ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ আষাঢ় ১৪২৭, ০৯ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

পাহাড়ে আলো দেখাচ্ছে কুকুরের খামার

এস বাসু দাশ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৬-০৪ ৮:২৪:৩৭ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৬-০৪ ৯:২১:০২ এএম

ব্যতিক্রম ও ভিন্নধর্মী উদ্দ্যোগ নিয়ে কুকুরের খামার গড়ে তুলে পাহাড়ে আশার আলো দেখাচ্ছেন রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পাহাড়ি যুবক বড় চাকমা।

২০১৬ সালে জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলা সদর থেকে সাত কিলোমিটার দূরে রুপকারি ইউনিয়নে মগবান গ্রামে খামারটি শুরু করেন তিনি। খামারে এখন ছয় প্রজাতির ছোট-বড় ২৬টি কুকুর রয়েছে। শখের বশে করা খামারটির নাম ‘চাকমা ক্যানেল এন্ড এগ্রো ফার্ম’। কুকুর ছাড়াও খামারটিতে বিভিন্ন প্রাণি রয়েছে।

কুকরের খামারের উদ‌্যোক্তা বড় চাকমা জানান, ছোট কাল থেকে কুকুরের প্রতি ভীষণ দুর্বলতা ছিল তার। শুরুতে কয়েকটি কুকুর নিয়ে খামারের যাত্রা শুরু করেন।

বড় চাকমা বলেন, ‘‘২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরের দিকে কুকুরের খামারের কাজ শুরু করি। এরপর ধীরে ধীরে খামারটি বড় করি। এর পাশাপাশি ছাগল, দেশি ও বন মোরগ, শুকুর এবং টার্কি পালন করছি। এখন ফার্মে ছয় জাতের কুকুর রয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়ান জাতের ককেশিয়ান শেফার্ড ও আলাবাই, জার্মান শেফার্ড, পাকিস্তানি জাতের বোলি কুত্তা, মুদহল হাউন্ডস ও দেশীয় সরাইল।

‘বিভিন্ন জাতের কুকুরের মধ‌্যে জর্জিয়া থেকে তিনটি, রাশিয়া থেকে দুটি, পাঞ্জাবের হরিয়ানা থেকে দুটি, কর্নাটকের মধুল থেকে তিনটি, ঢাকা থেকে দুটি এবং সরাইল থেকে দুটি কুকুর সংগ্রহ করেছি।”

প্রায় এক একর জমিতে নির্মিত খামারটি। ধীরে ধীরে খামারে প্রাণির সংখ‌্যা বাড়তে থাকলে ছোট ভাইসহ ছয় জন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
 

বড় চাকমা আরও বলেন, ‘খামারের পোষা কুকুরের বাচ্চা এবং প্রতিটি কুকুরের দাম প্রায় ৭৫ হাজার থেকে দুই লাখ টাকার মতো। বর্তমানে খামারটিতে প্রায় এক কোটি টাকার কুকুর আছে। খামারটি করার পর অনেক বড় বড় কোম্পানি এখান থেকে কুকুর সংগ্রহ করে নিয়ে যায়।’

বাঘাইছড়ির স্থানীয় সুদীপ্ত চাকমা বলেন, ‘সরকার যথাযথ উদ্দ্যেগ গ্রহণ করলে পাহাড়ে কুকুরের খামারের মাধ্যমে অনেক বেকার তরুণ স্বাবলম্বী হবে।’

ককেশিয়ান শেফার্ড ও আলাবাই রাশিয়ার সৈন্যরা বন্দি পাহারার কাজে ব্যবহার করে। এছাড়াও ককেশাস অঞ্চলে ভেড়ার খামারিরা নেকড়ের কবল থেকে ভেড়াকে রক্ষার জন্য ককেশিয়ান শেফার্ড কুকুর ব্যবহার করে। এই দুই জাতের কুকুর খুবই হিংস্র।
 


পাকিস্তানি জাতের বোলি কুকুরের মূল আবাসস্থল পাঞ্জাব। ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির পর এই কুকুরগুলোকে ইন্ডিয়ান ম্যাসটিফ ও পাকিস্তান ম্যাসটিফ নামে ডাকা হয়। আর সরাইল হার্ন্ট বাংলাদেশি জাতের হলেও বর্তমানে প্রায় বিলুপ্তির পথে। এ কুকুরটি খুবই ক্ষিপ্তগতি সম্পন্ন ও সাহসী।

চট্টগ্রাম বন্য প্রাণি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তা আবু নাসের মোহাম্মদ ইয়াছিন নেওয়াজ বলেন, ‘কুকুর খামার গড়ার বিষয়ে সরকারের কোনো নীতিমালা নেই। এ ধরনের উদ্দ্যেগ গ্রহণ করে কেউ আবেদন করলে আমরা বিষয়টি বিবেচনার জন্য ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাব।’



বান্দরবান/সনি

       
 

আরো খবর জানতে ক্লিক করুন : রাঙামাটি, চট্টগ্রাম বিভাগ