ঢাকা, বুধবার, ৭ ভাদ্র ১৪২৫, ২২ আগস্ট ২০১৮
Risingbd
শোকাবহ অগাস্ট
সর্বশেষ:

বিশ্বজয়ী ব্যারিস্টার আনিতা গাজী

মেহেদী হাসান ডালিম : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৭-১১-০৮ ৮:১৭:৪৮ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১২-২৪ ৯:১৪:৫২ পিএম
নিজস্ব চেম্বারে ব্যারিস্টার আনিতা গাজী

মেহেদী হাসান ডালিম:   চট্টগ্রামের মেয়ে আনিতা গাজী রহমান। মায়ের স্বপ্ন পূরণ ও নিজের প্রবল আগ্রহে ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য লন্ডনে যান। বিশ্বের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউ সি এল) থেকে আইনে  স্নাতক শেষে লিংকনস ইনের সদস্য হিসেবে অর্জন করেন ব্যারিস্টারি সার্টিফিকেট। দেশে এসে মনোনিবেশ করেন আইন পেশায়। সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের প্রথিতযশা আইনজীবীদের প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করেন।

ক্যারিয়ার শুরু হয় ‘কেয়ার্ন এনার্জি’র মত বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কাজ দিয়ে। এখন  নিজেই প্রতিষ্ঠা করেছেন আইন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘দি লিগ্যাল সার্কেল’। মামলা সম্পর্কিত পরামর্শ, অধিকার হারাদের জন্য বিনামূল্যে উপদেশ, বিদেশী দেশী বিনিয়োগকারী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য আইনি পরামর্শসহ প্রায় সব ধরনের আইন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন আনিতা। তার সঙ্গে আছেন আরও ১০ জন মেধাবী আইনজীবী।

আইনি  সেবার  পাশাপাশি আনিতা  ল’রিপোর্ট এলসিএলআর প্রকাশ করে যাচ্ছেন। তার সম্পাদনায় প্রকাশিত ল’রিপোর্ট সৃষ্টিশীল ও নতুনত্ব থাকায় সব মহলে সমাদৃত হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশে ওয়েবের মাধ্যমে আইনি তথ্য দেওয়ার ফ্রি প্ল্যাটফরম  ‘থিংক লিগ্যাল’ এর প্রতিষ্ঠাতাও তিনি।

আমেরিকার বিখ্যাত এশিয়া সোসাইটির জরিপে ‘Asia 21 Young Leader for the Class of 2016’ নির্বাচিত হয়ে জয় করেছেন বিশ্ব। প্রো-বোনো (Pro-bono) কাজ করে যাওয়া আনিতাকে ইংরেজী দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউন ‘Inspiring individuals to follow in 2015 in Bangladesh’ হিসেবে  নির্বাচিত করেছে। ব্যারিস্টার আনিতা এগিয়ে যেতে চান আরও বহুদূর।
 

দক্ষিণ কোরিয়ায় এশিয়া সোসাইটির সামিটে ব্যারিস্টার আনিতা গাজী


নিজের জীবনের বিভিন্ন অর্জন, আগামীর পরিকল্পনা, ব্যক্তিগত জীবনের নানা বিষয়ে এই প্রথম অনলাইন গনমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। তার সাক্ষাতকার নিয়েছেন রাইজিংবিডির সুপ্রিম কোর্ট প্রতিবেদক মেহেদী হাসান ডালিম

