গ্রুপ ‘এ’ বিশ্লেষণ: শিরোপা ধরে রাখার মিশনে চ্যাম্পিয়ন ভারত
আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হচ্ছে শনিবার। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে পাকিস্তান। আর শুরু থেকেই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় গ্রুপ ‘এ’। কারণ এই গ্রুপেই রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত, শক্তিশালী পাকিস্তান, চমক দেখানো যুক্তরাষ্ট্র, সঙ্গে নেদারল্যান্ডস ও নামিবিয়া।
এক অর্থে এটি যেন পরিচিত ছবি। আগের আসরের মতো এবারও একই গ্রুপে ভারত, পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র। ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে এখনও টাটকা ২০২৪ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সেই অবিশ্বাস্য সাফল্যের স্মৃতি।
ফেভারিট ভারত:
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতকে এবারও শিরোপার প্রধান দাবিদার ধরা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে তাদের ধারাবাহিকতা ঈর্ষণীয়। গত কয়েক বছরে ম্যাচ জয়ের হার, আগ্রাসী ব্যাটিং দর্শন আর গভীর স্কোয়াড; সব মিলিয়ে ভারত যেন অন্য উচ্চতায়। সাম্প্রতিক সময়েই তারা নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে দাপুটে সিরিজ জিতে বিশ্বকাপে নামছে।
এই ফরম্যাটের অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ভারতের পারফরম্যান্সে যে স্থিরতা দেখা যাচ্ছে, তার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে পুরো দলের আক্রমণাত্মক মানসিকতা। শুরু থেকেই বাউন্ডারি খোঁজার দর্শনে বিশ্বাসী এই দল এবার ইতিহাস গড়তে চায় টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতে।
প্রশ্ন একটাই, এই গ্রুপে কে বা কারা পারবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের গতি থামাতে?
গ্রুপ ‘এ’-এর দলসমূহ: ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস, নামিবিয়া
নজরে থাকবেন যিনি:
অভিষেক শর্মা
এই গ্রুপে নজর রাখার জন্য আলাদা করে কাউকে খুঁজতে হলে সবার আগে আসবে অভিষেক শর্মার নাম। তিনি বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় টি–টোয়েন্টি ব্যাটসম্যানদের একজন। পাওয়ার প্লেতে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে তিনি ভারতের বড় অস্ত্র। প্রথম বল থেকেই বড় শট খেলার যে দর্শন ভারত গ্রহণ করেছে, তার সবচেয়ে বড় প্রতিচ্ছবি এই ২৫ বছর বয়সী ব্যাটার।
:: দলভিত্তিক বিশ্লেষণ ::
ভারত:
সহ-আয়োজক ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ভারতই এই গ্রুপের মানদণ্ড। সাদা বলের ক্রিকেটে আইসিসির শীর্ষ র্যাংকিংয়ে থাকা এই দল কন্ডিশন সম্পর্কে সবচেয়ে অভিজ্ঞ। অভিষেক শর্মার মতো বিস্ফোরক ব্যাটারের পাশে রয়েছে সমান শক্তিশালী ব্যাটিং ও বোলিং লাইনআপ। রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির পরবর্তী যুগেও বড় মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করতে মুখিয়ে আছে এই দল।
যুক্তরাষ্ট্র:
গত বিশ্বকাপের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র আর নবাগত দল নয়। শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে নিয়মিত লড়াই করার আত্মবিশ্বাস তারা পেয়েছে। কানাডার বিপক্ষে নাটকীয় ফাইনাল জয় এবং ওমানের বিপক্ষে সিরিজ সাফল্য তাদের প্রস্তুতির প্রমাণ। ব্যাটিংয়ে তরুণ প্রতিভা সাইতেজা মুক্কামালার দিকে থাকবে বাড়তি নজর।
নামিবিয়া:
টানা চতুর্থবারের মতো টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নামছে নামিবিয়া। ২০২১ সালে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে সুপার টুয়েলভে ওঠার স্মৃতি এখনও তাদের অনুপ্রেরণা। অধিনায়ক গেরহার্ড এরাসমাসের নেতৃত্বে এবারও অন্তত একটি বড় অঘটন ঘটাতে চায় দলটি।
নেদারল্যান্ডস:
এটি নেদারল্যান্ডসের সপ্তম টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ধীরে ধীরে তারা নিজেদের একটি শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডসের নেতৃত্বে দলটি ভারসাম্যপূর্ণ। ব্যাটে ম্যাক্স ও’ডাউড ও অলরাউন্ডার বাস ডি লিডে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।
পাকিস্তান:
দুই বছর আগে গ্রুপ পর্বেই বিদায় নিতে হয়েছিল পাকিস্তানকে। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যা তাদের ইতিহাসে প্রথম। সেই হতাশা ভুলে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে তারা। অস্ট্রেলিয়াকে সাম্প্রতিক সিরিজে ধবলধোলাই করা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। অধিনায়ক সালমান আলি আগা, সঙ্গে বোলিংয়ে শাহিন শাহ আফ্রিদি ও আবরার আহমেদের মতো তারকা; সব মিলিয়ে পাকিস্তান যে কোনো দলের জন্য বড় হুমকি।
সবশেষে বলা যায়- গ্রুপ ‘এ’ মানেই উত্তেজনা, অনিশ্চয়তা আর বড় ম্যাচের সম্ভাবনা। ভারত এগিয়ে থাকলেও পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের দলগুলোর একটি ভালো দিন পুরো চিত্রটাই বদলে দিতে পারে। শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে ভারতের পথ কতটা মসৃণ হয়, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।
ঢাকা/আমিনুল