ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১ ১৪৩৩ || ২৫ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় আলোচনার কথা ভাবছেন মার্কিন কর্মকর্তারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:০৭, ১৪ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ০৯:১১, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় আলোচনার কথা ভাবছেন মার্কিন কর্মকর্তারা

ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় সরাসরি আলোচনার কথা ভাবছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। সূত্রের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।

শনিবার পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়। তবে এই আলোচনা উভয়পক্ষের মধ্যে কোনো অগ্রগতি আনতে ব্যর্থ হয়েছে।

আরো পড়ুন:

সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শিগগিরই সশরীরে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে আগ্রহী, যদি তিনি মনে করেন যে তেহরান তার দাবি মেনে নিতে প্রস্তুত।

আলোচনার সাথে পরিচিত একটি সূত্র সিএনএন-কে জানিয়েছে, ২১ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ট্রাম্পের কর্মকর্তারা ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে একটি সম্ভাব্য দ্বিতীয় বৈঠকের বিস্তারিত বিষয় নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা করছেন। তবে এই ধরনের বৈঠক আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কিনা তা স্পষ্ট নয়।

সূত্রটি জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে ইরান এবং এই অঞ্চলের মধ্যস্থতাকারীদের সাথে চলমান আলোচনা অগ্রসর হলে কর্মকর্তারা সম্ভাব্য তারিখ এবং স্থান বিবেচনা করছেন। সূত্রটি এই আলোচনাকে প্রাথমিক বলে বর্ণনা করেছে। সূত্রটি বলেছে, ‘পরিস্থিতি যদি সেই দিকে এগোয়, তবে আমাদের দ্রুত কিছু একটা ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু দাবি ইরান প্রত্যাখ্যানের পরিপ্রেক্ষিতে, তেহরান শিগগিরই ট্রাম্পের শর্ত মেনে নেবে কিনা তা স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্র সোমবার সকালে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ শুরু করেছে। উভয় পক্ষই ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করার প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশের জন্য পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করতে পারেনি বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

হরমুজ প্রণালি এখনো কার্যত বন্ধ থাকায়, ইরান মনে করে যে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তাদের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে, যা এই সপ্তাহান্তে ইসলামাবাদে আলোচকদের কাছে স্পষ্ট ছিল।

ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। ভ্যান্সের মতে, কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধের পর ইরান মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং তাদের সমস্ত দাবি মেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে এই অবরোধ আরেকটি চাপ প্রয়োগের কৌশল-যার উদ্দেশ্য হলো ইরানকে আরো আপোষমূলকভাবে আলোচনায় ফিরতে বাধ্য করা।

ট্রাম্প সোমবার বলেছিলেন, তার প্রশাসনকে ফোন করেছিল ইরান এবং তারা ‘একটি চুক্তি করার ব্যাপারে খুবই আগ্রহী।’ তবে  তিনি নির্দিষ্ট করে বলেননি কে ফোন করেছিল বা ওয়াশিংটনে কে ফোনটি ধরেছিল। এর ঠিক একদিন আগেই ট্রাম্প বলেছিলেন যে, চুক্তি হলো কি না, তা নিয়ে তিনি পরোয়া করেন না।

হরমজু প্রণালিতে অবরোধ পরিস্থিতিটিতে নতুন অনিশ্চয়তাও সৃষ্টি করেছে। উদাহরণস্বরূপ, এটি কার্যকর করতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে কতটা যেতে ইচ্ছুক এবং আগামী দিন ও সপ্তাহগুলোতে ইরান কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

আলোচনার সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, প্রশাসনের কর্মকর্তারা একটি কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। আগামী দিনগুলোতে আলোচনার গতির ওপর নির্ভর করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আরও সময় দেওয়ার জন্য যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়াতে পারে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টায় অগ্রগতি হচ্ছে।”

ঢাকা/শাহেদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়