রাইজিংবিডি : জন্ম, পারিবারিক পরিচয় ও লেখাপড়া সম্পর্কে বলুন…।

ব্যারিস্টার আনিতা গাজী রহমান :  আমার জন্ম ১৯৮০ সালে চট্টগ্রামে। বাবা ব্যবসায়ী অর পৈতৃক নিবাস ঢাকা জেলায়। মা চট্টগ্রামের বিখ্যাত সানশাইন গ্রামার স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষা। চট্টগ্রামেই বড় হয়েছি। মায়ের আদি নিবাস পশ্চিমবঙ্গে, চব্বিশ পরগনা  বিখ্যাত গাজী পরিবারের মেয়ে আমার মা। কোয়ালিটির ব্যাপারে মা কখনো কমপ্রোমাইজ করেননি। ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের কমতি থাকায় নিজেই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সানশাইন স্কুল। মায়ের স্কুল থেকেই ও লেভেল করি। এ লেভেল করতে গিয়ে দেখা দিল সমস্যা। চট্টগ্রাম থেকে তখন এ লেভেল পরীক্ষা দেওয়া যেত না। সিদ্ধান্ত নিলাম ইংরেজি নিয়ে এইচএসসি করবো। বিদেশী সিলেবাসে ও’লেভেল এবং দেশী সিলেবাসে ইংরেজী নিয়ে এইচএসসি আমার শিক্ষাগত জীবনে একটি চমৎকার বৈচিত্র্য এনেছে। ইংরেজি মাধ্যমে পড়া ছেলেমেয়েরা দেশে পেশাগত পরিবেশে খাপ খাওয়াতে পারে না। আমার ক্ষেত্রে এমনটি হয়নি। আমি বলব এই চমৎকার  কম্বিনেশন আমার পেশাগত জীবনে অনেক কাজে দিয়েছে। সমস্যা হল তখনও এইচএসসি লন্ডনে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ন্যুনতম যোগ্যতা বলে বিবেচিত হত না। এইচএসসি করলে ফাউন্ডেশন কোর্স করতে হত। কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফাউন্ডেশন কোর্স করলাম। তারপর সে সময় যুক্তরাজ্যে দ্বিতীয় র‌্যাংকিংয়ে থাকা ইউসিএলে আইন বিষয় নিয়ে ভর্তি হলাম। তখন ইউসিএল- এর অবস্থান ছিলো ক্যামব্রিজের পরেই কিন্তু অক্সফোর্ডের উপরে। পরে কলেজ অফ ল’ থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট বার ভোকেশন কোর্স করে দেশে এসে সরাসরি প্র্যাকটিস শুরু করি। কাজে নেমে যেতে একদিনও দেরি করিনি।

আমার তিন ভাই সবাই উচ্চশিক্ষিত। আমি সবার বড়। আমার ছোট ভাইদের মধ্যে বড় সামির গাজী রহমান, লন্ডন স্কুল অব ইকনোমিক্সস ও সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উন্নয়ন অর্থনীতির উপর উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছে। দীর্ঘদিন পুঁজি বাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলো, এখন পারিবারিক ব্যবসা দেখছে। তার পরের ভাই মেহতাব গাজী রহমান লন্ডনের কুইন মেরী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বার্টস ও লন্ডন স্কুল অব মেডিসিন ও ডেন্টিস্ট্রি থেকে ডাক্তার হয়ে সেখানেই ডাক্তারি করছে। ছোট ভাই সিটি বিশ্ববিদ্যালয় ও কুইন মেরীতে পড়াশুনা শেষে যুক্তরাজ্যেই ব্যবসা করছে।

রাইজিংবিডি : ব্যারিস্টারি পড়ার আগ্রহ  কোথায় পেলেন ?

ব্যারিস্টার আনিতা গাজী : মায়ের কাছে অনুপ্রেরণা পেয়েছি। তিনি চাইতেন সন্তানদের কেউ আইনজীবী হোক। ভাইদের মধ্যে কেউ ব্যারিস্টার হবে- এমন আশা মায়ের হয়ত ছিল। আর আমি ভেবেছিলাম আমার যেহেতু আইনের ব্যাপারে উৎসাহ আর একাডেমিক কৌতুহল ছিল, আমি চেষ্টা করতে পারি। আমি কিন্তু এইসএসসি পর্যর্ত পুরো বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশুনা করেছি। তাই প্রায় সব রাস্তাই খোলা ছিল। আইনকে এর মধ্যে বেছে নিয়েছিলাম। আর আইন পড়ায় দেশের কথা যখন আসলো, দেখলাম যুক্তরাষ্ট্রে এটর্নি হতে আগে একটি ডিগ্রি, পরে আইনে ডিগ্রি, তারপর আইনজীবী, প্রায় সাত আট বছরের ধাক্কা। ইংল্যান্ডে আইনজীবীদের মধ্যে যারা আদালত কেন্দ্রিক প্র্যাকটিস করে তাদের ব্যারিস্টার বলে, এটি আসলে আমাদের দেশের পেশাগত নাম এডভোকেট- এর সমার্থক, শুধু ঐতিহাসিক কারনে ‘ব্যারিস্টার’ শব্দটির ব্যাপারে উপমহাদেশে এত কৌতুহল। মেরিট-ডি মেরিটে যাব না, ভাবলাম আইনজীবীই যখন হব, তখন ব্যারিস্টর হই। দেশে ব্যারিস্টার শব্দের একটি সামাজিক ও পেশাগত সন্মান আছে। আসলে আইনত আমাদের দেশের পেশায় এই টাইটেলটি নেই। ঐতিহাসিকভাবে এটির পেশাগত ও সামাজিক কদর। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম ইংল্যান্ড থেকে ব্যারিস্টার হয়ে দেশে আসব। যুক্তরাজ্যের অন্য দুই দেশ স্কটল্যান্ডে আইনজীবীকে বলে এডভোকেট তাই ইংল্যান্ডেই পড়াশুনা  করি।

