ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ১৪ ১৪২৭ ||  ১১ সফর ১৪৪২

‘নদীই আমাগো জীবন’

জাহিদুল হক চন্দন || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৩৭, ৮ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
‘নদীই আমাগো জীবন’

‘নদীর মাছ ধরেই আমাগো জীবন চলে, নদীই আমাগো জীবন। নদী থেকে শিকার করা মাছ বিক্রি করেই দিনাতিপাত করতে হয় আমাগো। আর নদী শুকিয়ে গেলে পড়তে হয় বিপাকে। থাকতে হয় অনাহারে-অর্ধাহারে।’

বৃহস্পতিবার বিকেলে আক্ষেপ করে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার জাফরগঞ্জ এলাকার গোপাল হালদার।

এ সময় তিনি বলেন, ‘প্রায় তিন যুগ ধরে পদ্মা-যমুনায় মাছ শিকার করি। খুব ছোট্ট বয়স থেকেই বাবার সঙ্গে পদ্মা-যমুনায় মাছ শিকার শুরু হয়। এখন বাবা আর বেঁচে নেই। লেখাপড়া না জানার কারণে ‍সুযোগ নেই পেশা বদলেরও। তাই বাধ্য হয়েই নদীর সঙ্গে থেকেই করে বেঁচে আছি।’

নদী থেকে শিকার করা মাছ বিক্রি করে এক ছেলেকে অনার্সে পড়াশুনা করাচ্ছেন গোপাল হালদার। মেয়ের বিয়েও দিয়েছেন মাছ বিক্রি করে জমানো টাকায়। অর্থ্যাৎ নদী আর মাছের সঙ্গে তাল মিলিয়েই চলছে তার পরিবার পরিজন।বর্ষাকালে পদ্মা-যমুনায় ভালো মাছ শিকার করা গেলেও বিপাকে পড়তে হয় শুস্ক মৌসুমেও। একদিকে খাল-বিলে পানি না থাকায় মাছ শিকার করা যায় না, অপরদিকে আবার পদ্মা-যমুনায় মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা করে সরকার। তখন বেশ বিপাকে পড়তে হয় বলেও জানান তিনি।

একই এলাকার লক্ষণ হালদার নামে এক জেলে বলেন, ‘এখন মাছ ধরার মৌসুম । জেলেদের জন্য ব্যস্ত সময়। দিন-রাত মিলে নদীর মাছ আরিচা এবং তরা পাইকারি বাজারে বিক্রি করি। নদীতে পানি থাকায় জেলেদের জন্য এখন সুদিন যাচ্ছে।’ 

বাসুদেব হালদার নামে উঠতি বয়সের এক জেলে বলেন, প্রতিটি নৌকায় একটি করে বড় জাল থাকে। লোক থাকে মোট ১৩ থেকে ১৫ জন। মাছ শিকারের পর ওই টাকা সবাই মিলে সমান হারে ভাগ করে নেই আমরা। প্রতি সপ্তাহে একেক জন জেলে এ সময় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা আয় করে।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো.মুনিরুজ্জামান বলেন, জেলায় প্রায় ১৩ হাজার জেলে রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে নদী-নালা এবং খাল-বিলে পানি থাকায় মাছ শিকারে বেশ ব্যস্ত রয়েছে তারা। আর সরকার থেকে যখন নদীতে মাছ শিকার করা নিষেধাজ্ঞা থাকে, তখন জেলেদেরকে নগদ টাকা ও চাল দিয়ে সহায়তা করা হয়। 

মানিকগঞ্জ/সাজেদ 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়