ঢাকা     সোমবার   ২২ জুলাই ২০২৪ ||  শ্রাবণ ৭ ১৪৩১

আত্মতৃপ্তিতে ‘সর্বনাশ’

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৩০, ২৪ জুন ২০২৪   আপডেট: ১২:৩৪, ২৪ জুন ২০২৪
আত্মতৃপ্তিতে ‘সর্বনাশ’

জাতীয় দলের সব ক্রিকেটার তার ছাত্র নন। তবুও যখন তাদের নিয়ে সমালোচনা করেন, পারফরম্যান্সের চুলছেড়া বিশ্লেষণ করেন তখন বেশ নমনীয় থাকেন। তিনি বিশ্বাস করেন, আজ না পারলেও কাল তারা পারবে। কিন্তু নাজমুল আবেদীন ফাহিমের ধৈর্য্যের সব বাঁধ ভেঙে গেছে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সে। শুধু নিজের ছাত্রদের নয়, গোটা দলকে নিয়ে কড়া সমালোচনা করলেন। বিদেশের মাটিতে নিজেদের পারফরম্যান্স কেমন হতে পারে তা দেখা হয়ে গেছে।

এমন চলতে থাকলে দেশের মাটিতেও বাংলাদেশ জিততে পারবে কিনা সেই প্রশ্নও তুলেছেন বিসিবির সাবেক এই কোচ, ‘সামনে যদি আমরা একটা টুর্নামেন্ট করি, যেখানে নেপাল খেলবে, স্কটল্যান্ড খেলবে, নেদারল্যান্ডস খেলবে এবং বাংলাদেশ খেলবে…আমরা কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবো বাংলাদেশ ওখানে চ্যাম্পিয়ন হবে? ক্রিকেটে হয়তো বুকে হাত দিয়ে বলার সুযোগ নেই। কিন্তু আমরা কি ওই বিশ্বাস রাখতে পারবো। অনেকেই হয়তো বলবে স্কটল্যান্ডের ভালো সুযোগ থাকবে হয়তো। বাংলাদেশের যে সুযোগ নেই তা না। কিন্তু স্কটল্যান্ডের সুযোগ আছে।’

বাংলাদেশ ক্রিকেটের এগোনোর থেকে পিছিয়েছে বলতে দ্বিধা করেননি সাকিব-তামিমদের গুরু, ‘আমরা এখন এই পর্যায়ে নেমে গেছি, নেপালের সঙ্গে জিতে আমরা যে উল্লাস করি…শুধু খেলোয়াড় না। বাইরে থেকেও আমরা যে উল্লাস করি তা বলে দেয় আমরা কতোটা নিচে নেমে গেছি।’

পারফরম্যান্সের দিক থেকে সাকিব আল হাসান এই টুর্নামেন্ট নিয়ে সন্তুষ্ট নন। তবে সাফল্য বিবেচনায় তিনি এবারের অর্জনকে খারাপ বলতে নারাজ। ছয় ম্যাচে বাংলাদেশ তিনটিতে জিতেছে, হেরেছে তিনটিতে। কিন্তু নাজমুল আবেদীন এই সাফল্যকে বিবেচনায় আনতে নারাজ, ‘অনেকের মধ্যে তৃপ্তি থাকতে পারে, আমরা তিনটা ম্যাচ জিতেছি। এটা আমাদের বিশ্বকাপে সেরা ফল। এটা নিয়ে এক ধরণের সন্তুষ্টি আসতে পারে। আমার মনে হয় এই সন্তুষ্টিটাই আমাদের ব্যর্থতার বড় কারণ।’

‘আমরা কেন ক্রিকেট খেলি, ক্রিকেট খেলাটাকে কোথায় নিয়ে যেতে চাই সেই ধারনাটা আমরা যারা ক্রিকেটের কাছাকাছি থাকি তাদেরও নেই। সব কিছু মিলিয়ে খুব হতাশ। বিশ্বকাপ হচ্ছে সেই মঞ্চ যেটা আপনাকে বোঝার সুযোগ তৈরি করে যে আপনি কোথায় আছেন। গত বিশ্বকাপে আমরা দেখেছি আমরা কোথায় ছিলাম। সেখান থেকে এই বিশ্বকাপে এসেও…তিনটা ম্যাচ আমরা জিতেছি ঠিকই কিন্তু উত্তরণের যে ব্যাপারটা সেটা কিন্তু হয়নি একদমই।’-যোগ করেন তিনি।

বাংলাদেশ ক্রিকেট যতটা পিছিয়েছে, আফগানিস্তান ক্রিকেট ততটাই এগিয়েছে। ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আফগানিস্তানের খেলোয়াড়রা মাঠে যে নিবেদন দেখান, জয়ের তাড়না দেখান তাতে মুগ্ধ নাজমুল আবেদীন, ‘স্কুলিংয়ের কথা যদি বলি, আফগানিস্তানের খেলোয়াড়রা কিভাবে উঠে এসেছে, বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা কিভাবে উঠে এসেছে এটা দেখলেই বোঝা যায়। আফগানিস্তানের খেলোয়াড়রা কিন্তু সারা পৃথিবী ঘুরে ফিরে, সারা বিশ্বে ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলে এখানে এসেছে। ওসব জায়গায় কিন্তু আহামরি পারফরম্যান্স ছাড়া কারো সুযোগ পাওয়ার কোনো সুযোগই নেই। আমাদের এখানে খুব সহজ একটা পরিবেশে যেখানে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীতা নেই, যেখানে খেলার মান খুব নিচে সেখানে পারফরম্যান্স করে জাতীয় দলে খেলছি। এটার মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে।’

‘মানসিকভাবে যে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয় আফগানিস্তানের খেলোয়াড়কে। প্রত্যেকটা দিন সেই পরীক্ষা দিতে হয় তাদেরকে। আমাদেরকে সেটা করতে হয় না। ওইটা হয়তো আমরা অনুধাবন করি না। ওদের স্কুলিং এবং আমাদের স্কুলিং বিরাট পার্থক্য আছে।’ - যোগ করে নাজমুল আবেদীন।

ঢাকা/ইয়াসিন/বিজয়

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়