ঢাকা     শনিবার   ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

শরিফুলের এক ওভারে সোহানের ৪ ছক্কা, ধূমকেতুকে হারিয়ে দিল দুর্বার

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:১৮, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ২২:২২, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শরিফুলের এক ওভারে সোহানের ৪ ছক্কা, ধূমকেতুকে হারিয়ে দিল দুর্বার

সাইফ উদ্দিন যখন মোস্তাফিজুর রহমানের বলে আউট হন তখন দুর্বার একাদশের ১৪ বলে ৩৫ রান লাগত। ধূমকেতু একাদশ আগে ব্যাটিং করে ৮ উইকেটে ১৫৬ রান করেছিল। উইকেটে তখন দুর্বার একাদশের নিঃসঙ্গ শেপরা কাজী নুরুল হাসান সোহান।

৩৭ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থাকা সোহান ম্যাচ জেতাতে পারবেন কিনা তা নিয়ে উৎকণ্ঠা ছিল মিরপুর শের-ই-বাংলায়। এর আগে মিরপুরে এমন ম্যাচ জিতিয়েছেন সোহান। সেই আত্মবিশ্বাস নিশ্চিতভাবেই ভর করেছিল তার ওপর। নয়তো ১৯তম ওভারে শরিফুল ইসলামকে কিভাবে ৪টি ছক্কা উড়াতে পারেন!

আরো পড়ুন:

ওভারের প্রথম বল মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা উড়ানোর পর দ্বিতীয়টি লং অনের সীমানা পার করান চোখের পলকে। তৃতীয় বল দৌড়ে ২ রান নেওয়ার পর চতুর্থ বল স্কয়ার কাট করে পয়েন্টের ওপর দিয়ে তৃতীয় ছক্কা। পুরো স্টেডিয়ামের প্রায় ৫ হাজার দর্শক তখন উন্মাতাল।

পঞ্চম বল ডট খেলার পর ষষ্ঠ বলে আবার ছক্কা। এবার লং অফে রিশাদ হোসেনের মাথার ওপর দিয়ে বল সীমানার বাইরে। ওভারে ২৬ রান তুলে ম্যাচটা একেবারে হাতের নাগালে নিয়ে আসেন সোহান।

তবে ম্যাচ শেষ করে আসতে পারেননি। শেষ ওভারে দূর্ভাগ্যবশত রান আউট হয়ে সোহান সাজঘরে ফেরেন তখন জয় একেবারে নাগালে। হাসান মাহমুদ পেসার মুগ্ধর বলে চার হাঁকিয়ে দলকে জেতান ৩ বল আগে, ২ উইকেট হাতে রেখে।

৪৪ বলে ৪ চার ও ৬ ছক্কায় ৭৬ রানের ইনিংষ খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কারটা পেয়েছেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। তার বাদে দুর্বার একাদশের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৯ রান করেন সাইফ উদ্দিন। এছাড়া হাবিবুর সোহান ১৭, মাহমুদুল হাসান জয় ১৩ রান করেন। বাকিরা কেউ আলো ছড়াতে পারেননি। সব দায়িত্ব একা নিয়ে সোহান ধূমকেতু একাদশকে একাই হারিয়েছেন।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ধূমকেতুর শুরুটা একদমই ভালো হয়নি। তানজিদ হাসান তামিম পেসার হাসান মাহমুদের বলে গোল্ডেন ডাক মারেন। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। আরেক ওপেনার সাইফ হাসান ভালো শুরুর ইঙ্গিত দেন। নিজের ট্রেডমার্ক নো লুক শটে হাসানকে ছক্কা উড়িয়েছেন মিড উইকেট দিয়ে। ইনসাইড আউট শটে তানভীরকে কাভারের ওপর দিয়ে ছক্কা মারেন। কিন্তু ইনিংসটি বড় করতে পারেননি। আগের দিন ফিফটি করলেও আজ ২০ বলে ২৮ রান করে সাইফ উদ্দিনের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন।

অধিনায়ক লিটন দলের হাল ধরেন। তাকে তেমন কেউ সঙ্গ দিতে পারেননি। আলিস আল ইসলামের আর্ম ডেলিভারীতে বোল্ড হন ১৩ রান করা পারভেজ। তানভীরের বল স্টাম্পে টেনে ৭ রানে বোল্ড হন মাহেদী।

৮৪ রানে ৪ উইকেট হারানো ধূমকতেু পঞ্চম উইকেটে প্রতিরোধ পায় লিটন ও মাহেদীর ব্যাটে। উইকেটে গিয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন মাহেদী। লিটন একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। টানা দ্বিতীয় ফিফটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু তানভীরকে এগিয়ে এসে উড়াতে গিয়ে ফিরতি ক্যাচ দেন ৪৩ রানে। ধূমকেতুর হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন তিনি।

এরপর শামীমের ১৭, মাহেদীর অপরাজিত ৩১ রানের সুবাদে লড়াই করার পুঁজি পায় ধূমকেতু একাদশ। মাহেদী ২৭ বলে ২ ছক্কায় ৩১ রান করেন। শামীম ৮ বলে ১টি করে চার ও ছক্কায় ১৭ রানের বেশি করতে পারেননি।

বল হাতে হাসান মাহমুদ ও তানভীর ইসলাম ৩৫ রানে ২টি করে উইকেট নেন। ১টি করে উইকেট নেন আলিস ও সাইফ উদ্দিন। 

ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়