রাইজিংবিডি : ইংল্যান্ডে কাটানো দিন…।

ব্যারিস্টার আনিতা গাজী:  ইংল্যান্ডে না বলে আসলে বলব লন্ডনে পুরো পাঁচ বছর, একবছর ফাউন্ডেশন, তিন বছর ডিগ্রি, এক বছর বার। চমৎকার কেটেছে সেখানে, ইউসিএল- এ মুটিং, ডিবেটিং, পাবলিক স্পিকিং- এর উপর অনেক জোর দেওয়া হত। আমি উইসিএল দলকে নেতৃত্ব দিয়ে একবার মুটিং প্রতিযোগিতায় লন্ডন স্কুল অফ ইকনমিক্সস দলকে পরাজিত করি। মুটিং হল একধরনের আইনি বিতর্ক। আইন পেশায় হাতে খড়ি দিতে মুটিং এর বিকল্প নেই। লন্ডনের মত একটি আন্তর্জাতিক শহরে থাকার অন্যতম সুবিধা হচ্ছে, সেখানকার লাইব্রেরি, যাদুঘর, থিয়েটার সবকিছু মিলিয়ে লন্ডন হচ্ছে জ্ঞান বিজ্ঞান আর শিল্প সংস্কৃতির শহর। অবশ্য অনেকে প্যারিসকে শিল্পের দিকে এগিয়ে রাখেন, তবে ব্যবসা বানিজ্য, শিক্ষা দীক্ষায় লন্ডন অনেক এগিয়ে। আইন পেশায় ইংলিশ আইন সারা বিশ্বের প্রায় সব বড় বড় বিনিয়োগ চুক্তিতে ব্যবহৃত হয়। লন্ডনে চেষ্টা করতাম আইন পেশায় সম্পৃক্তদের সঙ্গে থেকে জ্ঞান অর্জন, সব মিলিয়ে দারুন পাঁচ বছর কেটেছে।

রাইজিংবিডি : আপনার আইন পেশা শুরুর অভিজ্ঞতা বলুন।

ব্যারিস্টার আনিতা গাজী: ইংল্যান্ডে থাকা অবস্থায় দুটো লিগ্যাল ইন্টার্নশিপ করলাম। একটা কর্মাশিয়াল ল’এর উপর, অন্যটা ক্রিমিনাল ল’এর উপর। কিন্তু আমি তো দেশে ফিরে আসতে চাই। মা বলেছেন দেশে আসতে হবে। ইংল্যান্ডে থাকা অবস্থায় আমি সৈয়দ ইশতিয়াক স্যারের চেম্বারে আবেদন করলাম। তখন বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ স্যার প্র্যাকটিস করতেন। যখন আবেদন করলাম তখন তিনি ইংল্যান্ডে ট্র্যাভেল করছিলেন। সৈয়দ রেফাত স্যারের কাছে এক/দেড় ঘণ্টা ইন্টার্ণশিপের জন্য ইন্টারভিউ দিলাম। ২০০৩ সালে ঢাকায় ফিরে এসে ইন্টার্ণশিপের সময় কোর্টে ইশতিয়াক স্যারকে দেখলাম। স্যার তখন বেঁচে ছিলেন। খুবই ভাল অভিজ্ঞতা, মিটিং হলে স্যার আমাদের এলাউ করতেন। বলতেন, কথা বলবে না, শোনো নোট’স নাও। জুলাই মাসে ইশতিয়াক স্যার মারা গেলেন। ইতিমধ্যেই সৈয়দ রেফাত আহমেদ স্যার বিচারপতি হয়ে গেলেন। চেম্বারে তিনজন পার্টনার ছিলেন। ওই চেম্বারে আমি সাড়ে তিন বছর ছিলাম।

