর, আটক ও হত্যার খবরটি ছিল ‘ভিত্তিহীন গুজব'। এই গুজবকে কাজে লাগিয়ে একদল দুর্বৃত্ত উত্তেজিত জনতাকে উসকানি দিয়ে লুটপাটের চেষ্টা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
সোমবার (১৬ মার্চ) উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও জনপথ রোডের ওই শপিং মলটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “মার্কেটে রিকশাচালককে আটক ও হত্যার দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও গুজব। এই গুজব ছড়িয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল জনতাকে উত্তেজিত করে লুটপাটের চেষ্টা চালিয়েছে। সহিংস এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা না হলেও পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে।”
নজরুল ইসলাম জানান, গতকাল রাতের সংঘর্ষ চলাকালে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে পুলিশের অন্তত ৬ জন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। বর্তমানে মার্কেটটি বন্ধ রয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১ কোটি টাকারও বেশি।
উত্তরা স্কয়ারের মালিক এবং মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান চৌধুরী জানান, ঘটনার সূত্রপাত হয় একজন রিকশাচালক ও মার্কেটের নিরাপত্তা প্রহরীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি থেকে।
তিনি বলেন, “এই ভাঙচুর ও লুটপাটে আমাদের প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা আজই এ বিষয়ে মামলা করব।”
মজিবুর রহমান চৌধুরী আরো অভিযোগ করেন, “ধস্তাধস্তির পর একটি পক্ষ আরো লোক জড়ো করে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। তারা ভবনটি ভাঙচুর করে এবং বেশ কয়েকটি দোকানে লুটপাট চালায়। পুলিশ এসে ৪-৫ জনকে আটক করার পরপরই গুজব ছড়ানো হয় যে মার্কেটের ভেতরে একজনকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী নিয়ে আমরা পুরো মার্কেটে তল্লাশি চালিয়েছি, কিন্তু হত্যার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।”
তিনি জানান, হামলাকারীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় শুরুতে পুলিশ তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (১৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মার্কেটের প্রহরীর সঙ্গে এক রিকশাচালকের ঝগড়া হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে বিপুলসংখ্যক রিকশাচালক জড়ো হয়ে রাস্তা অবরোধ করেন এবং মার্কেটে ভাঙচুর শুরু করেন। তাদের দাবি ছিল, ওই চালককে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছে।
শতাধিক রিকশাচালক শপিং মলটি ঘিরে ফেলে বিভিন্ন তলায় ভাঙচুর চালায় এবং বিচার চেয়ে স্লোগান দেয়। তারা বাইরে থেকে মার্কেটে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক দফা সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এ সময় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
উত্তরা পশ্চিম থানার পাশেই ঘটনাস্থল হওয়া সত্ত্বেও শুরুতে পুলিশের উপস্থিতি দেখা যায়নি বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। রাত আড়াইটা পর্যন্ত টিবিএস-এর পক্ষ থেকে উত্তরা জোনের সহকারী কমিশনার সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
তবে আজ ভোর ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মোহাম্মদ রফিক আহমেদ জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
সকালে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে এবং কিছু রিকশাচালককে সেখানে অবস্থান করতে দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা বর্তমানে তাদের ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করছেন।
ঢাকা/এমআর/এসবি