ঢাকা, বুধবার, ৩০ আষাঢ় ১৪২৭, ১৫ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

সঞ্চয় তুলে সংসার চালাচ্ছেন সাভারের মধ্যবিত্তরা

আরিফুল ইসলাম সাব্বির : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৬-৩০ ৮:০১:৩১ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৬-৩০ ৮:০১:৩১ এএম

মহামারি নভেল করোনাভাইরাসের কারণে সারাদেশের মতো সাভার, ধামরাই ও আশুলিয়ায় সংকটে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত—সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। বেতন কমে যাওয়া, ব্যবসা বন্ধ হওয়াসহ নানাভাবে প্রায় সবারই আয় কমে গেছে। দীর্ঘ সময়ের অচলাবস্থার কারণে মধ্যবিত্তদের অনেকেই বিত্তশালী স্বজনদের কাছে হাত পাতছেন। কেউ কেউ সংসারের খরচ মেটাতে সঞ্চয় ভেঙে ব্যয় করছেন।

গত কয়েকদিন এই তিন উপজেলার বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিভিন্ন ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই মেয়াদ পূরণ না হলেও এফডিআর, ডিপিএসের টাকা তুলে ফেলছেন। এছাড়া নতুন করে সঞ্চয় জমা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন অনেক গ্রাহক। নতুন করে এফডিআর করাও কমে গেছে।

সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা পোশাক শ্রমিক নেতা খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের বড় অংশের সঞ্চয় ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে অনেকে বাড়িভাড়া, ছেলে-মেয়ের স্কুল-কলেজের বেতন, গৃহশিক্ষকের বেতন, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির বিল বকেয়া পড়ে গেছে। এতে আত্মীয়-স্বজনের কাছে হাত পাতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমনকি স্থানীয় পর্যায়ে চড়া সুদে ঋণদাতাদের কাছে যেতেও বাধ্য হচ্ছেন অনেকে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনার কারণে কয়েক মাস হলো আয় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এই মুহূর্তে আমানত ভেঙে খাওয়া ছাড়া তাদের বিকল্প নেই।

সাভারের ব্যবসায়ী আমিন চৌধুরী বলেন, গেল কয়েকমাস ধরে ব্যবসা একপ্রকার বন্ধ। যা বিক্রি হয়, তাতে দিনের খরচও উঠছে না। সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। সঞ্চয় যা ছিল, তা খরচ করে ফেলছেন। একটি ডিপিএস দুই বছর পর মেয়াদ পূর্তি হতো। সেটা ভেঙে ফেলেছেন। তা দিয়ে এখন সংসারের খরচ চালাচ্ছেন।

একই কথা জানালেন ধামরাইয়ের কাঁচামালের পাইকার জাবেদ আলী। তিনি বলেন, ‘‘বাজারে অল্প অল্প করে জিনিসপত্র আসছে। কিন্তু লোকজন কিনছে কম। ফলে ব্যবসা হচ্ছে কম। কোনোমতে দিনের ব্যয় উঠছে। ব্যাংকের সঞ্চয় তুলে খরচ করছি। এভাবে কতদিন চলতে পারবো জানি না। ধারদেনাও করতে হচ্ছে।’’ 

সাভারের একটি বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, গ্রাহকরা প্রচুর টাকা তুলে নিচ্ছেন। অনেকে নিজের সঞ্চয় ভেঙে ফেলছেন। নতুন করে সঞ্চয় জমা দিচ্ছেন না। মধ্যবিত্তদের উপর একটা চাপ পড়েছে সেটা বোঝা যাচ্ছে।

সাভারের প্রবীণ রাজনীতিক ও সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেগম হাসিনা দৌলা বলেন, নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের রোজগার কমে গেছে। সাভার অঞ্চলেও এর প্রভাব পড়েছে। এতে তাদের জমানো ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে হাত পড়েছে। করোনার প্রভাব আরো দীর্ঘদিন চললে সেই সঞ্চয়ও শেষ হয়ে যাবে। আর করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরও কর্মক্ষেত্র নানা প্রতিবন্ধকতা দেখা দিতে পারে।

তিনি বলেন, সরকারের প্রচেষ্টার সঙ্গে নিজেদেরও কিছুটা মিতব্যয়ী হতে হবে। বিত্তশালীদের ভোগবিলাস কিছুটা কমিয়ে পাশের অসহায় মানুষের খোঁজ রাখতে হবে।

 

ঢাকা/বকুল

       
 

আরো খবর জানতে ক্লিক করুন : ঢাকা, ঢাকা বিভাগ