পয়লা বৈশাখের রাতে পান্তা খেতাম: অপু বিশ্বাস
রেজওয়ান রোহান || রাইজিংবিডি.কম
ঢালিউড কুইন অপু বিশ্বাস। দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে অসংখ্য ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন। তার রূপ-সৌন্দর্য ও অভিনয় গুনে ভক্ত-অনুরাগীদের মুঠো মুঠো ভালোবাসা কুড়িয়েছেন। পয়লা বৈশাখ বা নববর্ষ উপলক্ষে রাইজিংবিডির মুখোমুখি হয়েছেন অপু বিশ্বাস। এ আলাপচারিতায় শৈশব-কৈশোরের বৈশাখ নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন তিনি। এই কথোপকথনের চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো—
রাইজিংবিডি: আপনি বেড়ে উঠেছেন বগুড়ায়। পয়লা বৈশাখ নিয়ে আপনার কোনো স্মৃতি জানতে চাই।
অপু বিশ্বাস: পয়লা বৈশাখ নিয়ে সবসময় আমাদের মাঝে অন্যরকম উন্মাদনা কাজ করত। কারণটা হচ্ছে—পয়লা বৈশাখ মানে নতুন জামা পরতেই হবে। অনুভূতিটা এমন ছিল যে, পয়লা বৈশাখে যদি নতুন জামা-কাপড় না পরি তাহলে হয়তো সারা বছর নতুন জামা-কাপড় পরতে পারব না। মা প্রচুর রান্না করত। মাংস, পোলাও, মাছ ভাজা আরো অনেক কিছু। এখন তো প্রতিনিয়ত খাওয়া হয়। কিন্তু তখন বিশেষ দিনগুলোতে খাওয়া হতো। অনেক খেতে পারব, কোনো সীমাবদ্ধতা থাকবে না। পোলাও, মাংস, ইলিশ মাছ ভাজা এগুলো মা রান্না করতেন। যদিও পয়লা বৈশাখের ট্রেন্ড পান্তা ভাত, ইলিশ, ভর্তা। আমাদের বাসায় দুপুরবেলায় পোলাও-মাংস, ইলিশ মাছ ভাজা, চিংড়ি মাছ ভূনা থাকত। আর রাতেরবেলায় পান্তাটা করা হতো। কিছুটা বড় হওয়ার পর ভাবতাম, রাতে কেন মা পান্তা করে? পান্তা ভাত রাতে করার কারণ হলো—ঘুমটা নাকি রাতে ভালো হয়, যার জন্য রাতে পান্তা করত।
রাইজিংবিডি: পয়লা বৈশাখে কাদের সঙ্গে ঘুরতে যেতেন?
অপু বিশ্বাস: বৈশাখে বগুড়াতে সবচেয়ে বড় একটি মেলা হতো। দাড়িদহ নামে একটা জায়গা আছে, ওখানে মেলাটি হতো। এ মেলায় অনেক কিছু পাওয়া যেত। বিশেষ করে নাগর দোলা, মিষ্টি জাতীয় হাতি-ঘোড়া পাওয়া যেত। মেলায় গিয়ে খেলনা গাড়ি নেওয়া হতো। আসলে এগুলো কেনার একটা আগ্রহ ছিল। বৈশাখের দিন খাওয়া-দাওয়া শেষে বিকালবেলায় মা-কাকিরা একটু বিশ্রাম নিতে চাইতেন বা টিভি খুলে বসতে চাইতেন। কিন্তু আমি তাদের সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে বের হতাম। আসলে বৈশাখে বাবা-মা, বোন, পরিবারের সকলের সঙ্গে ঘুরে বেড়াতাম।
রাইজিংবিডি: মেলায় গিয়ে এমন কোনো আবদার করেছিলেন, যা বাবা-মা পূরণ করেননি?
