ঢাকা     বুধবার   ১৮ মে ২০২২ ||  জ্যৈষ্ঠ ৪ ১৪২৯ ||  ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩

চাহিদার তুঙ্গে সরাইলের বিখ্যাত ‘চুনিলালের রাজভোগ’

মাইনুদ্দীন রুবেল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:১২, ২৫ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৫:২৮, ২৭ জানুয়ারি ২০২২

মিষ্টি তবে নাম রাজভোগ। নামেই যেন একটু ভিন্নতা! দেখতে অন্যসব মিষ্টির মতো হলেও ভেতরটা তুলতুলে। সম্পূর্ণ দুধের ছানায় তৈরি হওয়ায় মুখে দিলে সহজেই মিশে যায়। স্বাদ ও সাইজে একটু বড়, তাই নাম ‘রাজভোগ’। এভাবেই পরিচিতি পেয়েছে সরাইলের ‘চুনিলালের রাজভোগ’ মিষ্টি। রাজভোগ বিক্রি হয় পিস হিসেবে। এই মিষ্টির খ্যাতি দেশের গণ্ডি পেড়িয়ে এখন বিদেশেও পৌঁছেছে। তাই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষজন আসেন চুনিলালের বিখ্যাত রাজভোগ খেতে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল বাজারের দক্ষিণ দিকে ছোট্ট দোকানে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে রাজভোগ মিষ্টি তৈরি করছেন সুনিল মল্লিক ওরফে চুনিলাল (৬৮)। মিষ্টি বানানোর কাজে সাহায্য করেন ছেলে গোপাল মল্লিক (৩০)। চুনিলাল উপজেলার অরুয়াইল গ্রামের বাসিন্দা।

প্রতি পিস রাজভোগের দাম ৪০ টাকা। নিজ জেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষজন আসেন চুনিলালের দোকানে। অনেকে নিয়ে যান বাড়িতে, কেউবা বিদেশ পাঠাতে। তার দোকানে রাজভোগ ছাড়া অন্য কোন মিষ্টি বিক্রি ও তৈরি হয় না। একেকটি রাজভোগের ওজন ১৫০ গ্রাম হয়ে থাকে। গরুর খাঁটি দুধের ছানায় তৈরি এই রাজভোগ খেতে বেশ সুস্বাদু হওয়ায় খুব দ্রুত মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে চুনিলালের খ্যাতি। মূলত সাধারণ মানুষের সামনেই বানানো হয় এই রাজভোগ। তৈরির কলাকৌশল এবং দেশি জাতের গরুর দুধের ছানায় তৈরি হওয়ায় বিখ্যাত হয়ে উঠে এই মিষ্টি।

চুনিলাল নাসিরনগর উপজেলার গৌরাঙ্গ রায়ের কাছ থেকে মিষ্টি তৈরির কাজ শেখেন। তার কাছ থেকেই দুধের ছানা থেকে রাজভোগ তৈরির কাজ শিখেছেন তিনি।

রাজভোগ খেতে সিলেট জেলার মাধবপুর থেকে এসেছেন শামিম মিয়া। রাইজিংবিডিকে তিনি বলেন, ‘চুনিলালের রাজভোগ মিষ্টির কথা লোকমুখে শুনে এসেছি। অনেক স্বাদ পেয়েছি। বাড়ির জন্যও নিয়েছি।’

একই কথা বললেন অরুয়াইলের কবির মিয়া। বলেন, ‘সবার কাছে স্ত্রী শুনেছে এই মিষ্টির কথা এজন্য ছোটবোনকে সাথে নিয়ে এসেছি।’

চুনিলালের ছেলে গোপাল মল্লিক রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘আমাদের রাজভোগে ৯৯ ভাগ থাকে দুধের ছানা আর এক ভাগ ময়দা। মিষ্টি যেন একটু ফোলে, সেজন্য অল্প ময়দা দেয়া হয়। ভেজালমুক্ত হওয়ায় মানুষজন খেতে পছন্দ করেন।’

তিনি বলেন, ‘একটি রাজভোগ তৈরিতে খরচ হয় ২৮ থেকে ৩০ টাকা। আর বিক্রি ৪০ টাকা। ব্যবসার চিন্তা করলে আরো বেশি বানিয়ে বিক্রি করতে পারবো কিন্তু স্বাদ নষ্ট হয়ে যাবে। মানুষদের ভাল মিষ্টি খাওয়াতে চাই।’

জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে অরুয়াইল বাজারে একটি চায়ের দোকান দেন চুনিলাল। সেই দোকানে কয়েকবছর চা, পুরি, সিঙ্গারা বিক্রির পর রাজভোগ তৈরি শুরু করেন। ছোট্ট দুই রুমের দোকানের একটিতে চলে রাজভোগ তৈরির কাজ, আরেকটিতে বেচাকেনা। শুরুতে একা মিষ্টি তৈরি করলেও এখন ছেলে গোপাল মল্লিকও সঙ্গে কাজ করেন। চাহিদা বেশি থাকলেও প্রতিদিন ৪০০ পিস রাজভোগই তৈরি করা হয়।

চুনিলাল রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘খাঁটি দুধের ছানা দিয়ে রাজভোগ তৈরি করি। সেজন্য মানুষ খেতে পছন্দ করে। এই মিষ্টি পাঁচ টাকা বিক্রি দিয়ে শুরু করেছিলাম এখন ৪০ টাকায় করছি। দিন দিন কাঁচামালের দাম বেশি হওয়ায় রাজভোগের দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে। লাভ কম হলেও মানুষ খেয়ে প্রশংসা করে, এতেই অনেক ভালো লাগে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষজন আসেন আমার দোকানে। অনেকে আবার বিদেশেও নিয়ে যান।’

/এনএইচ/ মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়