রাইজিংবিডি : কোর্টে প্রথম দিনের শুনানির স্মৃতি …

ব্যারিস্টার আনিতা গাজী: খুবই নার্ভাস ছিলাম। এখনও নার্ভাস থাকি। এখনও দাঁড়ানোর আগে দোয়া পড়ে দাড়াই। কি বলবো বুঝতে পারছিলাম না। প্রথম যে মামলায় শুনানি করেছিলাম ওটাতেই আমি হেরেছি। আমার মতে, আমি শতভাগ মনোনিবেশ করেছিলাম কিন্তু হেরেছিলাম। তখন খুব মন খারাপও ছিল। ওই মামলায় ইশতিয়াক স্যারের চেম্বারে আসাদ ভাই ছিলেন। আমাদের সিনিয়র ছিলেন মাহমুদুল ইসলাম স্যার। অপর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ স্যার। ভাল ফাইট হয়েছে। কিন্তু দিন শেষে হারলাম। খুব খারাপ লেগেছে। কিন্তু ঠেকে ঠেকেই তো শেখা।

ব্যবসায়ী স্বামী আরিফ ইসলামের সঙ্গে ব্যারিস্টার আনিতা গাজী


রাইজিংবিডি : আইন পেশায় কাকে অনুসরণ করেন, কাদের সাবমিশন আপনাকে মুগ্ধ করে ?

ব্যারিস্টার অনিতা গাজী : আমি তো বলবো আমার সিনিয়রই বেস্ট নিশ্চয়ই। আমার সিনিয়র হচ্ছেন প্রবীর নিয়োগী স্যার। উনার সিনিয়র মাহমুদুল ইসলাম স্যার। মাহমুদুল ইসলাম স্যারের রুমে বসে কয়েক বছর উনার যে কথা শুনতে পেরেছি এটা ছিল আমার জীবনের সৌভাগ্য। আর নিয়োগী স্যারের মত তো মানুষই হয় না। একটা Quote বলি ‘Wisdom is not just about having a lot of knowledge. Wisdom is about knowing how to apply the knowledge. অনেক পড়লাম, আমি খুব ওয়াইজম্যান তা নয় কিন্তু। পড়ে জানতে হবে কখন কোনটা প্রয়োগ করতে হবে। এই জিনিসটা আমার স্যারের থেকে বেটার কেউ জানেন বলে মনে হয় না। তা ছাড়া প্রফেশনে অভিয়াসলি ড. কামাল হোসেন স্যার, আক্তার ইমাম স্যার, রোকন উদ্দিন স্যার আর আনিসুল হক স্যার (আইনমন্ত্রী) তো খুব সুন্দর বলেন।

রাইজিংবিডি : সিনিয়রকে মূল্যায়ন …

ব্যারিস্টার অনিতা গাজী : নিয়োগী স্যারের চেম্বারে যোগ দেওয়ার পর উনি আমাকে যে অপরচুনিটি দিয়েছেন তার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ। আর দুই নম্বর হচ্ছে, আমি ড্রাফটিং আগে যা শিখেছি সব ডিলিট। ওনার কাছে নতুন করে ড্রাফটিং শেখা। ছোট্র পিটিশন, যতটুকু বলার দরকার ততটুকুই, বেশি কথা নয়। এর থেকে বেটার আমার জন্য হতো না। তাছাড়াও একটা পারসোনাল লেভেলে উনি যতটুকু কনসিডারেট আমি খুব কম মানুষকেই দেখেছি এরকম। যেমন ধরুন, আমার বাচ্চা অসুস্থ, উনি বললেন, আসার দরকার নেই আমরা আছি।

স্যার কত যে জানেন। শনিবার উনার চেম্বারে যাই। যে প্রশ্ন থাকে; এই যে আমার নিজের একটা করপোরেট চেম্বার আছে এখানে আটকে গেলে আমি স্যারকে জিজ্ঞেস করি, স্যার উত্তর দিয়ে দেন। উনার কোন এক্সপেকটেশন নেই। উনাকে প্রশ্ন করলে আরো খুশি হন। উনার মত সিনিয়র পেয়ে আমি খুবই লাকি।

রাইজিংবিডি : আপনার জীবনের এই সফলতার জন্য সবচেয়ে বেশী যার অবদান, সেই মানুষটাকে নিয়ে মূল্যায়ণ করুন …।

ব্যারিস্টার  আনিতা গাজী: আমার আজ এ পর্যায়ে আসার পেছনে মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। মা এখনও সানশাইন গ্রামার স্কুলের অধ্যক্ষ হিসেবে আছেন। অনেক চ্যারিটি করেন। মা চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে ম্যাটারনিটি ওয়ার্ড চালান। ওনার নিজের ক্যান্সার হয়েছিল। খুবই শক্ত মহিলা। ছোটবেলা থেকেই আমার সবসময় ইচ্ছা ছিল বিদেশে গিয়ে পড়বো। বুঝতেই পারছেন লন্ডনে ফ্যামিলি ছাড়া একটা মেয়েকে একা পাঠানো এটা কিন্তু  অনেক সাহস ও বড় মনের ব্যাপার। আমি একা পারবো এই বিশ্বাসটুকু মায়ের ছিল বলে পাঠিয়েছেন। আর ভাইদের কথা কি বলবো আমি। আমরা মেয়েদেরকে বলি আগে ভাই তারপর তোমরা। ভাইরা থাকার কারণেই আমার যে ছেলে নেই তাতে দু:খ নেই।
 

