ঢাকা     বুধবার   ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২১ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের জেরে নেপথ্য সমঝোতার পথে আইসিসি

ক্রীড়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:২১, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের জেরে নেপথ্য সমঝোতার পথে আইসিসি

পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দেওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে নেপথ্য কূটনৈতিক উদ্যোগে নেমেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সংস্থাটি তাদের ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজাকে দায়িত্ব দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে ‘ব্যাকচ্যানেল’ আলোচনায় বসার জন্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিঙ্গাপুর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি খাজাকে এমন একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তি হিসেবে দেখা হয়, যিনি সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলতে সক্ষম। তার মূল লক্ষ্য—১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় অনুষ্ঠিতব্য ভারত-পাকিস্তান গ্রুপ ম্যাচটি খেলতে পাকিস্তানকে রাজি করানো। এই ম্যাচটিকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।

আরো পড়ুন:

রোববার পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, তারা ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে, তবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বয়কট করবে। এর আগে জিও নিউজ জানায়, বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানাতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান।

মূলত বাংলাদেশ ইস্যু থেকেই উত্তেজনার সূত্রপাত। বিসিবি ভারতের বাইরে তাদের ম্যাচ সরানোর অনুরোধ জানায়। কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয় নিরাপত্তা শঙ্কা। সেই অনুরোধ আসে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনার পর। যা বাংলাদেশে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়। তবে আইসিসি সেই আবেদন নাকচ করে দেয় এবং সময় স্বল্পতার যুক্তি দেখিয়ে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করে।

পাকিস্তান সরকারের একটি অংশ মনে করে, এই পুরো প্রক্রিয়ায় আইসিসি পক্ষপাতমূলক অবস্থান নিয়েছে। সরকারি সূত্রের দাবি, আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ এর সিদ্ধান্তে সংস্থাটি কার্যত ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের প্রভাবাধীন হয়ে পড়েছে। এ কারণেই ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচে মাঠে না নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে একটি ‘প্রতিবাদী অবস্থান’ হিসেবেই।

এই অবস্থায় আইসিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা আশা করছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) একটি ‘পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান’ এর পথে হাঁটবে। জাতীয় সরকারের সিদ্ধান্তের অধিকার স্বীকার করলেও, আইসিসি মনে করছে এই বয়কট ক্রিকেটের স্বার্থে নয় এবং বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি দর্শকের আগ্রহে আঘাত হানছে, যার মধ্যে পাকিস্তানের ভক্তরাও রয়েছেন।

সম্প্রচারকদের আর্থিক ধাক্কা:
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের ঘোষণায় বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে সম্প্রচার সংস্থাগুলো। গ্রুপ ‘এ’-তে থাকা পাকিস্তান (ভারত, নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে) তাদের সব ম্যাচ খেলবে শ্রীলঙ্কায়। পাকিস্তান ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বিশ্বকাপ শুরু করবে, এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি নামিবিয়ার মুখোমুখি হবে।

তবে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে লাভজনক ম্যাচ হলো ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ। সম্প্রচার স্বত্ব, বিজ্ঞাপন, স্পনসরশিপ ও টিকিট বিক্রি মিলিয়ে একটিমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচের বাজারমূল্য প্রায় ৫০ কোটি ডলার। বাংলা টাকার হিসেবে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ম্যাচে ১০ সেকেন্ডের একটি বিজ্ঞাপনের দাম পড়ে ২৫ থেকে ৪০ লাখ রুপি, যা ভারতের অন্য কোনো নকআউট ম্যাচের চেয়েও বেশি। শুধু বিজ্ঞাপন আয় থেকেই প্রায় ৩০০ কোটি রুপি আসার কথা ছিল। ফলে ম্যাচটি না হলে সম্প্রচার স্বত্বধারী এবং বিসিসিআই; দু’পক্ষই তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ২০০ কোটি রুপির ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

ঢাকা/আমিনুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়