ঢাকা     শনিবার   ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

গণভোট গণনা ও ফলাফল হবে যেভাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২৩:০৬, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ২৩:১৯, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
গণভোট গণনা ও ফলাফল হবে যেভাবে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে- গণভোট। ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের প্রশ্নে জনগণের মতামত জানতেই এ গণভোট আয়োজন করা হচ্ছে। ফলে এবারের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভোট গ্রহণ, গণনা ও ফলাফল ঘোষণায় যুক্ত হচ্ছে বাড়তি কিছু ধাপ ও নির্দেশনা।

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট- উভয় ভোটই একই ভোটকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। ভোটাররা একটি ব্যালট পেপারে সংসদ সদস্য প্রার্থীর জন্য ভোট দেবেন এবং আলাদা ব্যালট পেপারে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেবেন।

আরো পড়ুন:

গণভোটের ব্যালটে চারটি প্রশ্ন থাকবে-
১. নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।

২. আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।

৩. সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার-সহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।

৪. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।

এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে 'হ্যাঁ' বা 'না' ভোট দিয়ে সাধারণ মানুষ তাদের মতামত জানাবেন।পৃথক পৃথক ভাবে হ্যাঁ বা না মতামত দেয়ার সুযোগ থাকবে না।চারটি প্রশ্নের নিচে নিদিষ্ট কলামে থাকা হ্যাঁ বা না এর উপর সিল দিয়ে সম্মতি ভোট দিতে হবে।

ভোটের ফলাফল গণনা ও ফলাফল প্রকাশ
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রেই ভোট গণনা শুরু হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের পক্ষে নিয়োজিত এজেন্টদের উপস্থিতিতে (যদি থাকেন) প্রত্যেকটি ব্যালট বাক্স খুলে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট পেপার পৃথক করা হবে। এরপর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালটগুলো প্রার্থীভিত্তিক এবং গণভোটের ব্যালটগুলো ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ সূচক অনুযায়ী আলাদাভাবে গণনা করা হবে।

ভোটের ফলাফল গণনা ও প্রকাশ সম্পর্কিত পরিপত্রে বলা হয়েছে- ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রিজাইডিং অফিসারকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত প্রার্থী, নির্বাচনি অথবা পোলিং এজেন্ট, পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীর সামনে ভোট গণনা শেষ করতে হবে।

কোনো অবস্থাতেই কেন্দ্রের বাইরে গণনা করা যাবে না। ভোট গণনার বিবরণী কেন্দ্রের নোটিস বোর্ড বা দেয়ালে বা বেড়ায় টানিয়ে প্রকাশ করতে হবে।

ভোট গণনা শেষে ব্যবহৃত ব্যালট প্যাকেট, গণনার বিবরণী, ব্যালট হিসাব এবং অন্যান্য নির্বাচনি কাগজপত্র আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় সহকারী রিটার্নিং অফিসারের মাধ্যমে সরাসরি রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠাতে হবে।

ভোট গণনার সময় প্রার্থীর নির্বাচনি কিংবা পোলিংএজেন্ট যারা উপস্থিত থাকেন, প্রতিটি বিবরণী ও প্যাকেটে তাদের স্বাক্ষর নিয়ে রাখবেন প্রিজাইডিং অফিসার। স্বাক্ষর দিতে অস্বীকার করলে তাও লিখে রাখতে হবে।

কেন্দ্রে ভোট গণণার সময় প্রার্থীর নির্বাচনি কিংবা পোলিংএজেন্ট অনুপস্থিত থাকলে কিংবা এজেন্ট না পাঠালে সেটাও লিখিতভাবে রেকর্ড রাখতে হবে।

কোনো প্রার্থী ও এজেন্ট ভোট গণনার বিবরণী বা ব্যালট পেপারের প্রত্যয়িত অনুলিপির আবেদন করলে তা দিতে হবে এবং প্রাপ্তি স্বীকার নিতে হবে। প্রাপ্তি স্বীকার দিতে অস্বীকার করলে প্রিজাইডিং অফিসারকে তাও লিপিবদ্ধ করে রাখতে হবে।

প্রিজাইডিং অফিসার কেন্দ্রের ভোট গণনার বিবরণী নির্ধারিত ফরমে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে হস্তান্তর করবেন। ডাকযোগে নির্বাচন কমিশনের কাছেও সঙ্গে সঙ্গে পাঠাতে হবে এক কপি। একটি কপি কেন্দ্রের বাইরে দর্শনীয় স্থানে টাঙ্গিয়ে দিতে হবে।

গণভোটের ফলাফল ঘোষণার পদ্ধতি সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “গণভোটের ফলাফল সংসদ নির্বাচনের মতোই কেন্দ্রভিত্তিকভাবে জানিয়ে দেয়া হবে। প্রতিটি কেন্দ্রের ফলাফল সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠানো হবে। এরপর রিটার্নিং অফিসার আসনভিত্তিক ফলাফল ঘোষণা করবেন। সব আসনের ফলাফল সমন্বয় করে সারাদেশের গণভোটের চূড়ান্ত ফলাফল নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করবে।”

উল্লেখ্য, গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট যদি ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে যায়, তবে আগামী সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এসব প্রতিনিধি একইসঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন। পরিষদ তার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে। সংস্কার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। এই উচ্চকক্ষের মেয়াদ থাকবে নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত।

ঢাকা/এমএসবি/রাসেল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়