ব্যারিস্টার আনিতা গাজীর সঙ্গে কথা বলছেন রাইজিংবিডির প্রতিবেদক


রাইজিংবিডি : আপনি তো ল রিপোর্ট এলসিএলআরের সম্পাদক, এটা সম্পর্কে কিছু বলুন।

ব্যারিস্টার আনিতা গাজী : এলসিএলআর হচ্ছে একটি ল রিপোর্ট। বছরে ৪টি  সংখ্যা বের হয়। একটি সংখ্যায় ১০টির মত কেস থাকে। ১২০ থেকে ১৫০ পাতা হয়। ল রিপোর্টের ইমপর্টেন্সটা হচ্ছে আপনি হেড নোটটা কীভাবে বের করে আনেন। আপনি যখন দেখবেন একজন লইয়ারের আগামীকাল কেস আছে বা তিনদিন পর কেস তখন কিন্তু পুরো জাজমেন্টটা পড়ার মত সময় থাকে না। আর একেকজনের অনেক ব্যস্ততা থাকে। সেক্ষেত্রে আমরা হেড নোটটা পড়ি। হেড নোট হচ্ছে ইনটেলেকচ্যুয়াল প্রপার্টি।

আমি একদিন জাস্টিস জুবায়ের রহমান চৌধুরীর স্যার এর কোর্টে ছিলাম। উনি দু:খ প্রকাশ করছিলেন আগের ল রিপোর্টের হেড নোটের সঙ্গে এখনকার হেড নোটের তুলনা হয় না।

কোয়ালিটি যে ড্রপ করেছে সেটাই তিনি বললেন। তখন আমি ভেরি স্ট্রাগলিং লইয়ার, হাতে অনেক সময় ছিল, তাই ভাবলাম এটা আমরা করতে পারি এতে আমার শেখা হল আবার ভাল প্রডাক্ট হল। তো আবেদন করলাম। সরকারের পারমিশন নিয়ে ২০১২ সাল থেকে এলসিএলআর প্রকাশ করে আসছি। ল’রিপোর্ট তিন মাস পর পর বের করা হয়। দাম ১৫০ টাকা। আমাদের জাজমেন্টগুলো খুব সিলেক্টেডভাবে ঠিক করতে হয়। আমাদের টিমের সবার কথাই হচ্ছে অন্যরা যা প্রিন্ট করে তুমিও করো বাট তোমার হেড নোট ভিন্ন হতে হবে, সবসময় প্রিন্টে নতুনত্ব আনতে হবে।

রাইজিংবিডি : এলসিএলআর তো প্রকাশ করছেন। এর সঙ্গে আর কারা আছেন তা কি জানতে পারি ?

ব্যারিস্টার আনিতা গাজী : ২০১২ সালে আমরা এটা শুরু করেছি। আমরা যখন এলসিএলআর প্রকাশনা শুরু করি আমরাই প্রথম একটা এডভাইজারি বডি রেখেছিলাম। এডভাইজারি বডিতে আছেন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি তফাজ্জাল ইসলাম স্যার, বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমান স্যার ও প্রবীর নিয়োগী স্যার।

এলসিএলআরের এডিটোরিয়াল মেইনলি ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম, ব্যারিস্টার ইমরান এ সিদ্দিকী ও আমি করি। তাছাড়া মোরশেদ মান্নান নামের একজন আছেন, উনি বিদেশে পড়ায় উনি অনেক হেল্প করেন। ইশতিয়াক স্যারের চেম্বারের আনিসুল হাসান, ড. কামাল হোসেন স্যারের চেম্বারের আবদুল্লাহ মাহমুদ হাসান উনারাও হেল্প করেন। এছাড়া আমাদের টিমের তাজিন, রুম্মানসহ ৮/১০ জন এলসিএলআর প্রকাশে সহযোগিতা করেন।

রাইজিংবিডি : থিংক লিগ্যাল বাংলাদেশ সম্পর্কে বলুন ?

