ঢাকা     শনিবার   ৩০ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৬ ১৪৩৩ || ১৪ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

‘আমাগো কপালে ঈদ নাই’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:২৭, ৩০ মে ২০২৬   আপডেট: ২২:২৮, ৩০ মে ২০২৬
‘আমাগো কপালে ঈদ নাই’

প্রতীকী ছবি (সংগৃহীত)

পথশিশু সাগর। বয়স ১২ বছর। ঈদুল আজহার তৃতীয় দিন (৩০ মে) তার সাথে কথা হয়। সে বলে, “সবাই ঈদ করে, নতুন জামা পরে। আমাগো নতুন জামাও নাই, ঈদের দিন ভালো খাওয়ারও উপায় নাই। ঈদের সকালে যদি কেউ এক প্লেট সেমাই বা বিরিয়ানি দেয়, হেইডাই আমাগো ঈদ।”

শনিবার (৩০ মে) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চারদিকে যখন মানুষ নতুন পোশাকে সপরিবারে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করছে, তখন ছিন্নমূল শিশুরা মলিন মুখে চেয়ে আছে পথচারীদের দিকে। একটু ভালো খাবার বা সামান্য কিছু সাহায্য পাওয়ার আশায় তারা হাত পাতছে।

আরো পড়ুন:

তেজগাঁও রেললাইন বস্তির পাশে পলিথিন মুড়িয়ে থাকা ষাটোর্ধ্ব রহিমা বেগম ক্ষোভ আর আক্ষেপ নিয়ে বলেন, “বাবা, আমাগো কপালে ঈদ নাই। ঈদ আইলে বড়লোকেরা আনন্দ করে, আর আমরা চাইয়া থাকি। পেটে ভাত নাই, ঈদ দিয়া কী করুম?”

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবান ও বিত্তশালীদের এগিয়ে আসতে হবে। উৎসবের এই দিনটিতে যদি প্রত্যেকে অন্তত একজন ছিন্নমূল মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর দায়িত্ব নেন, তবেই "কপালে ঈদ নাই’ কথাটি সমাজ থেকে মুছে ফেলা সম্ভব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও সমাজ বিজ্ঞানী ড. তৌহিদুল হক বলেন, “ঈদ কেবল নিজের আনন্দের নাম নয়, বরং তা ত্যাগের এবং ভাগাভাগির উৎসব। ছিন্নমূল ও সুবিধাবঞ্চিত এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে প্রকৃত ঈদের আনন্দ কখোনই পূর্ণতা পেতে পারে না। ইসলামে কোরবানির যে নিয়ম বা নিদর্শনা আছে ঠিক সেভাবে প্রতিপালন করা হলে সমাজে যারা ঈদ আনন্দ থেকে  বঞ্চিত তাদের সংখ্যা কমে আসবে। পাশাপাশি কোরবানি নিয়ে আমরা যেন অসুস্থ প্রতিযোগিতায় না করি। কোরবানির মাংস ইসলামে যেভাবে বণ্টনের নিয়ম আছে তা সঠিকভাবে করতে হবে।”

ঢাকা/এমআর/এসবি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়