লক্ষ্মীপুরে ভোটের সিলসহ আটক ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
ভোটের সিলসহ আটক সোহেল
লক্ষ্মীপুরে ছয়টি ভোটের সিলসহ আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তারা বাদী হয়ে মামলা করবে। আটক ব্যক্তি প্রাথমিকভাবে স্বীকারোক্তি না দিলে আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হবে বলেও জানায় পুলিশ।
এদিকে এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে দায় চাপানোর প্রতিযোগিতা। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, আটক ব্যক্তি জামায়াতের সক্রিয় কর্মী। তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে প্রভাবিত করতেই একটি বিশেষ মহল পরিকল্পিতভাবে ভোটের সিল সংগ্রহ করেছে। এ্যানির অভিযোগ, জনগণের ভোটাধিকার হরণ ও নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এসব সিল মজুত করা হয়েছিল। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এর জবাবে জামায়াতে ইসলামীও পৃথক সংবাদ সম্মেলন করেছে। সেখানে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারী ড. রেজাউল করিম দাবি করেন, আটক ব্যক্তি তাদের কোনো কর্মী নন। দলটির নেতারা বলেন, উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে জামায়াতের নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। প্রকৃত দোষীদের আড়াল করতেই রাজনৈতিকভাবে তাদের দলকে জড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আটক ব্যক্তির ভাই জুয়েল স্থানীয় জামায়াতের একজন কর্মী হিসেবে পরিচিত। এছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের দায়িত্বশীল একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, উদ্ধার হওয়া সিলগুলো অর্ডার দেওয়া ব্যক্তি লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি সৌরভ হোসেন শরীফ। ঘটনার পর থেকে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে পুলিশ কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।
টুমচর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড জামায়াত সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, আটক সোহেল রানার বাড়ি টুমচর গ্রামে। তার পিতা খোরশেদ আলম কাঠমিস্ত্রি। ছোট ভাই জুয়েল জামায়াতের কর্মী, তবে তাকে আমি এর আগে চিনতাম না।
সৌরভ হোসেন শরীফ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি বলে নিশ্চিত করেছেন লক্ষ্মীপুর পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি হারুন অর রশীদ।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে- নির্বাচনের আগে কী উদ্দেশ্যে এসব সিল সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং এর পেছনে কারা জড়িত।
লক্ষ্মীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে জানান, এ ঘটনায় এখনো মামলা দায়ের হয়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষের নাম নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তদন্তের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার লক্ষ্মীপুর শহরের আদালত রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ছয়টি ভোটের সিলসহ সোহেল রানা নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঢাকা/লিটন/ফিরোজ