বিশ্বকাপের ক্ষত বুকে নিয়েই দিশার সন্ধানে
ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের থাকার কথা ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মঞ্চে। অথচ তারাই কিনা এখন মিরপুরের সবুজ গালিচায় পা মাড়াচ্ছেন নতুন এক টুর্নামেন্টে খেলার অপেক্ষাতে।
বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। তিন দলের আড়াই কোটি টাকার ম্যাচ ফি ও প্রাইজমানির টুর্নামেন্ট দেশের সেরা ৩৯ ক্রিকেটারকে নিয়ে মাঠে গড়াচ্ছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করায় বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের এখন অফুরন্ত সময়। বিশ্বকাপ খেলতে না পারা কতটা হতাশার সেটা আজ ফুটে উঠল বাংলাদেশ দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের কণ্ঠে, ‘‘টু বি অনেস্ট, এটা (বিশ্বকাপ খেলতে না পারা) আসলে মাথা থেকে যাওয়াটা অনেক কঠিন। এটা সবারই মানসিকভাবে কঠিন হবে। সবাইকে বলাও যাবে না। এই হতাশা কাটানোটাও আসলে মুশকিল। কিন্তু আপনি যদি এটা নিয়ে পড়ে থাকেন, আপনি আসলে আপনার ক্ষতি ছাড়া আসলে অন্য কিছু করছেন না।’’
‘‘সামনে যে প্রতিযোগিতা আছে সেটায় ক্রিকেটাররা কিভাবে ভালো করবে তারা ওইভাবেই বিষয়টি দেখছে। তবে আবেগ তো নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। এটা মানুষের পক্ষে সম্ভব না। আপনি মানুষ, আমরাও। আমাদের ভিতরে দুঃখ কষ্ট থাকবেই। সুখ থাকবে, সবকিছুই থাকবে।’’ – গড়গড়িয়ে বলতে থাকেন সালাাহউদ্দিন।
সিঙ্গেল লিগ পদ্ধতিতে তিন দল নিয়ে পাঁচদিনের অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ নিয়ে সালাহউদ্দিনের মন্তব্য, ‘‘বাংলাদেশের সেরা খেলোয়াড়রা এখানে খেলছে। এটার গুরুত্বও অনেক আছে। আমরা ঐভাবেই দেখছি এটা। আমি এখানে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি। আমার খেলাটার উন্নতি করতে পারি। গত বছর টি-টোয়েন্টি দল ভালো করেছে। তার থেকে যেন আমরা আরো ভালো করতে পারি সামনে সেই দিকে আমাদের লক্ষ্য আছে।’’
সালাহউদ্দিন ও আশরাফুল দায়িত্ব পেয়েছেন জাতীয় দল নিয়ে গড়া ধূমকেতু স্কোয়াডে। নেতৃত্বে আছেন লিটন দাস। টুর্নামেন্টের শক্তিশালী দলটাই ধূমকেতু। যেখানে, তানজিদ, সাইফ, মোস্তাফিজ, পারভেজ, রিশাদ, শরিফুলরা রয়েছেন। স্কোয়াডের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সালাহউদ্দিন বলেছেন, ‘‘যেহেতু আমরা ওয়ার্ল্ড কাপের একটা প্রস্তুতিতে অনেকদিন একসাথেই ছিলাম। ঐভাবে দলটাকে রাখা হয়েছে। তারা আসলে কিরকম করে দেখার জন্য। এখানে আসলে সেকেন্ড অপশন চিন্তা করার কিছু নেই।’’
বিশ্বকাপ না খেলতে পারার হতাশা থাকলেও সেটিকে পেছনে ফেলে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উন্নতির দিকেই মনোযোগ দিতে চান বাংলাদেশ দলের সিনিয়র সহকারী কোচ সালাহউদ্দিন। তিনি বলেছেন, ‘‘যেটা বদলানো সম্ভব নয়, সেটি নিয়ে পড়ে না থেকে যেটা হাতে আছে সেটাকে সর্বোচ্চ কাজে লাগানোই একজন পেশাদার ক্রিকেটারের দায়িত্ব।’’
গত এক থেকে দেড় বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রস্তুতি চললেও এখন ধীরে ধীরে ওয়ানডে ক্রিকেটের দিকে মনোযোগ বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি। ২০২৭ বিশ্বকাপকে মাথায় রেখেই এই পরিকল্পনা আগে থেকেই করা ছিল বলে উল্লেখ করেন সালাহউদ্দিন।
বিশ্বকাপ না খেলায় ক্ষতির কথা স্বীকার করলেও সেটিতে আটকে থাকতে নারাজ সালাহউদ্দিন, “ক্ষতি সবারই হবে। এটা বললে মিথ্যা বলা হবে না। কিন্তু সারাদিন যদি হিসাব করেন- আমার কী ক্ষতি হলো, তাহলে সামনে আগাবেন কীভাবে?” -প্রশ্ন রাখেন তিনি।
তার মতে, ভালো ক্রিকেট খেলতে পারলেই আবার মূল্যায়ন বদলাবে, “আপনি যদি ১৫ নম্বর টিম হন, কেউ আপনাকে ওইভাবে মূল্যায়ন করবে না। আমাদের আরও বেটার ক্রিকেট খেলতে হবে,”—বলেন সালাহউদ্দিন।
ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে কোচ বলেন, “কালকে বাঁচবো না মরবো, সেটার গ্যারান্টি কেউ দিতে পারে না। তাহলে এত আগাম টেনশন কেন? যখন যেটা হবে, তখন সেটার সমাধান করাই বুদ্ধিমানের কাজ।”
ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল