ঢাকা     শনিবার   ৩০ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৬ ১৪৩৩ || ১৪ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

লাওসের সেই গুহা থেকে ১০ দিন পর আরো চারজন উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:২১, ৩০ মে ২০২৬   আপডেট: ১৯:২৪, ৩০ মে ২০২৬
লাওসের সেই গুহা থেকে ১০ দিন পর আরো চারজন উদ্ধার

গুহার সামনে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা

লাওসের একটি প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলের গুহায় বন্যার পানিতে টানা ১০ দিন আটকে থাকার পর আজ শনিবার (৩০ মে) আরো চার ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। 

লাওস ও থাইল্যান্ডের উদ্ধারকারী দল এই তথ্য জানিয়েছে। এর আগের দিন অন্য আরেকজনকে উদ্ধার করার পর এই সাফল্য এলো। তবে এখনও দুজন নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। খবর বিবিসির। 

আরো পড়ুন:

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২০ মে লাওসের জাইসোম্বুন প্রদেশের একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সংকীর্ণ গুহায় সোনার খোঁজে প্রবেশ করেছিলেন স্থানীয় সাত গ্রামবাসী। কিন্তু আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের কারণে গুহার ভেতর পানি ঢুকে পড়ায় তারা ভেতরেই আটকা পড়েন। 

গত বুধবার (২৭ মে) উদ্ধারকারীরা তাদের মধ্যে মাত্র পাঁচজনকে জীবিত খুঁজে পান। বাকি দুজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

উদ্ধারকারীরা জানান, ভূগর্ভের গভীরে বিস্তৃত এই গুহাটি খুবই সরু ও জটিল। এর কিছু কিছু চেম্বার মাত্র ৫০ সেন্টিমিটার (২০ ইঞ্চি) চওড়া। 

‘থাইল্যান্ড রেসকিউ ডাইভার’-এর ফেসবুক পেজের একটি পোস্ট অনুযায়ী, আজ শনিবার স্থানীয় সময় বেলা ৩টা ১০ মিনিটে এই চারজনকে সফলভাবে বাইরে বের করে আনা সম্ভব হয়।

তবে ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় তাদের নিরাপদে বের করা হয়েছে, তা এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চার ব্যক্তি গুহা থেকে বের হওয়ার পর উদ্ধারকর্মী ও উপস্থিত উৎসুক জনতার মাঝে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের একজন হাসিমুখে অস্থায়ী মেডিকেল তাঁবুর দিকে যাচ্ছিলেন, আর বাকি তিনজন উদ্ধারকারীদের জড়িয়ে ধরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

পরবর্তীতে ওই চারজনকে স্ট্রেচারে শুইয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিতে দেখা যায়।

এই উদ্ধার অভিযানটি এমন এক সময়ে সফল হলো, যখন বিশেষজ্ঞরা প্রথমে গুহার পানি পাম্প করে বের করার পরিকল্পনা করেছিলেন, যা আটকে পড়া ব্যক্তিদের নিরাপদে বেরিয়ে আসার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

সেই চেষ্টা প্রাথমিকভাবে ব্যর্থ হওয়ার পর, বিকল্প ও সর্বশেষ উপায় হিসেবে আটকে পড়া ব্যক্তিদের স্কুবা ডাইভিং এবং সাঁতার শিখিয়ে বের করে আনার কথা ভাবা হচ্ছিল।

এই উদ্ধার অভিযানটি আন্তর্জাতিক ডাইভিং সম্প্রদায়ের নজর কাড়ে। গতকাল শুক্রবার ঘটনাস্থলে আরো সাহায্য এসে পৌঁছায়।

উদ্ধারকাজে বাড়তি দক্ষতা ও সহযোগিতা দিতে থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ফ্রান্স এবং অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ ডাইভাররা লাওসে এসে উদ্ধারকাজে যোগ দেন।

উল্লেখ্য, লাওসের প্রতিবেশী থাইল্যান্ডের একটি গুহায় ২০১৮ সালে কিশোর ফুটবল দলের ১৮ দিন আটকে থাকার ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সেই উদ্ধার অভিযানে অভিজ্ঞ থাই ডুবুরিরাও এবার লাওসের অভিযানে অংশ নিয়েছেন।

ঢাকা/ফিরোজ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়