ঢাকা, রবিবার, ৭ বৈশাখ ১৪২৬, ২১ এপ্রিল ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

‘শেখ হাসিনার বিকল্প আওয়ামী লীগে নেই’

রেজা পারভেজ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০২-১৬ ২:০৭:৪৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০২-১৭ ১০:৪৫:২৫ এএম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : নতুন প্রজন্মকে জায়গা ছেড়ে দিতে চলতি মেয়াদ শেষে স্বপদ থেকে সরে দাঁড়ানোর যে ইচ্ছার কথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তাতে তার দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সমর্থন পাচ্ছেন না তিনি।

শনিবার দুপুরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এই বিষয়ে বলেন, তিনি প্রায়ই একথা বলেন, বয়স হয়েছে আর কতো? তিনি এমন ইচ্ছার কথা আগেও অনেকবার বলেছেন। কিন্তু নেতা-কর্মীদের চাপে ঘোষণা দিয়ে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে পারেননি।

‘আসলে বাস্তবতা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিকল্প এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগে নেই। দেশের সমসাময়িক রাজনীতিতেও তার বিকল্প নেই। কারণ ৭৫’পরবর্তী গত ৪৩ বছরে তাকে কেউ অতিক্রম করতে পারেনি। তিনি নিজেই নিজেকে অতিক্রম করে গেছেন।’

রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, ‘পাঁচ বছর পর প্রধানমন্ত্রীর বয়স হবে ৭৭ বছর। ওই বয়সেও এসব চিন্তা করার সুযোগ নেই। কারণ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ ৯৩ বছর বয়সে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। সুতরাং ৭৭ বছর বয়সে তিনি দায়িত্ব নিতে অক্ষম হবেন সেটা ভাবার কারণ নেই।’

সম্প্রতি ডয়চে ভেলের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি ভবিষ্যতে তরুণদের সুযোগ করে দিতে চান৷ তাই তিনি চান, বর্তমান ও টানা তৃতীয় মেয়াদটিই যেন হয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার শেষ মেয়াদ৷

এক মাস আগেই চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ তার দল আওয়ামী লীগ ও এর জোটের দলগুলো মিলে এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৯৬ শতাংশ আসন জিতেছে৷ টানা তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক সম্প্রচার মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এটা নিশ্চিত করেছেন যে, পরবর্তী মেয়াদে আর প্রধানমন্ত্রীর পদের জন্য চেষ্টা করতে চান না৷

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানো প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের দলের ওই অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, ‘তিনি (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) ছাড়তে চাইলেও নেতা-কর্মীরা তাকে ছাড়বে কি না-সেটিই ভাবতে হবে।’

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থানের কারণে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমা চাইলে আওয়ামী লীগ সাধুবাদ জানাবে কি না-এমন প্রশ্নে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, এখনো তারা ক্ষমা চায়নি। বিষয়টি এখনো গুজব-গুঞ্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। অফিসিয়ালি কোনো ঘোষণাও হয়নি। তবে যাই হোক না কেন একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে দায়ে যুদ্ধপরাধীদের বিচারের যে প্রক্রিয়া চলছে সেটি বন্ধ হবে না।

জামায়াতে ইসলামী নতুন নামে আসলে বিষয়টিকে আওয়ামী লীগ কীভাবে দেখবে-জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নতুন বোতলে যদি পুরোনো মদ আসে তাহলেও তো কোনো নীতিগত পার্থক্য থাকল না। আগে দেখতে হবে। এটা নানাভাবে মিডিয়ায় আসছে। এটা আরো পরিষ্কার হওয়া দরকার।’

জামায়াত নিষিদ্ধ হতে পারে, এই ধারণা থেকেই কি দলটির বিভিন্ন কৌশলের অংশ হিসেবে এই অবস্থান নিয়েছে-এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘হতে পারে। ৪৭ বছর পর এসে কেন একাত্তরে ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি এসেছে সেটিও ভেবে দেখতে হবে।’

বিএনপি বেসামাল, তাই অসংলগ্ন প্রলাপ : নির্বাচন  ও আন্দোলনে শোচনীয় হারের কারণে বিএনপির নেতারা এখন বেসামাল কথাবার্তা বলছেন বলে মন্তব্য করেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ব্যর্থতা তাদের বেপরোয়া করেছে আর হতাশার চরমে পৌঁছে দিয়েছে। এজন্য তারা বেসামাল হয়ে পড়েছে। বেসামাল মানুষ যেমন কষ্টে যা খুশি তাই বলে, তেমনি তারাও (বিএনপি নেতারা) অসংলগ্ন প্রলাপ করছে।’

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ভারতের কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের কনভয়ে ভয়াবহ হামলার পর সেদেশের সরকার ও বিরোধী দলসহ সব রাজনৈতিক দলের একই প্লাটফর্মে থেকে একই সুরে কথা বলার বিষয়টি জাতীয় ঐক্যের প্রতীক বলে মনে করেন ওবায়দুল কাদের।

বিষয়টি তাকে ভাবিয়ে তুলেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভারতে একটি ঘটনার পর সরকার বিরোধী দল একই সুরে একইভাবে কথা বলছে। কিন্তু জাতি হিসেবে আমরা কেনো বিভিন্ন ইস্যুতে এক হয়ে কথা বলতে পারি না। হলি আর্টিজানে, শোলাকিয়ার ঘটনার পরও আমরা একই সুরে কথা বলতে পারিনি। এই প্রশ্ন এখন আমাদের সবার মধ্যে হচ্ছে।

তিনি ভারতের ওই জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভারতের মানুষের কষ্টের প্রতি সহানুভূতি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে বিএম মোজাম্মেল হক,  আফজাল হোসেন, আবদুর সবুর প্রমুখ উপস্থি ছিলেন।





রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/রেজা/ইভা

Walton Laptop
     
Walton AC
Marcel Fridge