ব্যারিস্টার অনিতা গাজী : থিংক লিগ্যালের ক্রেডিট আমার না। এটা বিচারপতি ইমান আলী স্যারের কনসেপ্ট। আমরা জাস্ট বাস্তবায়ন করেছি।

থিংক লিগ্যালে আমার সঙ্গে মাসুদ ভাই, সাকিব মাহবুব, মহিবুল হাসান চৌধুরী (নওফেল) আছেন।

এটা হচ্ছে একটা ওয়েবসাইট। অনলাইন লিগ্যাল প্ল্যাটফর্ম বা লিগ্যাল ওয়ার্ল্ড ফর বাংলাদেশ। এখানে আমরা কেস  অন্তর্ভূক্তি, আর্টিকেল অন্তভুক্তি, বাংলাদেশ লিগ্যাল পারসোনালিটিদের বায়োগ্রাফি অন্তর্ভুক্ত করি। কিছু লিগ্যাল আর্টিকেল যেগুলো লইয়াররা লিখে গেছেন, যা এতদিনে হারিয়ে গেছে, আমরা ওগুলো কালেক্ট করে অন্তর্ভুক্ত করছি। একটা কথা, আমাদের লইয়াররা বিদেশী লইয়ারদের চেয়ে কোন অংশে কম নন কিন্তু তারা হাইলাইটেড হন না, আমরা হাইলাইটটা করতে চাই।

বাংলাদেশে উইমেন রাইটস নিয়ে যতগুলো ইমপোরটেন্ট কেস আছে তার ১২টার হাইলাইটস করে দিয়ে দিয়েছি। যে জানতে চান থিংক লিগ্যালেই গেলেই পেয়ে যাবেন। যেকোন ব্যক্তি ডাউন লোড করে যেভাবে ইচ্ছা ব্যবহার করতে পারবেন। এটা সম্পূর্ণ নন প্রফিট।

থিংক লিগ্যাল লেকচার সিরিজের আইডিয়াটা কিন্তু সম্পূর্ণ সাকিব মাহবুবের। এখন থিংক লিগ্যাল লেকচার সিরিজ একটা পর্যায়ে চলে এসেছে। এ পর্যন্ত ৭ জন স্পিকার লেকচার দিয়েছেন। এম এ মতিন স্যার, জাস্টিস ইমান আলী স্যার, নজরুল ইসলাম চৌধুরী স্যার, এ এফ এম আব্দুর রহমান স্যার, সৈয়দ রেফাত আহমেদ স্যার, নাইমা হায়দার ম্যাডাম ও শেখ হাসান আরিফ স্যার।

থিংক লিগ্যালে স্পেশালভাবে ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান ভাইয়ের কথা বলতেই হয়। কারণ, উনি লেকচারের স্টার্টিংটা এত সুন্দর করে করেন। পুরো বিষয়টি উনি খুব কম সময়ে সামারাইজ করে ফেলেন। এটা  অবশ্যই ট্যালেন্টের ব্যাপার। 

মা, ভাই,স্বামী ও সন্তানদের সঙ্গে ব্যারিস্টার আনিতা গাজী


রাইজিংবিডি : আমরা জানি, আপনি এশিয়ান সোসাইটির জরিপে ইয়াং লিডার নির্বাচিত হয়েছেন। এ ব্যাপারে আপনার অনুভুতি কি ?

ব্যারিস্টার আনিতা গাজী : এশিয়া সোসাইটি আমেরিকান একটি সংস্থা। রকফেলার ফাউন্ডেশন এটার প্রতিষ্ঠাতা। ওরা যেটা করে ভেরি ফেমাস। আমেরিকায় যারা থাকে তারা প্রত্যেকেই এটার নাম শুনেছে। ২০১৬ সালের জরিপে এশিয়ার ১৮ ইয়াং লিডারের মধ্যে একজন আমি নির্বাচিত হয়েছি।  

১৯৪০ সালে রকফেলার ট্র্যাভেল করার সময় উপলব্ধি করলেন যে, আমেরিকানদের সম্পর্কে কিছু মিস কনসেপশন আছে এশিয়ানদের আর এশিয়ানদের সম্পর্কে কিছু মিস কনসেপশন আছে আমেরিকানদের। কিন্তু ওয়ান ওয়ার্ল্ড কনসেপ্ট বাস্তবায়ন করতে হলে সবার সমন্বয় করতে হবে। এই ধারণা থেকেই ওরা এটা করে। প্রত্যেক বছর ওরা সারা বিশ্ব থেকে কিছু লিডারকে নির্বাচন করে। এশিয়া ২১ লিডার কনসেপটা ১০ বছর আগেই শুরু হয়েছে। ১০ বছরে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে ৮০০ লিডারকে আইডেনটিফাই করেছে। একটা কথা, অন্য দেশে কেউ এশিয়া ২১ লিডার হলে নিউজের ছড়াছড়ি হয়ে যায়। কিন্তু বাংলাদেশে ওইভাবে এটা প্রচার হয় না। আপনাকে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই, এক বছরে এই প্রথম কোন মিডিয়া পারসোনলিটি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন এশিয়া ২১ এর কথা।