অপু বিশ্বাস: না, এরকম কখনো হয়নি, কারণ তারাও জানতো এই জিনিসপত্রের মাঝে আমি সীমাবদ্ধ। তবে পয়লা বৈশাখে স্পেশাল যে সকল মেলা হতো, সেগুলো শুধু পয়লা বৈশাখের দিনেই হতো। মেলায় রিং ফেলে চকলেট, খেলনাসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিস পাওয়া যেত। মাকে বলতাম, ‘আমার এটা খেলা লাগবে।’ রিং ফেলে খুব আনন্দ পেতাম। কারণ রিং ফেলে আমাকে মাথার কোনো ক্লিপ, চকলেট বা কিছু একটা জেতা লাগবে, না হলে আমার মন খারাপ হয়ে যাবে।
রাইজিংবিডি: অপু বিশ্বাস কী কখনো মেলায় গিয়ে হারিয়ে গিয়েছিলেন?
অপু বিশ্বাস: না, এটা হয়তো সিনেমায় হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কখনো হয়নি। কারণ আমরা অনেকেই একসঙ্গে যেতাম। আর মেলাও বাসার আশেপাশে ছিল, যার কারণে একদমই এমনটা হয়নি। অনেক সময় এমন হতো দোকানদারাও তো আমাদের পরিচিত, আমাদের খুবই কাছের মানুষ। দোকানিদের অধিকাংশ হিন্দু ধর্মের অনুসারী ছিলেন, তারা খই, মুড়ি মুড়কি বিক্রি করতেন। তাই এরকম ঘটনা কখনো ঘটেনি।
রাইজিংবিডি: কিশোরী অপু বিশ্বাস কখনো পয়লা বৈশাখে বয়ফ্রেন্ড বা বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে যেতেন কি না?
অপু বিশ্বাস: সত্যি আমার জীবনের একমাত্র গল্পটাই আসলে স্কিপ হয়ে যায়, সেটা হচ্ছে বয়ফ্রেন্ডের জায়গাটা। আমার বান্ধবীরা অনেক প্রেম করত, আমি তাদের সাহায্য করতাম। কিন্তু আমার জীবনে আসলে প্রেমটা হয়নি। আমার জীবনের প্রেমটা শুরুতেই শেষ হয়ে গেছে, মানে বিয়ে হয়ে গেছে। সে জায়গা থেকে আসলে আমার কোনো প্রেম করা হয়নি, আর পয়লা বৈশাখে মা আমাকে কখনো একা বের হতে দিতেন না। ঈদের সময়ে বান্ধবীদের সঙ্গে তাদের বাসায় সালামির জন্য যেতাম। কিন্তু পয়লা বৈশাখে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বের হতাম। আমার জীবনে প্রেম বিষয়টা কখনো টানেনি। আমি সবসময় বড় হতে চেয়েছি, নিজ পায়ে দাঁড়াতে চেয়েছি। এইট-নাইনে পড়ার সময়ে চলচ্চিত্র জগতে চলে আসি আর বিয়েও হয়ে যায়, এজন্য প্রেম হয়ে ওঠেনি।
রাইজিংবিডি: পয়লা বৈশাখে প্রথম দর্শনে কারো কাছ থেকে প্রেমের প্রস্তাব পেয়েছিলেন?
অপু বিশ্বাস: হতে পারে তবে আমার অব্দি পৌঁছায়নি। কারণ আমার বাবা-মা, মামা বা পরিবারের সদস্যরা কোথাও ঘুরতে গেলে সারিবদ্ধভাবে যেতাম, আবার সারিবদ্ধভাবে বাসায় চলে আসতাম। কিন্তু আমার মনে হয়, খুব কঠোর একটা বাউন্ডারির মধ্যে পরিবার আমাকে বড় করেছে। এইগুলোর কারণে প্রেম করা বা প্রেমের প্রস্তাব পাওয়া কোনোটাই আমার জীবনে আসেনি।
ঢাকা/শান্ত