ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২২ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

দুই দশকের রোমাঞ্চ, স্মৃতির গ্যালারি আর বদলে দেওয়া এক ক্রিকেট যাত্রা

ক্রীড়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:২১, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ২১:২২, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দুই দশকের রোমাঞ্চ, স্মৃতির গ্যালারি আর বদলে দেওয়া এক ক্রিকেট যাত্রা

প্রায় দুই দশক আগে জন্ম নেওয়া ‘আইসিসি মেনস টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ’ আজ ক্রিকেটের সবচেয়ে গতিময়, সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ আসরগুলোর একটি। ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম আসরের শিরোপা জিতে ভারত যখন নতুন এক ইতিহাস লিখেছিল, তখনই বোঝা গিয়েছিল ক্রিকেট আর আগের জায়গায় নেই। সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া খেলাটির চালচিত্রে টি-টোয়েন্টি এনে দিয়েছে ঝড়ের গতি, নাটকের তীব্রতা আর স্মৃতির পর স্মৃতি।

প্রথম আসরে অংশ নিয়েছিল মাত্র ১২টি দল। আর ২০২৬ সালে, টুর্নামেন্টের দশম সংস্করণে, বিশ্বের চার প্রান্ত থেকে লড়বে ২০টি দল। এই পথচলায় এখন পর্যন্ত ছয়টি ভিন্ন দেশ শিরোপা ছুঁয়েছে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড আর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত এই তিন দেশই দু’বার করে ট্রফি ঘরে তুলতে পেরেছে।

আরো পড়ুন:

২০২৬ সালে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় বসতে যাওয়া আসরের আগে চলুন, একটু ফিরে যাই স্মৃতির অলিগলিতে।

ক্রিকেটের নতুন ভাষা:
একবিংশ শতাব্দীর ক্রিকেট মানেই টি-টোয়েন্টি। যদিও শুরুর দিকে ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে এই সংস্করণ নিয়ে ছিল প্রবল সংশয়। ভাবা হয়েছিল, দর্শক টানার সহজ এক কৌশল খেলাটাকে সরল করে উপস্থাপন করার প্রয়াস। কিন্তু ২০০৩ সালে পেশাদার ক্রিকেটে যাত্রা শুরুর পর খুব দ্রুতই টি-টোয়েন্টি বদলে দিল ক্রিকেটের দৃশ্যপট।

২০০৭ সালে বিশ্বকাপের জন্ম সেই পরিবর্তনকে দিল অন্য উচ্চতা। প্রভাব ছিল তাত্ক্ষণিক প্রথম বলেই সীমানা ছাড়ানো এক ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান যেন ঘোষণা দিলেন, এ টুর্নামেন্ট আলাদা। সেই ম্যাচেই স্বাগতিকদের বিপক্ষে দুর্দান্ত ১১৭ রানের ইনিংস খেলে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রথম শতক তুলে নিলেন ক্রিস গেইল।

সেই প্রথম আসরেই দেখা গেল বোল-আউটের নাটক, যুবরাজ সিংয়ের এক ওভারে ছয় ছক্কার বিস্ফোরণ, আর ফাইনালে মিসবাহ-উল-হকের সেই আলোচিত স্কুপ শট। শেষমেশ পাকিস্তানকে হারিয়ে ভারতের শিরোপা জয় শুধু নতুন পথই দেখায়নি; আগামী দশকগুলোর নাটকীয়তার সুরও বেঁধে দিয়েছিল।

স্মরণীয় মুহূর্তের মিছিল:
২০০৯ সালে ইংল্যান্ডে পাকিস্তান ফিরতি গল্প লিখল। ব্যাটে-বলে ঝলমলে শহীদ আফ্রিদির নেতৃত্বে তারা শিরোপা জিতল, সেই সঙ্গে জন্ম নিল বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন, স্বাগতিকদের হারাল নেদারল্যান্ডস।

এর এক বছর পর ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে ইংল্যান্ড জিতল তাদের প্রথম পুরুষদের সাদা বলের বিশ্বশিরোপা। ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে টুর্নামেন্ট সেরা হলেন কেভিন পিটারসেন।

২০১২ সালে শ্রীলঙ্কায় শিরোপা উৎসবে যোগ দিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফাইনালে মারলন স্যামুয়েলসের ৭৮ আর সুনীল নারিনের বিধ্বংসী স্পেলেই স্বাগতিকদের স্বপ্নভঙ্গ। তবে শ্রীলঙ্কা জবাব দিল ২০১৪ সালে। কুমার সাঙ্গাকারা আর মাহেলা জয়াবর্ধনের বিদায়টা হলো শিরোপার আলোয়।

২০১৬ সালে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে আবার ক্যারিবীয় ঝড়। ফাইনালের শেষ ওভারে বেন স্টোকসকে টানা চার ছক্কা হাঁকিয়ে কার্লোস ব্র্যাথওয়েট ক্রিকেট স্মৃতির পাতায় স্থায়ী ঠিকানা করে নিলেন। ধারাভাষ্যে ইয়ান বিশপের সেই অমর উচ্চারণ “রিমেম্বার দ্য নেম” আজও কানে বাজে।

পাঁচ বছরের বিরতির পর ২০২১ সালে ফিরল বিশ্বকাপ। অস্ট্রেলিয়া প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতল। ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে নায়ক ডেভিড ওয়ার্নার আর মিচেল মার্শ। পরের বছর ইংল্যান্ড আবার চ্যাম্পিয়ন। একসঙ্গে টি-টোয়েন্টি আর ওয়ানডে বিশ্বমুকুট। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে স্যাম কারান হয়ে উঠলেন আসরের মুখ।

বিশ্বমুখী ক্রিকেট:
২০২৪ সালে বিশ্বকাপ আরও বড় হলো। ১৬ থেকে ২০ দলে সম্প্রসারণ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা আর উগান্ডার অভিষেক নতুন রঙ যোগ করল। সহ-আয়োজক হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পাশে দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র সুপার ওভারে পাকিস্তানকে হারিয়ে সুপার এইটে উঠে তাক লাগাল। আফগানিস্তানও প্রথমবারের মতো আইসিসির বড় কোনো আসরের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল।

ফাইনালে বিরাট কোহলির ৭৬ রান প্রথমে যথেষ্ট মনে হয়নি। কিন্তু জাসপ্রিত বুমরাহর জাদুকরি স্পেল দক্ষিণ আফ্রিকার তাড়া থামিয়ে দিল। সাত রানের নাটকীয় জয় এনে দিল ভারতকে।

সাঙ্গাকারা-জয়াবর্ধনের মতোই, এ ফাইনাল ছিল আধুনিক যুগের দুই মহাতারকার বিদায়মঞ্চ। শিরোপা জিতে কোহলি ও রোহিত শর্মা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিকে বিদায় জানালেন।

এর মানে ২০২৬ সালে নতুন মুখ, নতুন গল্প। আর নতুন এক দল ইতালি। বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম পা রেখে তারা যখন ভারত ও শ্রীলঙ্কায় নামবে তখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গল্পে যুক্ত হবে আরেকটি নতুন অধ্যায়।

ঢাকা/আমিনুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়