ঢাকা, শনিবার, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২৩ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

‘জলোচ্ছ্বাস হলে যাবো কোথায়’

উপজেলা সংবাদদাতা : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-০৯ ৬:০৫:৫৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-০৯ ৭:২৫:০৭ পিএম

ধেয়ে আসছে ঘূর্নিঝড় 'বুলবুল'। এটি এখনো পর্যন্ত যতটা না ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে, তার চেয়ে বেশি আতঙ্ক বিরাজ করছে মানুষের ভেতর। বলছিলাম, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চারদিকে নদী বেষ্টিত দ্বীপ চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের মানুষের কথা।

ইতোমধ্যেই পায়রা বন্দরসহ তৎসংলগ্ন এলাকায় ১০ নম্বর মহা-বিপদ সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শুক্রবার সকাল থেকে এখানে মৃদু বাতাসের সঙ্গে থেমে থেমে হালকা মাঝারি বৃষ্টি অব্যাহত আছে। বৃষ্টিপাত এবং গুমোট মেঘাচ্ছন্ন আকাশের কারণে মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। যদি সত্যি সত্যি ৫-৭ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হয়, তাহলে পুরো ইউনিয়নটিই তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে চারদিক নদী হওয়ার কারণে রাঙ্গাবালীর সাথে স্থলপথ নেই। এখানে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হলো লঞ্চ, ট্রলার।

এখানকার মানুষকে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। মহা-বিপদ সংকেত জারির পরে প্রশাসন এবং সিপিপির স্বেচ্ছা-সেবকদের সহায়তায় ঝূঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারী মানুষদের আশ্রয় কেন্দ্রের দিকে নিয়ে আসা হচ্ছে।

চালিতাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাম সাইক্লোন সেল্টারে আসা হেলো সরকার বলেন, ‘আমরা দুপুর ২টার আগে বাড়ির সবাইরে নিয়া আশ্রয় কেন্দ্রে আইছি। শুনছি নাকি ঘূর্নিঝড় আজ (শনিবার) সন্ধ্যায় আইবে। তাই আগে ভাগে আইয়া পরছি।’

পুষ্প বেগম বলেন, ‘হুনছি আইজগো নাকি ঘূর্নিঝড় সন্ধ্যায় পায়রা বন্দর দিয়া এ দিকে আইবে। তাই আগে ভাগে আশ্রয় কেন্দ্রে চইলা আইছি। এমনে আমরা ভয়ের মাঝে আছি। জলোচ্ছ্বাস হলে যাবো কোথায়! আমাদের ২নং ওয়ার্ডে নেই কোনো সাইক্লোন সেল্টার, নেই কোনো বেরিবাঁধ। হে জন্য আগে ভাগে আইছি।’

চালিতাবুনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদ বলেন, ‘প্রতিটি স্থানে মাইকিং করা হচ্ছে। আমি প্রতিটি আশ্রয় কেন্দ্র মনিটরিং করছি। আর আমার তরফ থেকে প্রতিটি আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবার দেয়া হচ্ছে।’

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসফাকুর রহমান জানান, ‘পায়রা বন্দর সংলগ্ন উপকূলীয় এ অঞ্চলে আবহাওয়া অধিদপ্তর ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারির পরে প্রশাসন এবং সিপিপির স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারী মানুষদের সরিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রতিটি গ্রুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভা করা হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এছাড়াও দুর্যোগ প্রস্তুতি, দুর্যোগ মোকাবিলায় এবং দুর্যোগ পরবর্তী উদ্ধার কাজ সহায়তার জন্য সকল সিপিপি সদস্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া, যারা চরাঞ্চলে রয়েছেন, তাদেরকে আমরা স্পিডবোড ও ট্রলার যোগে গিয়ে তাদেরকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসা হচ্ছে।’


চালিতাবুনিয়া (পটুয়াখালী)/ওমর সানি/হাকিম মাহি

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন