ঢাকা, সোমবার, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

ময়মনসিংহে এশিয়ার সর্ববৃহৎ মৎস্য জাদুঘর

: রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৩-০৫-২৭ ১০:০৩:৩০ এএম     ||     আপডেট: ২০১৩-০৫-২৭ ২:৩৭:৪৬ পিএম

আবু সালেহ মো: মূসা
ময়মনসিংহ, ২৭ মে : এশিয়ার সর্ববৃহৎ মৎস্য জাদুঘর ময়মনসিংহে।

এখানে স্বাদু পানির কয়েকশ’ প্রজাতির মাছের ফসিলসহ রয়েছে হাজার বছরের পুরনো বিলুপ্ত প্রজাতির ফসিল। ফরমালিনের দ্রবণে বড় বড় কাচের সিলিন্ডারে সংরক্ষিত আছে এসব।

এশিয়ার সর্ববৃহৎ মৎস্য জাদুঘর  ২০০৯ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মোস্তফা আলী রেজা হোসেন ‘ফিশ মিউজিয়াম এন্ড বায়োডাইভার্সিটি সেন্টার (এফ.এম.বি.সি.)’ স্থাপন করেন ।

মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ থেকে এক কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত জাদুঘরটি। যা সংগ্রহ ও বৈচিত্র্যের দিক থেকে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় সর্ববৃহৎ।

পরিচালক প্রফেসর ড. মোস্তফা আলী রেজা হোসেন জানান, বাংলাদেশের মাছ কেন্দ্রিক সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরা এবং বিপন্ন প্রজাতির মাছগুলোর ব্যাপারে জনমনে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই মৎস্য জাদুঘরের মূল উদ্দেশ্য।

জাদুঘরে স্বাদু পানির প্রায় ২৮০ প্রজাতিসহ রয়েছে হাজার বছরের বিলুপ্ত প্রজাতির ফসিল, যা চারটি সুপরিসর গ্যালারীতে সাজানো হয়েছে। ফরমালিনের দ্রবণে বড় বড় কাচের সিলিন্ডারে এই সমস্ত মাছ সংরক্ষিত আছে। প্রতিটি মাছের উপরে দেওয়ালের সাথে টাঙানো আছে নয়নাভিরাম আলোকসজ্জা। আলোকসজ্জার সাথে বৈজ্ঞানিক নামসহ মাছের যাবতীয় বর্ণনা দেয়া রয়েছে, যাতে করে শিক্ষার্থীরা এখান থেকে পরিপূর্ণ জ্ঞান নিতে পারে।

গ্যালারীগুলোর বাইরে প্রথমেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে আবহমান কাল ধরে এদেশের জেলেদের ব্যবহার্য জিনিসপত্র। পূর্ব পাশের গ্যালারীতে সিপ্রিনিফরমিস নামে বাংলাদেশের স্বাদু পানির মাছের বর্গ রাখা হয়েছে। এই বর্গে রয়েছে কার্প, পুটি, গুতুম, রুই, কাতলা, মৃগেল, মলা, চেলা, কালিবাউস, বউ, রাণী মহাশোল নামের প্রভৃতি মাছ। এই বর্গে ৮৭ প্রজাতির  মাছের মধ্যে সিপ্রিনিফরমিস গ্যালারীতে ৮১ প্রজাতির মাছ সংরক্ষিত আছে।

বামপাশের গ্যালারীটি সিলুরিফরমিস বর্গের যা ক্যাটফিশ নামে পরিচিত। এই মাছের বিড়ালের গোঁফের মত বার্বেল থাকায় এদের এইরূপ নামকরণ হয়। এদের মধ্যে রয়েছে বোয়াল, মাগুর, শিং, টেংরা, আইর, পাবদা, বাতাসি, বাঘাইর প্রভৃতি প্রজাতি। এই বর্গে ১৩ পরিবারের ৬১ প্রজাতির মধ্যে ৫৩ টি প্রজাতি সিলুরিফরমিস গ্যালারীতে রয়েছে।

পার্সিফরমিস নামের এই গ্যালারীতে পার্সিফরমিস বর্গের ২২ টি পরিবারের ৫৪ টি প্রজাতি স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে কই, চান্দা, বেলে, খলসে, ভেটকি, টাকি, শোল, পারশ অতি পরিচিত।

এই প্রধান তিনটি বর্গ ছাড়াও বাংলাদেশে স্বাদু পানির আরো ৬১ টি প্রজাতির ৫০ টি প্রজাতি ফ্রেশ ওয়াটার ডলফিন ও ফিশেস নামক গ্যালারীতে সাজানো রয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে ইলিশ, চাপিলা, কাকিলা, কাচকি, ফ্যাসা. চিতল, ফলি, কানপোনা, পটকা, বাইম, ইত্যাদি। এছাড়াও এই গ্যালারীতে আরো আছে  ২৮ বছর বয়সের ১৯৯ সেন্টিমিটারের লম্বা শুকুরের কংকাল ও সামুদ্রিক কাঁকড়া।

অ্যানসিয়েন্ট সিয়াস এন্ড মিডিয়া রুম নামের এই গ্যালারীতে রয়েছে প্রাগৈতিহাসিক যুগের বিলুপ্ত মাছ ও অন্যান্য প্রাণীর জীবাশ্মের প্রতিলিপি। রয়েছে কোটি কোটি বছর আগে বিলুপ্ত ও অধূণা প্রাণীর কংকাল। স্টারলি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহায্যে যুক্তরাজ্য থেকে এই চমৎকার জীবাশ্মগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে। এই গ্যালারীতে ৪০টি জীবাশ্ম ও কংকাল রয়েছে।  

বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ এই জাদুঘরে শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও দর্শনার্থীদের জন্য শুক্র ও শনিবার সকাল ১০ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকে। মাছ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক ধারণা দিতে যেহেতু এই জাদুঘর তৈরী,  তাই এই জাদুঘরে প্রবেশের জন্য দর্শনার্থীদের কোন প্রকার টিকিট সংগ্রহ করতে হয় না। এই গ্যালারীতে জীব জগতের বিবর্তন, প্রাকৃতিক ইতিহাস নির্ভর ডকুমেন্ট্রি ও ৩-ডি শিক্ষামূলক ছবি দেখার জন্য অডিও ভিজ্যুয়াল ব্যবস্থাও রয়েছে।


রাইজিংবিডি/শাহ মতিন টিপু/কেএস


 



Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC