ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২২ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো মামলায় ছয়জনের প্রাণদণ্ড

নিউজ ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:২৩, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৫:৪৮, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো মামলায় ছয়জনের প্রাণদণ্ড

গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোসহ আরেকজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের রায় শুনিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল-২।  

আরো পড়ুন:

এই মামলায় আরো সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে অন্য দুই আসামিকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

বাসস লিখেছে, একমাত্র রাজসাক্ষীকে শেখ আবজালুল হককে খালাস দিয়েছেন আদালত।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামি হলেন, ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা, সাবেক এসআই আবদুল মালেক, সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা রনি ভূঁইয়া।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা সাত আসামি হলেন, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস ও সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান।

সাত বছর করে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন সাবেক এসআই আরাফাত উদ্দীন ও কামরুল হাসান।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন, বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। 

রায় ঘোষণা সরাসরি সম্প্রচার করে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)।

ট্রাইব্যুনালে এই মামলায় প্রসিকিউসন পক্ষে শুনানিতে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামীম, বি এম সুলতান মাহমুদ, ফারুক আহমেদ, আবদুস সাত্তার পালোয়ান সহ অপর প্রসিকিউটররা। চার আসামির পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান নির্মূলে পরিচালিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ঘোষিত তৃতীয় রায়।

এই মামলায় গ্রেপ্তার আট আসামি হলেন, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন আরজু, আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মালেক, আরাফাত উদ্দীন, কামরুল হাসান, শেখ আবজালুল হক ও সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার। 

আসামিদের মধ্যে শেখ আবজালুল হক রাজসাক্ষী হয়ে শহীদদের পরিবারসহ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে জবানবন্দি দেন।

ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ এই মামলার পলাতক আট আসামি হলেন ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা ও স্থানীয় যুবলীগ লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া।

বাসস লিখেছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর এই মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা তুলে ধরেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

তাজুল ইসলাম বলেন, ছয়জন আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা করার পর পুলিশ তাদের লাশ ভ্যানে তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেয়। ঘটনাস্থলে একজন জীবিত ছিলেন কিন্তু তাকে বাঁচতে দেওয়া হয়নি।

ঢাকা/রাসেল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়