নৌপথে স্বস্তির ঈদযাত্রা, সন্তুষ্ট যাত্রীরা
রায়হান হোসেন || রাইজিংবিডি.কম
নৌপথে স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন যাত্রীরা। ছবি: রাইজিংবিডি
ঈদের ছুটির প্রথম দিনেই সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে। তবে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি, ভাড়ায় ছাড়ের কারণে নৌপথে স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন যাত্রীরা, সন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন অধিকাংশই।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘুরমুখো মানুষের ভিড়। লঞ্চের কর্মচারী থেকে শুরু করে প্রশাসনের সবাই ব্যস্ত সময় পার করছেন। ঈদযাত্রাকে নিরাপদ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বেশ তৎপর দেখা গিয়েছে। সদরঘাটে যাত্রীরা নির্দিষ্ট সময়েই লঞ্চে উঠতে পারছেন এবং লঞ্চগুলো পর্যাপ্ত যাত্রী নিয়ে নির্ধারিত সময়ে ঘাট ত্যাগ করছে।
বিনামূল্যে কুলি, ট্রলি ও হুইলচেয়ার সেবায় সন্তুষ্ট যাত্রীরা
সাধারণ সদরঘাট টার্মিনালে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় কুলি নিয়ে। কারণ ঈদযাত্রায় বেশিভাগ মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে বাড়ি যায়। সেক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে অনেক ব্যাগ থাকে। তখন কুলিদের সঙ্গে যাত্রীদের দরাদরির একটা ঝামেলা হয়। তবে এবার আর এই সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে না ঘরমুখো মানুষের। ঈদযাত্রাকে অধিকতর জনবান্ধব ও স্বস্তিদায়ক করতে সদরঘাটে চালু হয়েছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কুলি, ট্রলি ও হুইলচেয়ার সেবা। বিআইডব্লিউটিএ ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সমন্বিত এই উদ্যোগের ফলে বিশেষ করে প্রবীণ, শিশু ও শারীরিক প্রতিবন্ধী যাত্রীদের ভোগান্তি এক নিমেষেই দূর হয়েছে।
টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, ঘাটের প্রবেশপথেই সারিবদ্ধভাবে রাখা আছে আধুনিক ট্রলি ও হুইলচেয়ার। ভারি মালামাল নিয়ে আসা যাত্রীদের সহযোগিতায় হাসিমুখে এগিয়ে যাচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। আগে যেখানে ব্যাগ বহন করতে কুলিদের সঙ্গে চড়া দাম নিয়ে বাগবিতণ্ডায় জড়াতে হতো, সেখানে এখন বিনা খরচে এই আধুনিক সেবা পেয়ে রীতিমতো অবাক ও সন্তুষ্ট সাধারণ যাত্রীরা। প্রশাসনের এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সেবার এমন সহজলভ্যতা সদরঘাটের ঈদযাত্রায় যোগ করেছে এক নতুন মাত্রা, যা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের বাড়ি ফেরার আনন্দকে আরো বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভোলাগামী এমভি ঈগল পাখি লঞ্চের যাত্রী জাহানারা বেগম রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “অন্যান্য বারের তুলনায় এবারের সদরঘাটের চিত্র ভিন্ন। বয়স্কদের জন্য হুইল চেয়ারে ব্যবস্থা দেখলাম। কুলিরা বিনামূল্যে বড় ব্যাগ লঞ্চে উঠিয়ে দিচ্ছে। সরকারের এই উদ্যোগটা খুবই ভালো হয়েছে। আমরা আশা করব প্রতিবছর যেন এই ব্যবস্থাটা থাকে।”
বিনামূল্যে কুলি (প্রোটার), ট্রলি ও হুইলচেয়ার সেবার সম্পর্কে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর বন্দর পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন জানান, এ সরকারের সময়ে যাত্রীদের কল্যাণে কিছু উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের জন্য ফ্রি কুলি সেবা, ট্রলি ও হুইলচেয়ারসহ নানা সুবিধা চালু করা হচ্ছে। ঈদের আগে পাঁচ দিন এবং ঈদের পরে পাঁচ দিন মোট ১০ দিনের জন্য ফ্রি কুলি সেবা দেওয়া হবে। এসব কুলিদের বিআইডব্লিউটিএ নিজস্বভাবে মজুরি দিয়ে নিয়োগ দিয়েছে, যেন যাত্রীরা কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন এবং অসুস্থ, অক্ষম ও বয়স্ক যাত্রীদের জন্য হুইলচেয়ারের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে সীমিত সংখ্যক হুইলচেয়ার ছিল, এবার সদরঘাটের ২০টি গেট এলাকায় মোট ৪০টি হুইলচেয়ার রাখা হয়েছে। এসব ব্যবহারে সহায়তা করবেন ক্যাডেট সদস্যরা।
সদরঘাটের চাপ কমাতে বছিলা ও শিমুলিয়া ট্যুরিস্ট ঘাট থেকে লঞ্চ সার্ভিস চালু
