ঢাকা     শনিবার   ০২ জুলাই ২০২২ ||  আষাঢ় ১৮ ১৪২৯ ||  ০২ জিলহজ ১৪৪৩

র‌্যাবের পোশাক পড়ে টিকটক বানিয়ে প্রতারণা করতেন রাকিব

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৫৩, ১৬ নভেম্বর ২০২১  
র‌্যাবের পোশাক পড়ে টিকটক বানিয়ে প্রতারণা করতেন রাকিব

টিকটকে নিজেকে র‌্যাব সদস্য হিসেবে পরিচয় দিতেন গ্রেপ্তারকৃত রাকিব

রাজ ওরফে মো. আব্দুর রাকিব ওরফে খোকন। বগুড়ার একটি হোটেলের সিকিউরিটি গার্ডের (নিরাপত্তা কর্মী) চাকরি করেন তিনি। তবে এই চাকরির আড়ালে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক পরে টিকটক তৈরি করেন। আর তার টিকটকের ভিডিও বা ছবি দেখে কোন তরুণী কিংবা নারী আকৃষ্ট হলে তাদের বেছে বেছে দলে ভেড়ানোই শুধু নয়, তাদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে স্বর্ণ-গহনা থেকে শুরু করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করতেন তিনি। 

মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে কারওয়ানবাজার র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন কথাই জানান র‌্যাব কর্মকর্তারা।

এর আগে সোমবার (১৫ নভেম্বর) রাতে মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভুয়া পরিচয় দিয়ে টিকটক ব্যবহার করে প্রতারণা, নারীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, এবং অর্থ আত্মসাৎ-এর অভিযোগে রাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

এ সময় তার কাছ থেকে ৭ টি সীমকার্ড, মেমোরী কার্ড, র‌্যাবের ইউনিফর্ম ও স্কাপ, ভুয়া আইডি কার্ড, চেইনসহ বাঁশি, বুট ইত্যাদি উদ্ধার হয়। 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাকিব ভার্চুয়াল জগতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধে জড়িয়ে পড়ার কথা স্বীকার করেছেন।

র‌্যাবের মুখপাত্র আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, রাকিব দীর্ঘদিন যাবৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (টিকটক, ফেসবুক, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার) মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীতে তিনি কাজ করেন এমন পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। তিনি অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহার করে নারীদের প্রলুব্ধ ও প্রতারিত করে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন এবং পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায় করতেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ন্যায় চুল কাটাসহ পোষাক পরিচ্ছদ পরিধান করতেন রাকিব। 

তিনি বিভিন্ন বাহিনীর প্রচারমূলক ভিডিও সুবিধাজনকভাবে এডিট করে সেখানে নিজের অবস্থান দেখিয়ে প্রচার করতেন। একইভাবে ফটোশপ করে বিভিন্ন বাহিনীর কর্মকান্ডে তার উপস্থিতি প্রচার করতেন। এছাড়া বাহিনীর প্রাত্যাহিক জীবনের ভুয়া ভিডিও তৈরি করতেন রাকিব। 

আল মঈন জানান, রাকিব নিজেকে ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিতে অন্যের বাড়ি ও আমবাগানসমূহ নিজের বলে চালিয়ে দিতেন। এছাড়া বিভিন্ন ইমোশনাল ভিডিও তৈরি করতেন যাতে কেউ তাকে ঠকবাজ মনে না করেন সেজন্য।

রাকিব টিকটকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেকে বিজিবি’র একজন ল্যান্স নায়েক পদবীর সদস্য বলেও পরিচয় দিতেন। 

রাকিবের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাশ। তিনি আগে একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন বলে জানা যায়। বর্তমানে বগুড়ায় একটি আবাসিক হোটেলের সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি টিকটকের মাধ্যমে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে  ৪টি বিয়ে করেছেন। রাকিবের নামে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলাও রয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আল মঈন বলেন, সাম্প্রতি টিকটক ব্যবহারের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী দেশে নারীপাচার চক্রের মূল হোতা আশরাফুল মন্ডল ওরফে বস রাফি ও তার সহযোগী ম্যাডাম সাহিদা এবং টিকটক হৃদয় বাবুর অন্যতম সহযোগী অনিকসহ বেশ কয়েকটি পাচার চক্রের ৬৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। 
র‌্যাবের সাইবার ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে টিকটকসহ অন্যান্য সোস্যাল মিডিয়ায় প্রতারণা, মানবপাচার ও অন্য অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সচেষ্ট রয়েছে।

ঢাকা/মাকসুদ/ মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়