ঢাকা, রবিবার, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

'বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে সরকার জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে'

কলকাতা থেকে ক্রীড়া প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-২৩ ১:৩৩:০৮ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-২৩ ১২:০৯:১১ পিএম
ছবি: মিলটন আহমেদ

ক্রিকেট বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের বন্ধনকে আরো গভীর করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারের গৃহীত বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নয়নমূলক পদক্ষেপে ভারতকে সবসময় পাশে পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

‘বর্তমানে ভারতের মত বাংলাদেশেও ক্রিকেটকে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা’ অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্য আমরা বিভিন্নমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছি। আমি আশা করছি, আমাদের এই অভিযাত্রায় ভারত অতীতের মত ভবিষ্যতেও আমাদের পাশে থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুক্রবার রাতে ইডেন গার্ডেন্সে গোলাপি বলে ভারত-বাংলাদেশের প্রথম দিবা-রাত্রির ক্রিকেট টেস্ট ম্যাচের প্রথম দিনের খেলা শেষে ক্রিকেট এ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রদত্ত ভাষণে একথা বলেন।

‘বিগত এক দশকে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এক অনন্য উচ্চতায় আসীন হয়েছে,’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট আমাদের উভয় দেশের জনগণের মধ্যকার বন্ধনকে আরো নিবিড় করেছে।’

ভারত-বাংলাদেশের এই সম্পর্ক ক্রমান্বয়ে সম্প্রসারিত এবং নিবিড়তর হবে মর্মে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এবং ভারত অভিন্ন ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, ইতিহাস ঐতিহ্যসহ বহুবিধ অভিন্ন বন্ধনে আবদ্ধ। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আমরা একসঙ্গে রক্ত ঝরিয়েছি।’

শেখ হাসিনা এ সময় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিধন্য শান্তি নিকেতনে বাংলাদেশ সরকার নির্মিত ‘বাংলাদেশ ভবন’কে বাংলাদেশ-ভারত সাংস্কৃতিক বন্ধনের এক ‘মাইলফলক’ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সহযোগে এই ভবন উদ্বোধনের প্রসংগ টেনে বলেন, ‘বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের জনণের ভাষা ও খাদ্যাভ্যাস এক। আবার আমরা একই কবির লেখা কবিতা পড়ে,গান গেয়ে বড় হয়েছি। আমাদের আবেগ, অনুভুতি, আনন্দ-বেদনার প্রকাশ একই।’

শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘আমাদের ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে আমাদের জীবনের সকল ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ এবং নজরুলের প্রভাব অপরিসীম।’

দেশ স্বাধীনের পর কলকাতায় প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে জাতির পিতা প্রদত্ত ভাষণের উদ্বৃতি তুলে ধরে একেই জাতির পিতার কন্যা, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মূল ভিত্তি বলে আখ্যায়িত করেন।

জাতির পিতা বলেছিলেন- ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আমাদের হৃদয়ের। এই বন্ধুত্বের বন্ধন সব সময় দৃঢ় এবং চিরস্থায়ী থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু প্রদর্শিত পথই বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের মূলভিত্তি। সময়ের বিবর্তনে আমাদের এ সম্পর্ক বিশ্ববাসীর নিকট সু-প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের এক আদর্শ হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারত সরকার, পশ্চিম বঙ্গের রাজ্য সরকার এবং জনগণের অবদান কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করছি আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ভারত সরকার এবং তাঁর জনগণের অপরিসীম অবদানের কথা। বিশেষ করে, পশ্চিমবঙ্গের জনগণ সেই ঝঞ্ঝা- বিক্ষুদ্ধ দিনগুলোতে যেভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল তা কখনই ভুলবার নয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদাত্ত আহবানে সাড়া দিয়ে বাংলার মানুষ এক ন্যায়হীন সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। সে সময় ভারত সরকার এবং জনগণের সহযোগিতায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিশেষ কর কলকাতা থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালিত হতো।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে ২০০০ সালে ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম টেষ্ট ম্যাচে অংশগ্রহণকারী দুই দেশের খেলোয়াড় যাদের অনেকেই মাঠে উপস্থিত ছিলেন তাঁদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।  

তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার মনে পড়ছে ২০০০ সালে ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের প্রথম টেষ্ট ম্যাচের কথা। যে ম্যাচে প্রতিপক্ষ দল ভারতের অধিনায়ক ছিলেন বর্তমান বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নবীন সদস্য হলেও বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে। বাংলাদেশ ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি জয় করেছে।’

এছাড়া, বাংলাদেশের আইসিসি বিশ্বকাপ ম্যাচসহ অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সফলভাবে আয়োজনএবং ঘরোয়া ক্রিকেট প্রতিযোগিতাসমূহ অত্যন্ত সফলভাবে নিয়মিত আয়োজনেরও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেনস-এ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলমান দিবা-রাত্রির টেস্ট ক্রিকেট ম্যাচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।’

প্রধানমন্ত্রী ভারত বাংলাদেশ ঐতিহাসিক দিবা-রাত্রির টেষ্ট ম্যাচ দেখতে আমন্ত্রণ জানানোয় ভারতের প্রধানমন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন,‘আমাকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আমি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি এবং ক্রিকেট এ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

তাঁকে এবং তাঁর প্রতিনিধি দলকে এখানে আন্তরিক আতিথিয়তা ও সেবা প্রদানেও সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সিটি অব জয়’ হিসেবে পরিচিত কলকাতা আমাদের অত্যন্ত কাছের। অনেক আবেগ এবং স্মৃতি বিজড়িত পশ্চিমবঙ্গে আসতে পারা আমার জন্য সব সময়ই অত্যন্ত আনন্দের।

তিনি জাতির পিতার কলকাতার শিক্ষা জীবনের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ছাত্র জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এই নগরিতেই অতিবাহিত করেছেন।’

১৯৪৫-৪৬ সালে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজের ছাত্র থাকাকালে বঙ্গবন্ধু এখানকার বেকার হোষ্টেলে থাকতেন, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি আজকের দিনটি বাংলাদেশ এবং ভারতের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে এক অবিস্মরণীয় দিন উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, ভবিষ্যতেও এ ধরনের আরো বহু অনুষ্ঠানের সুযোগ আমাদের সামনে আসবে।’

প্রধানমন্ত্রী কবি গুরুর বিখ্যাত রবীন্দ্র সঙ্গীত ‘আনন্দের এই সাগর থেকে’র চারটি পংক্তি উচ্চারণ করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের ইতি টানেন।

সূত্র: বাসস

 

কলকাতা/ইয়াসিন/নাসিম 

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন