ঢাকা     শনিবার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ১১ ১৪২৭ ||  ০৮ সফর ১৪৪২

আমার দেখা টোকিও (পর্ব-৫)

পি.আর. প্ল্যাসিড, জাপান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৩:৪৭, ১০ জুন ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
আমার দেখা টোকিও (পর্ব-৫)

৫. টোকিও মসজিদ: আমার জাপান আসার প্রথমদিকের কথা যদি বলি তখন ইসলাম ধর্ম পালনের তেমন সুযোগ বা ব্যবস্থা চোখে পড়েনি।  দিন যত যাচ্ছে ততই জাপানে ইসলাম ধর্ম প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধি হচ্ছে।

আমি নিজে ‘ইসলাম ইন জাপান’ নামে একটি কাজ শুরু করেছিলাম।  মাঝপথে নানা কারণে কাজটি আপাতত স্থগিত। এই কাজটি করতে গিয়ে জাপানের বিভিন্ন প্রান্তে আমাকে যেতে হয়েছে।  কথা বলতে হয়েছে বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের সাথে।  তখন টোকিওর পুরাতন এবং জাপানের সবচেয়ে বড় মসজিদে আমার আসা যাওয়া ছিল নিয়মিত।

জাপানের সবচেয়ে বড় মসজিদ হলো টোকিও মসজিদ। টোকিওতে অবস্থিত বলেই এই মসজিদের নামকরণ এমন হয়েছে কিনা—তা জানা সম্ভব হয়নি।  তখনকার সময় মসজিদের ইমামের সাথে আমার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। ইমামকে প্রশ্ন করেছিলাম এই মসজিদকে টোকিও মসজিদ বলা হয়, এটি কী তাদের অফিসিয়াল নাম কিনা? তিনি উত্তরে হ্যাঁ বললেও নামটি টোকিও মসজিদ হলো কেন—এর কারণ বলতে পারেননি। পাশাপাশি বলেছিলেন, এই মসজিদের আরো নাম রয়েছে। টোকিও কামি বা টোকিও জামি মসজিদ নামেও ডাকা হয় এই মসজিদকে। 

মসজিদটি তুর্কিদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এবং পরিচালিত। এটি টোকিওর শিব্যুইয়া ওয়ার্ডে অবস্থিত।  ১৯৩৮ সালে টোকিওতে স্কুল করার মধ্য দিয়ে বর্তমান এই মসজিদের যাত্রা শুরু হয়েছিল। এরপর প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আবদুর রশিদ ইবরাহিহের প্রস্তাবে এটিকে মসজিদ করা হয়। তিনিই ছিলেন এই টোকিও মসজিদের প্রথম ইমাম।
 


১৯৯৮ সনে তুর্কির ধর্মীয় মন্ত্রণালয়ের পরিচালনায় আর্কিটেক্ট মোহাররেম হিলমি স্যানাপ এর আঁকা ছবির অনুসরণে নির্মাণ করা শুরু হয়। ৭০ জন আর্কিটেক্ট এর সহযোগিতায় নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয় ২০০০ সালে।  মসজিদে ব্যবহার করা মার্বেল পাথর, সব তুর্কি থেকে আমদানি করা হয়।  মসজিদ নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল ১.৫ বিলিয়ন ইয়েন। মসজিদের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় তুর্কির সময় অনুসারে ৩০ জুন (জাপান ১ জুলাই)।

৭৩৪ বর্গ মিটার জমির ওপর একটি ব্যাজমেন্টের ওপর নির্মিত এই মসজিদের উপরের ভেতরে, বাইরে ও নিচে সর্বমোট ১৪৭৭ বর্গ মিটার জায়গাতে নামাজ আদায় করার জন্য ব্যবহার করা হয়। এর মূল গম্বুজের উচ্চতা ২৩.২৫ মিটার। মসজিদের ভেতরে নামার আদায়ের যে স্থান তার সাথে সংযুক্ত রয়েছে তুর্কির কালচারাল সেন্টার।

মসজিদের ভেতর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সেমিনারের আয়োজন করা হয়।  প্রতি বছর রমজান মাসে বিশেষ করে ইফতারের আয়োজন করা হয় এখানে। যেখানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়, আগে নিয়মিত দাওয়াত পেতাম অংশগ্রহণের। যে কারণে আমিও উপস্থিত হতাম বিভিন্ন দেশের ছাত্র সাংবাদিক বা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সাথে পরিচয় হতে।

সময় পেলেই টোকিও মসজিদে গিয়ে ইমামের সঙ্গে গল্প করতাম। তুর্কিদের সম্পর্কে এবং সেই দেশে ইসলাম ধর্ম পালন সম্পর্কে জানার চেষ্টা করতাম।  

টোকিও মসজিদে অনুমোদন সাপেক্ষে যেকোনও লোকের প্রবেশাধিকার রয়েছে।  মসজিদে আসলে স্থানীয় ইমামের কাছে শিয়া-সুন্নির বিষয়টি নিয়ে আমি আলোচনা করতাম বেশি।  কারণ ওরা প্রকাশ্যে বলতো আমরা সুন্নি ইসলাম।  আমার আগ্রহ দেখে ওরা সব সময় আমার কাছে জানতে চাইতো আমি তাদের দেশে ঘুরতে যেতে আগ্রহী কি না। আগ্রহী হলে কোনও গ্রুপের সাথে আমাকে তুর্কি যাবার ব্যবস্থা করে দিবে।  মসজিদের অধীনে থাকা কালচারাল সেন্টার থেকে জাপানি পর্যটকদের গ্রুপ করে তাদের দেশে ভ্রমণে যেতে আগ্রহী করে থাকে নিয়মিত।  যদিও আমার তুর্কি যাওয়া হয়নি কখনো।   জাপানে যারা বসবাস করছেন তাদের মধ্যে যারা এখনও এই মসজিদটি দেখেননি তাদের এবং জাপানে বেড়াতে আসা বাংলাদেশিদের জন্য এটিও একটি দর্শনীয় স্থান।

লেখক: জাপান প্রবাসী সাংবাদিক

পড়ুন

আমার দেখা টোকিও (পর্ব-৪)

আমার দেখা টোকিও (পর্ব-৩)

আমার দেখা টোকিও (পর্ব-২)

আমার দেখা টোকিও (পর্ব-১)

 

ঢাকা/সাইফ

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়