ঢাকা     শনিবার   ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

ত্রাণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ক্ষোভ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:০৬, ১৩ মে ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
ত্রাণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ক্ষোভ

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় মাশরাফি, রিয়াদ, তামিম ও মুশফিকের টাকায় কেনা ত্রাণ ছিনতাই ও হামলার ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন বাংলাদেশ টি-২০ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাহমুউল্লাহ রিয়াদ। দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে শাস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ‘টিম বয়’ নাসির মিয়া করোনা দুর্যোগে মাশরাফি, রিয়াদ, তামিম ও মুশফিকের সহযোগিতায় তার নিজ গ্রাম বাঙ্গালকান্দি ও পার্শ্ববর্তী সৈয়দ পাড়ায় ২০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ দেওয়ার উদ্যোগ নেন। গত ৪ মে বাঙ্গালকান্দি গ্রামে কিছু মানুষকে ত্রাণ দিয়ে সৈয়দ পাড়ায় ত্রাণ দিতে গেলে তাদের ওপর হামলা ও ত্রাণ ছিনতাই করা হয়। এতে নাসির মিয়া ও তার বড় ভাই বাবুলসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা যখন এই দুর্যোগ মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সহযোগিতার চেষ্টা করছি, তখন কেউ কেউ আমাদের কাজে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এতে আমরা হতাশ।’

তিনি বলেন, ‘নাসির ২০-২২ বছর ধরে ক্রিকেট বোর্ডে চাকরি করছে। সে অত্যন্ত নম্র-ভদ্র। সবার আদরের। নাসিরের পরিবারের ওপর হামলার পরও তাদেরকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা মোটেও কাম্য নয়।’

নাসির মিয়া বলেন, ‘লংগাইর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল-আমিন বিপ্লবের অনুমতি না নিয়ে ত্রাণ দেওয়ায় চেয়ারম্যানের লোক রফিক, আপন, খাইরুল, রুবেল ও রাব্বিসহ ৮-১০ জন আমাদের ওপর হামলা করে ৪৫ প্যাকেট ত্রাণ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে ছাগল চুরির অপবাদ দিয়ে আমাদের সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়।’

এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করতে গেলে প্রথমে অভিযোগ নেয়নি পুলিশ। পরে মাশরাফি ও মাহমুদউল্লাহ ভাইয়ের সহযোগিতায় মামলা করেছি।

নাসিরের বড় ভাই বাবুল মিয়া হামলায় আহত হয়ে এখন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি জানান, হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা করায় তাদের বিরুদ্ধে ছাগল চুরির অভিযোগ করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা প্রকাশ করে মানহানি ঘটাচ্ছে চেয়ারম্যানের লোকজন।

লংগাইর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মাহবুব আলম বলেন, ‘সন্ধ্যার পর ঘটনাটি ঘটেছে। যখন ত্রাণ ছিনতাই ও হাতাহাতির সময় মাশরাফি, তামিম, রিয়াদ ও মুশফিকের নাম আসলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।’

লংগাইর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল-আমিন বিপ্লব বলেন, ‘ওসি কিংবা ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি ছাড়া রাতের আঁধারে ত্রাণ দেওয়া নিষেধ। তাই এমন হট্টগোল হয়েছে। ত্রাণ দেওয়ার সময় ছাত্রদলের এক নেতা নাসিরের সাথে অংশ নেওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।’

হামলাকারীরা আপনার লোক কি না, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নৌকা প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান হয়েছি। তাই ইউনিয়নের সবাই আমার লোক তথা সরকারের লোক।’ পাগলা থানার ওসি শাহিনুজ্জামান খান জানান, ত্রাণ নিয়ে হামলার ঘটনায় সরেজমিন তদন্ত করে তিনি মামলা নিয়েছেন। এখন আসামি ধরার চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, ‘নাসিরের ভাই বাবুলের বিরুদ্ধে ছাগল চুরির একটি অভিযোগ এসেছে। সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তাদের হুমকি দেওয়ার বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আহমার উজ্জামান বলেন, ‘ক্রিকেটারদের ত্রাণ ছিনতাইয়ের অভিযোগ সঠিক না। রাতের আঁধারে প্রশানকে না জানিয়ে ত্রাণ দিতে গেলে কেউ আক্রমণের শিকার হলে তাতে কী করার থাকে। যিনি ত্রাণ বিতরণ করেছেন তিনি কাউকে জানাননি যে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের পক্ষে ত্রাণ দিচ্ছেন।’

 

ময়মনসিংহ/মিলন/রফিক

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়