ঈদযাত্রায় সদরঘাটে ঘরমুখো যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) রাজধানীর বছিলা ব্রিজ সংলগ্ন লঞ্চঘাট এবং পূর্বাচল কাঞ্চন ব্রিজ সংলগ্ন শিমুলিয়া ট্যুরিস্ট ঘাট থেকে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চালু করেছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বছিলা ঘাট থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের ছয়টি লঞ্চ ছেড়ে যাচ্ছে। বছিলা লঞ্চঘাট থেকে প্রতিদিন সকাল ৭টায় হাকিমুদ্দিনগামী এমভি টিপু, সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে শরীয়তপুরগামী এমভি ইমাম হাসান-৫, বেলা ১১টায় চাঁদপুরগামী এমভি ঈগল-৪, দুপুর ১২টায় ইলিশাগামী এমভি টিপু-৬, দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে গলাচিপাগামী এমভি বোগদাদীয়া-১২ ও শরিয়তপুর-৩ এবং বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে ইলিশাগামী এমভি ইয়াদ-১ ছেড়ে যাবে।
শিমুলিয়া ট্যুরিস্ট ঘাট থেকে প্রতিদিন তিনটি লঞ্চ বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রীদের নিয়ে চলাচল করছে। এ ঘাট থেকে সকাল ৮টায় চাঁদপুরগামী সমতা অ্যান্ড সমৃদ্ধি এক্সপ্রেস, সকাল ৯টায় চাঁদপুরগামী সমতা সমৃদ্ধি-১ এবং সকাল ৮টায় বরিশালগামী এমভি রাজারহাট বি লঞ্চ ছেড়ে যাবে। একই লঞ্চটি বরিশাল থেকে সন্ধ্যা ৭টায় শিমুলিয়ার উদ্দেশে ফিরতি যাত্রা করবে। যাত্রী চাপ বাড়লে লঞ্চের সংখ্যা আরো বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গতকাল সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে বছিলার নতুন লঞ্চঘাট উদ্বোধন করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজীব আহসান। এসময় তিনি বলেন, “মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, সাভার ও গাবতলীসহ আশপাশের এলাকার নৌযাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভিসহ সার্বক্ষণিক নজরদারি
এবারের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কথা বলা হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। গোটা টার্মিনাল এলাকাকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এনে স্থাপন করা হয়েছে বিশেষ কন্ট্রোল রুম। যেখানে বসে প্রশিক্ষিত কর্মীরা সেকেন্ডে সেকেন্ডে মনিটর করছেন প্রতিটি মুভমেন্ট। কেবল ক্যামেরা নয়, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি ডিজিটাল এই তদারকি সাধারণ যাত্রীদের মনে এনে দিয়েছে স্বস্তির নিঃশ্বাস। লঞ্চের সিরিয়াল থেকে শুরু করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় সবই প্রশাসন কঠোর নজরদারির করছে।
সদরঘাটের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে বয়স্কদের জন্য হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ছবি: রাইজিংবিডি
সদরঘাটের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্নে জন্য পুলিশের নিরাপত্তা বুথ স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে দায়িত্বরত ঢাকা জোনের সহকারী পুলিশ সুপার সাঈদ ইবনে রেজা রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে বলা আছে এবারের ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। তাই এবার আমারা সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারি করছি এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আছে। তাদের সঙ্গে আমাদের টিম কাজ করছে। কোনো ধরনের অনিয়ম ও অভিযোগ পেলে সাথে সাথে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত মানুষ নিরাপদে বাড়ি ফিরছেন।”
বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ নেই, ১০ শতাংশ ছাড় দেওয়ায় ঘোষণা লঞ্চ মালিকদের
সাধারণত ঈদ আসলেই বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ শোনা যায়। সদরঘাট টার্মিনালে তদারকি জোরদার করায় ভাড়ার অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বরং ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের উৎসাহিত করতে সরকারের অনুরোধে নির্ধারিত ভাড়ার ওপর ১০ শতাংশ ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছেন লঞ্চ মালিকরা।
