ঢাকা     শনিবার   ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

তামিমের বিশ্বকাপ রাঙানোর পালা

আবু হোসেন পরাগ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০২:৫৩, ২৮ মে ২০১৯   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
তামিমের বিশ্বকাপ রাঙানোর পালা

ওদের হাতে বিশ্বকাপ মশাল। ওদের কাছে ১৬ কোটির প্রত্যাশা। ওরাই স্বপ্নের ধারক। ওরা বাংলার টাইগার। ওরা বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্বপ্নসারথি। ওদেরই একজন তামিম ইকবাল।

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ১৫ খেলোয়াড়কে নিয়ে প্রতিদিন লেখা প্রকাশ করছে রাইজিংবিডি’র ক্রীড়া বিভাগ। আজ পড়ুন তামিম ইকবালের গল্প, লিখেছেন আবু হোসেন পরাগ।

বিশ্বকাপ আর তামিম দুটো একসঙ্গে বললে কোন স্মৃতিটা মনে পড়ে আগে? নিশ্চয় ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে সেই ফিফটি?
 


সেবারই প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে গিয়েছিলেন তখনকার ১৭ বছর বয়সি তামিম। শুরুটা ছিল আলো ঝলমলে। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান প্রথম ম্যাচেই ভারতের বিপক্ষে খেলেছিলেন ৫১ রানের দারুণ ইনিংস। ডাউন দ্য উইকেটে এসে জহির খানকে লং অন দিয়ে মারা তার ছক্কা তো ট্রেডমার্ক হয়ে আছে সেই ম্যাচে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের।

এরপর তামিম বিশ্বকাপ খেলেছেন আরো দুটি। এবার খেলবেন নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপ। কিন্তু বিশ্বকাপে তামিমের শুরুটা আলোয় রাঙানো ছিল যতটা, এরপর সেটা ততটাই যেন বিবর্ণ। ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসরে তামিম শুরুটা করেছিলেন ফিফটি দিয়ে, যেটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারেরই প্রথম ফিফটি। এরপর বিশ্বকাপে আরো ২০ ম্যাচ খেলে তামিম পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন আর মাত্র দুবার!

২০০৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ৯ ইনিংসে ১৭২ রান, ২০১১ সালে ঘরের মাঠে হওয়া বিশ্বকাপে ৬ ইনিংসে ১৫৭ রান, ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ৬ ইনিংসে ১৫৪ রান- এই হলো তামিমের খেলা তিন বিশ্বকাপের পরিসংখ্যান।
 


তিন আসরে ২১ ইনিংসে ২৩.০০ গড়ে করেছেন ৪৮৩ রান। প্রতি আসরে করেছেন একটি করে ফিফটি, নেই কোনো সেঞ্চুরি; সর্বোচ্চ ইনিংস ৯৫। তার পুরো ক্যারিয়ার পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে যা বেশ বেমানান। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানের প্রায় সব রেকর্ডই তার। কিন্তু বিশ্বকাপে তামিম ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি কখনোই।

তামিমের ওয়ানডে ক্যারিয়ার:

ইনিংস

রান

গড়

স্ট্রাইক রেট

সর্বোচ্চ

১০০

৫০

১৯১

৬৬৩৬

৩৬.২৬

৭৮.১১

১৫৪

১১

৪৬


২০০৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় দলে তামিমের অভিষেক হয়েছিল ওয়ানডে দিয়েই। এরপর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যত সময় গড়িয়েছে, নিজের জায়গাটা ততই পোক্ত হয়েছে তার। নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে।

চট্টগ্রামের ছেলে তামিমের ক্রিকেটার হওয়াটা হয়তো অবধারিতই ছিল। তার বাবা প্রয়াত ইকবাল খানও ছিলেন একজন ক্রিকেটার। চাচা আকরাম খান বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়ক। বড় ভাই নাফীস ইকবালও একটা সময় জাতীয় দলে খেলেছেন। তবে তামিম যেন ছাড়িয়ে গেছেন সবাইকেই!
 


তামিমের ক্যারিয়ার মারকাটারি ব্যাটিংয়ে শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে সেই ব্যাটিং স্টাইল পরিবর্তন করেছেন অনেকটাই। উইকেটে গিয়েই বোলারকে আর তেড়েফুঁড়ে মারতে দেখা যায় না। খেলেন না ঝুঁকিপূর্ণ শট। সেটা অবশ্য দলের চাহিদা মেনেই। তামিমের কাছে দলের চাওয়া যে লম্বা সময় ধরে ব্যাটিং করে যাওয়া। দলের সেই চাহিদাটা তিনি পূরণ করে চলেছেন বেশ ভালোভাবেই।

২০১২ এশিয়া কাপে টানা চার ফিফটি, নিজের পরের ওয়ানডেতে আরেকটি ফিফটিতে সংখ্যাটা পৌঁছে গিয়েছিল টানা পাঁচে, ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুই সেঞ্চুরি, ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই সেঞ্চুরির মাঝে ফিফটি- তামিমের ব্যাট হেসেছে এরকম আরো অনেক সময়েই। কখনো আবার ভুগেছেন রান-খরায়। তা যেন বিশ্বকাপেই একটু বেশি! আগের তিন বিশ্বকাপের পরিসংখ্যান অন্তত সেটাই বলছে।

নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপে নিশ্চয় অতীত পরিসংখ্যান বদলাতে চাইবেন তামিম। বিশ্বকাপের জন্য নিজেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত করতে খেলেননি এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে। সে সময়টায় ফিটনেস নিয়ে কাজ করেছেন নিবিড়ভাবে। শরীরের ওজন কমিয়েছেন, ফিটনেসে উন্নতি করেছেন। যদিও বিশ্বকাপে তার ব্যক্তিগত কোনো লক্ষ্য নেই।
 


‘এই বিশ্বকাপে যদি আমি এটাই লক্ষ্য করে যাই যে একটা সেঞ্চুরি করতে হবে বা খুব রান করতে হবে, তাহলে আমি আসলে অপ্রয়োজনীয় চাপ নিব আমার ওপরে। আমি এটা চাই না। আমার বরং ভাবনা অন্য জায়গায়। সেটা হচ্ছে, দল আমাকে যে ভূমিকা দিবে, সেই ভূমিকাটা যদি আমি ভালোভাবে পালন করি, তাহলেই সুযোগ আসবে বড় ইনিংস খেলার। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, দলকে একটা ভালো শুরু এনে দেওয়া’- বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে বলেছিলেন তামিম।

বিশ্বকাপে তামিমের চাওয়া দলের দেওয়া ভূমিকাটা ঠিকঠাক পালন করা। আর সেটা করতে পারলে তার পরিসংখ্যানও রঙিন হবে নিশ্চিতভাবে।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৮ মে ২০১৯/পরাগ

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়