বৈশাখী শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন হাস্যকর: আবুল হায়াত
পয়লা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ—এই দিনকে কেন্দ্র করে বাঙালিরা আলাদা উৎসবের আয়োজন করে থাকে। সারা দেশের পাশাপাশি রাজধানী নানা রঙে সেজে উঠে, সাজ আর আনন্দ উৎসবে মেতে উঠেন সাধারণ মানুষও। নববর্ষের দিনে প্রতিবছর যে শোভাযাত্রা হয়, তার নাম পরিবর্তন নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে নানা চর্চা চলছে। পয়লা বৈশাখের নানা বিষয় নিয়ে কথা হয় বরেণ্য অভিনেতা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আবুল হায়াতের সঙ্গে। এ আলাপচারিতার চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো—
রাইজিংবিডি: সংস্কৃতির অংশ হিসেবে পয়লা বৈশাখ উদযাপনকে আপনি কীভাবে দেখেন?
আবুল হায়াত: এটাকে আমি একটি আনন্দ উৎসব হিসেবেই দেখি, এর বেশি কিছু না। এটি একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সামাজিক অনুষ্ঠান। এই জায়গাগুলো পরিষ্কারভাবে চিন্তা করা উচিত। বাঙালির একটা সংস্কৃতি আছে, নিজস্ব বছর তৈরি হয়েছে, সুতরাং এটা উদযাপন করা উচিত।
রাইজিংবিডি: পয়লা বৈশাখের শোভাযাত্রাকে আশির দশকে নামকরণ করা হয় ‘শোভাযাত্রা’, পরে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তা বদলে রাখা হয় ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’, চলতি বছরে তা বদলে রাখা হয়েছে—‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। বৈশাখী শোভাযাত্রার এই নাম বদলকে কীভাবে দেখছেন?
আবুল হায়াত: এটা হাস্যকর ব্যাপার, আর কিছুই না। নাম বদলে কী হবে? অনুষ্ঠান তো আমরা করবই। বাঙালিরা করবেই। বাঙালিরা আনন্দ উৎসব করবেই। নাম বদল করে কার কী লাভ হয়, তা আমি জানি না।
রাইজিংবিডি: সত্তর ও আশির দশকে পয়লা বৈশাখ কীভাবে উদযাপন করতেন?
আবুল হায়াত: এই মুহূর্তে সেই সময়ের স্মৃতিগুলো মনে পড়ছে না। তবে এভাবেই উদযাপন করা হতো। যদিও এই শোভাযাত্রা কখন থেকে শুরু হয়েছে তা ঠিকভাবে আমার মনেও নেই। যখন থেকে শুরু হয়েছিল, তখন আমাদেরও হয়তো অংশগ্রহণ ছিল। সেটা ধীরে ধীরে বড় হয়েছে। একটা সময়ে ছায়ানটের অনুষ্ঠান শুরু হলো; এটাও তো আগে ছিল না। এটা যখন শুরু হলো, তখন এটাতেও মানুষের অংশগ্রহণ বাড়তে লাগল। তবে সত্তর-আশির দশকের স্মৃতি খুব একটা মনে পড়ে না।
রাইজিংবিডি: তখন শোভাযাত্রা বা মঙ্গল শোভাযাত্রা করতে গিয়ে কী সামাজিক বা ধর্মীয় বাধার মুখে পড়েছেন?
আবুল হায়াত: বাধা-বিঘ্নতা ওই সময়ে ছিল না। এখন বিভিন্নরকম কথা-বার্তা বলতে শুনি। নাম নিয়ে, নানা কিছু দেখি। সেই সময়ে এসব দেখিনি। আমার তো ওরকম কিছু মনে পড়ে না। এখন মঙ্গল শোভাযাত্রা কেন হলো, শোভাযাত্রা কেন হলো বা কী যাত্রা হলো, সেটা নিয়ে মানুষ মাথা ঘামায়।
রাইজিংবিডি: সত্তর ও আশির দশকের পয়লা বৈশাখ উদযাপন ও বর্তমান সময়ের উদযাপনে কতটা পার্থক্য দেখছেন?
আবুল হায়াত: এই পার্থক্য ব্যাখ্যা করা এখন আমার জন্য কঠিন। শুরুতে বলেছি, আমার ঠিক স্মৃতিতে নেই। তবে প্রত্যেকটি জিনিস তো পরিবর্তন হয়। পরিবর্তন বলতে জিনিসটিকে ইম্প্রুভ করা হয়। এজন্য মানুষ পরিবর্তনও করে। তবে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, কেন এটা করব—এসবই চলছে! কিন্তু পয়লা বৈশাখ তো একটি আনন্দ উৎসব!
ঢাকা/শান্ত