বরিশালগামী পারাবত লঞ্চের যাত্রী ইউসুফ বেপারি বলেন, “আসলে বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না! ঈদের সময় যেখানে সবকিছুর দাম বাড়ে, বাস বা ট্রেনের টিকিটের জন্য হাহাকার করতে হয়, সেখানে লঞ্চে এসে ১০ শতাংশ ছাড় পাব। এটা তো আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি ঈদ বোনাসের মতো। প্রতি বছর সদরঘাটে এসে ভাড়া নিয়ে দরাদরি আর বাড়তি টাকা দেওয়ার টেনশন থাকত। কিন্তু এবার দেখলাম উল্টো চিত্র। আমার পরিবারের চারটা টিকিটে প্রায় ৪৫০ টাকার মতো বেঁচে গেল। এই সাশ্রয় হওয়া টাকা দিয়ে অন্তত বাচ্চাদের জন্য বাড়তি কিছু ফল বা সেমাই কেনা যাবে। লঞ্চ মালিকদের এই উদ্যোগটা সত্যিই প্রশংসনীয়। এটা প্রতিবছর বজায় থাকলে সাধারণ মানুষের বাড়ি ফেরা অনেক সহজ হবে।”
এবিষয়ে এমভি পারাবত লঞ্চের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশিক ভূঁইয়া রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “ঈদযাত্রা নির্বিঘ্নে করার জন্য আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। সরকারের অনুরোধে আমরা ঈদের সাত দিনের জন্য বিশেষ ছাড় দিয়েছি। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার থেকে আমরা কম নিচ্ছি। তবে এখনো কিছু জ্বালানি সংকট রয়েছে। আশা করি, সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জ্বালানি সমস্যার সমাধান করবে। তা নাহলে সামনের দিনগুলোতে যাত্রা বিলম্ব বা বাতিল হওয়ায় আশঙ্কা থাকবে।”
জ্বালানি সংকটে সার্ভিস বিঘ্নের আশঙ্কা লঞ্চ মালিকদের
জ্বালানি তেলের জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট দেখা দিলে লঞ্চ চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে মনে করছেন লঞ্চ মালিকরা। এই সময়ে যদি পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ না পেলে কিছু রুটে লঞ্চ চলাচল কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে দাবি লঞ্চ মালিকদের।
জ্বালানি তেলের বিষয়ে জানতে চাইলে এমভি আল ওয়ালিদ ৪ লঞ্চের ম্যানেজার মিজানুর রহমান বলেন, “এখন পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক আছে। কিন্তু সামনে যে কয়দিন আছে সে কয়দিন জ্বালানি তেল পাব কিনা সেটা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। আশা করি, সরকার ঈদ যাত্রা বিবেচনা করে বিশেষ করে লঞ্চের জন্য জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখবে।”
জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নৌযান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার পরিচালক ওয়াহিদুর রহমান লিটন বরেন, “গতকাল আমাদের যেসব ট্যাংকার জ্বালানির ডিপোতে তেল নিতে গেছে, সেগুলো তাদের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ পাচ্ছে না। কোথাও ৪০ শতাংশ কোথাও ৩০, আবার কোথাও ৫০ শতাংশের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। আমার মোট চাহিদা প্রায় ৩ লাখ লিটার। এ অবস্থায় যদি সদরঘাটে আমি মাত্র ১ লাখ লিটার তেল পাই, তাহলে বাকি ২ লাখ লিটার কীভাবে সংগ্রহ করা হবে সেটি বড় প্রশ্ন। এর ফলে তেলের সংকট দেখা দিতে পারে এবং লঞ্চ সার্ভিসে রাখা নিয়ে আশঙ্কা রয়ে যায়।”
এ বিষয়ে গতকাল সোমবার (১৬ মার্চ) সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, “দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই এবং দাম বাড়ানোরও কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। গত রাত থেকেই দেশের সব পেট্রোল পাম্পে পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, তাই সাধারণ মানুষের উদ্বিগ্নের কোনো কারণ নেই।”
মন্ত্রী আরো বলেন, “নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে এক টাকাও বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। যদি কেউ বেশি ভাড়া আদায় করে, তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মালিক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অনেক জায়গায় নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম ভাড়া নেওয়া হচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়ার কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।”
ঢাকা/আরএইচ/ইভা