রাইজিংবিডি : একটি ইংরেজি দৈনিকের জরিপে আপনি বাংলাদেশের তরুণদের সবচেয়ে অনুসরণকারী ব্যক্তি নির্বাচিত হয়েছেন। সেটা সম্পর্কে বিস্তারিত বলুন।

ব্যারিস্টার  আনিতা গাজী : আমাদের চেম্বারের সবাইকে বলে দেই প্রো-বোনো (Pro-bono) কাজ করতে। যে যে সেক্টরে যা করুক। আমি নিজেও অনেক প্রো-বোনো (Pro-bono) কাজ করি। যেটা বললাম, হাতে যদি সময় থাকে বসে থাকবো কেন? হেল্প করি কাউকে। আমি কোম্পানি ল’টা খুব পছন্দ করি।

কোন করপোরেট কোম্পানির শুরুর দিকটাকে ষ্টার্ট-আপ বলে। এই আপদের হেল্প করি, ফ্রিতে লেকচার দেই, এডভাইস দেই, তারপর কোম্পানিটাকে গ্রো করতে হেল্প করি। আমি  ষ্টার্ট-আপ সেক্টরে ৩/৪ বছর ধরে খুব জড়িয়ে গেছি। কপিরাইট নিয়ে লেকচার দিয়েছি, ট্রেড মার্ক নিয়ে, নাম নিয়ে, হাউ টু সেটআপ কোম্পানি, তারপর ইনকরপোরেশন কোম্পানি হিসেবে করবেন না সোসাইটি হিসেবে করবেন। সবই লিগ্যাল লেকচার।

এছাড়া নতুন যারা ব্যবসা শুরু করেছেন, তাদেরকে এক ঘণ্টা, দেড় ঘণ্টা, দুই ঘণ্টা ধরে এডভাইস দেই। এটার জন্য কোন টাকা নেই না আমি। একেকটা লেকচার পেপার করতে আমার একদিন বা দেড়দিন লেগে যায়। তাই ওইটার মূল্যায়ন তো তারা করতে পারবে না। আর মানুষকে হেল্প করলে কিন্তু কখনও খারাপ হয় না। মানুষকে হেল্প করতে গিয়ে নিজেরও হেল্প হয়।

এখনও প্রো-বোনো কাজ করি। যখন পো-বোনো কাজ করা শুরু করলাম তখন হয়তো ওনাদের কাছ থেকেই ইনফরমেশন গেছে। বিভিন্ন কোম্পানি/সংগঠনের কাছে মতামত চেয়েছে আপনাদের মতে এখানে কাকে লিস্ট করা যায়। বিভিন্ন সংগঠন হয়তো আমার নাম দিয়েছিল। আমি এটা জানতামই না। ভেরি সারপ্রাইজিং ছিল। ইন্সপায়ারিং পারসন ৮ জনের মধ্যে একজন। 

রাইজিংবিডি : আপনার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে বলুন।

ব্যারিস্টার আনিতা গাজী: আমার হাসবেন্ড আরিফ। ওর সঙ্গে পরিচয় হয় ১৯৯৫ সালে সানসাইন গ্রামার স্কুলে বৈশাখের অনুষ্ঠানে। তখন আমার বয়স ১৫। আমরা ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পড়তাম। ও’লেভেল পাস করার পর আরিফ সানসাইন কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হয় কমার্সে আমি সায়েন্সে। ওখানে আরিফ বেস্ট ফ্রেন্ড হয়ে যায়। ১০ বছরের ভালবাসার সফল পরিসমাপ্তি ঘটে ২০০৫ সালে বিয়ের মাধ্যমে। আরিফ নর্থ সাউথ থেকে পড়ে ব্যবসা করে, বনানীতে একটা গাড়ির শো-রুম আছে। গাড়ি ইমপোর্ট করে জাপান-ইংল্যান্ড থেকে। এছাড়া ঢাকা রিপাবলিক কাপড়ের রিটেইলের একটা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর। ওদের পারিবারিক ব্যবসা চট্রগ্রামেও আছে। আরিফ খুবই সাপোর্টিভ! এক্ষেত্রে আমি খুবই লাকি। আমাদের তিন মেয়ে। বড় মেয়ে ক্লাস ফোরে পড়ে, নাম  আরনাভাজ গাজী ইসলাম; মেজ মেয়ের নাম অরিসা গাজী ইসলাম, পড়ে ক্লাস টু-তে আর ছোটটা আরিয়া গাজী ইসলাম, তাকে প্লে গ্রুপে ভর্তি করে দিয়েছি। তিনজনই সানবিমসে পড়ে। অনেক হেল্প করেন আমার শ্বশুর বাড়ির সবাই। তারা খুবই আন্ডারস্ট্যান্ডিং এবং প্রাউডফুল যে, বউ ব্যারিস্টার।

