ঢাকা     বুধবার   ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  ফাল্গুন ১৩ ১৪৩২ || ৮ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করে গ্রেপ্তারের দাবি নাহিদের

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৩২, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  
রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করে গ্রেপ্তারের দাবি নাহিদের

বুধবার রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের শহীদদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।

নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতি অভিশংসন করে তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের শহীদদের কবর জিয়ারত শেষে তিনি এই দাবি জানান। 

আরো পড়ুন:

তিনি বলেন, “চব্বিশের জুলাইয়ে গণহত্যা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন। এজন্য তিনি গণহত্যার দায় এড়াতে পারেন না। সংসদের প্রথম অধিবেশনে তাকে অভিসংশন করতে হবে। এরপর গণহত্যার দায়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে।”

নাহিদ বলেন, “আমরা মনে করি সংসদে প্রথম যে অধিবেশন হবে, সে অধিবেশনে সবচেয়ে প্রথম কাজটি হবে এই ফ্যাসিস্ট সময়ের রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া। নতুন জাতীয় সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দল সবাই মিলে এই কাজটি করবে, কারণ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের জাতীয় ঐক্য রয়েছে।”

রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করে নাহিদ বলেন, “রাষ্ট্রপতি বলতে আমরা যেটা বুঝি রাষ্ট্রের অভিভাবক, যে সম্মান ও ভাবমূর্তিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব প্রয়োজন; তার কোনোটাই সাহাবুদ্দিনের নেই। বরং নানা অপরাধে তিনি অভিযুক্ত। ফলে এখন সময় এসেছে, তাকে অভিশংসন করে সরানো এবং তার বিরুদ্ধে মামলা করে তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা। এটা আমরা মনে করি এই নতুন সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।”

তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই জনগণের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের দাবি ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে আসতে না পারায় তা সম্ভব হয়নি। সেই সময় রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও সাংবিধানিক শূন্যতার কথা বলে রাষ্ট্রপতিকে রেখে দেওয়া হয়েছে। এখন নতুন সরকার এসেছে, নতুন সংসদ তৈরি হয়েছে। আমরা মনে করি রাষ্ট্রপতির এখন চলে যাওয়াটা কেবলই সময়ের ব্যাপার।”

ত্রয়োদশ  জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে সারা দেশে জেলা-উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার খবর রয়েছে। এ নিয়ে সরকারও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, “আমরা আইনের শাসন চাই, এটা খুবই স্পষ্ট কথা। যদি সরকারের পক্ষ থেকে আইনের শাসনের ব্যত্যয় ঘটে এবং প্রশাসন আইনগতভাবে নিষিদ্ধ দলটিকে অফিস খোলা বা কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ করে দেয়, তাহলে জনগণের পক্ষ থেকে আমাদের প্রতিরোধের ডাক দিতে হবে। আমরা অপেক্ষা করছি, সরকার কি আইনের শাসনের পক্ষে যাবে নাকি আরো একটি গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়?”

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, “এই নতুন সরকারের সাথে আওয়ামী লীগের কোনো গোপন চুক্তি হয়েছে কি না, এটা আমরা জানি না। কিন্তু কার্যক্রমে এটাই মনে হচ্ছে, ইলেকশনে ভোটের চুক্তি হোক আর যেকোনোভাবেই হোক কিছু একটা হয়েছে। কারণ প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া এই কার্যক্রম সম্ভব নয়।”

এনসিপির আহ্বায়ক আরো বলেন, “রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নেতিবাচক বক্তব্য দিয়েছেন এবং তিনি যে ধরনের সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তা শপথ লঙ্ঘনের শামিল। কোনোভাবেই এই রাষ্ট্রপতি আর এই পদে থাকার যোগ্য নন।”

ঢাকা/রায়হান/রাসেল 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়