সুপ্রিম কোর্টে সিনিয়র  প্রয়াত মাহমুদুল ইসলাম ও প্রবীর নিয়োগী স্যারের সঙ্গে ব্যারিস্টার আনিতা..


রাইজিংবিডি : আপনার আগামীর পরিকল্পনা কী ?

ব্যারিস্টার আনিতা গাজী : আমি এভাবেই এগোতে চাই। আমার নিজের চেম্বারের বয়সও দেখতে দেখতে ৯ বছর হয়ে গেল। ভবিষ্যতে নিয়োগী স্যারের সঙ্গে থেকে এভাবেই এগোতে চাই। থিংক লিগ্যাল, এলসিএলআর- এগুলো নিয়ে অনেকদূর যেতে চাই। অপরচুনিটি যদি থাকে নিশ্চয়ই পাবলিক ইন্টারেস্টে আরো মামলা করবো। বিশেষ পরিস্থিতিতে মামলা করার সাহস থাকে না বা পথ খুঁজে পায় না, এমন মানুষ যারা আমি তাদেরকে হেল্প করতে চাই। মেডিক্যাল এড়িয়াতে আমি যদি কাউকে কখনও হেল্প করতে পারি আমি ডেফিনিটলি করবো। কোর্টে আসা যাওয়ার মধ্যে যখন আমি গাড়ির জানালা দিয়ে বাইরে তাকাই কতগুলো বয়স্ক মানুষ বা মহিলা যারা মানসিক ভারসাম্যহীন তাদেরকে দেখে খুব খারাপ লাগে। আর যখনই কোন জিনিস খারাপ লাগে তখনই আমি চেষ্টা করি কিছু করতে। কোর্টের প্র্যাকটিসে  আমি  অভিয়াসলি থাকতে চাই, করপোরেট কাজটাও ইনজয় করি। এর মাঝে আবার ৩০ ভাগ টাইম আমি নন প্রফিট ওয়ার্কে দেই। ভবিষ্যতেও এভাবেই চলতে চাই।

রাইজিংবিডি : আইন পেশায় নবাগত কেউ যদি আপনার কাছে পরামর্শ চায়, সেক্ষেত্রে আপনি কি বলবেন ?

ব্যারিস্টার  আনিতা গাজী : যদি আমাকে কেউ জিজ্ঞেস করে ইয়াং লইয়ারদের জন্য কি পরামর্শ তখন বলবো, সেটা হচ্ছে যদি অপরচুনিটি থাকে তাহলে এলএলএম’টা করা উচিত। যদিও আমাদের ইউনিভার্সিটিতে সব সময় একটি কথা বলতো, প্র্যাকটিস করার জন্য এলএলএম করার দরকার নেই। যারা একাডেমিক হতে চাও তারা এলএলএম করো। এটা হয়তো ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রে রাইট ছিল। বাংলাদেশে এসে খুবই অনুভব করি এলএলএম’টা করা উচিত ছিল।

আরেকটি কথা, সাবমিশন কিন্তু একটা আর্ট। কখন বেশি বলে ফেলছি সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখতে হবে। জাজ সাহেবের মুড, উনি কতটুকু শুনতে চাচ্ছেন, ওনার প্রশ্নটা কি- এসব ব্যাপারে শতভাগ মনোযোগ দিতে হবে।

রাইজিংবিডি : সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

ব্যারিস্টার আনিতা গাজী : আপনাকে এবং রাইজিংবিডির পাঠকদেরকে ধন্যবাদ।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৮ নভেম্বর ২০১৭/মেহেদী/শাহনেওয়াজ

Walton Laptop
 
     
Walton