RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ১৬ জানুয়ারি ২০২১ ||  মাঘ ২ ১৪২৭ ||  ০১ জমাদিউস সানি ১৪৪২

মামলার কারণে ৩ বছর ধরে ৩ সড়কের সংস্কার বন্ধ

মেহেরপুর সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৩৬, ৪ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১১:৪২, ৪ অক্টোবর ২০২০
মামলার কারণে ৩ বছর ধরে ৩ সড়কের সংস্কার বন্ধ

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দায়ের করা মামলায় বিগত তিন বছর ধরে সংস্কারহীন মেহেরপুরের ৩টি সড়ক।  ফলে খানাখন্দ ও জলবদ্ধতার কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এই তিন সড়কের পথচারীদের। 

এই ৩টি সড়ক হচ্ছে- মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দী-কাজিপুর সড়ক, নওদাপাড়া-কাজীপুর সড়ক ও আকুবপুর-মোহাম্মদপুর সড়ক। 

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চুয়াডাঙ্গার জাকাউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স ও মেহেরপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের দ্বন্দ্বের জেরে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান থাকায় ১৩ কিলোমিটারের ওই ৩টি সড়ক সংস্কারে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার টেন্ডারের কাজ শুরু হয়নি বিগত প্রায় ৩ বছরেও। 

এতে এলাকার লাখো মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।  তবে মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির মাধ্যমে সংস্কার কাজ শুরু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

গাংনী উপজেলার এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয় বরাদ্দে উপজেলার বামন্দী-কাজিপুর (৫ কিলোমিটার), ১ কোট ১৩ লাখ টাকা ব্যয় বরাদ্দে নওয়াপাড়া-কাজীপুর (৩ কিলোমিটার) এবং ২ কোটি টাকা বরাদ্দে আকুবপুর-মোহাম্মদপুর (৫ কিলোমিটার) সড়ক তিনটি সংস্কারের জন্য ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে টেন্ডার আহবান করা হয়। টেন্ডার পান চুয়াডাঙ্গা জেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জাকাউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স।  কিন্তু টেন্ডারে অসঙ্গতি থাকায় পুনঃটেন্ডার আহবান করে মেহেরপুর এলজিইডি বিভাগ।  ক্ষুব্ধ হয়ে জাকাউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স উচ্চ আদালতে মামলা করেন।  এতে ঝুলে যায় সড়ক সংস্কারের কাজ।

গাংনী উপজেলার বামুন্দীর বাসিন্দা ডা. নূরুল হক বলেন- মেহেরপুর জেলার উত্তর-পূর্ব অংশে কয়েক লাখ মানুষের চলাচল ওই তিনটি সড়ক পথে। এর পাশাপাশি এসব সড়কে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার সাথে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সংযোগ রয়েছে।  ফলে মেহেরপুরে গাংনী উপজেলা ও কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এর বিভিন্নস্থানে ভেঙেচুরে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।  রাস্তার খোয়া আর বিটুমিন উঠে ক্রমেই এই গর্তের সংখ্যা বাড়ছে।  সাথে বাড়ছে জনদুর্ভোগ। এ তিন সড়ক পথে মাঠ থেকে ট্রাকভর্তি সবজি তুলে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য জেলায় নেওয়া হয়।  ভাঙ্গাচোরা সড়কগুলোতে প্রায় আটকে যাচ্ছে বিভিন্ন ধরণের যানবাহন। এসব সড়কে দুর্ঘটনা যেন নিত্যসঙ্গী।  আর এ ৩ টি সড়কের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় বামন্দী-নওদাপাড়া সড়ক।  এ সড়কের বালিয়াঘাট গ্রামের আমেনা ভ্যারাইটি স্টোরের সামনের সড়কে প্রায় ২শ ফুট এলাকা দেখলে মনে হবে একটি পুকুর। 

বামন্দী গ্রামের পরিবহন চালক আলী হোসেন জানান, বামন্দী-কাজিপুর সড়ক হয়ে কিছু বাস কুষ্টিয়ার দৌলতপুর হয়ে ঢাকায় চলাচল করে।  রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে ওই সড়কে বর্তমানে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।  বিকল্প হিসেবে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়ক পথে তাদের কুষ্টিয়ার ত্রিমোহনি হয়ে ঢাকা যেতে হচ্ছে।  এতে প্রায় ৪০  কিলোমিটার পথ বেড়ে গেছে।

বালিয়াঘাট গ্রামের বাসিন্দা সামেনা খাতুন বলেন, রাস্তা দিয়ে ছেলেমেয়েরা চলাচল করতে পারে না।  এ পানিতে ডুবে শিশুরা মারা যেতে পারে এমন আশঙ্কায় থাকি।  তাই শিশুদের একা রাস্তায় ছাড়িনা। 

বামন্দী ইউপি সদস্য আসাদুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় সব জনপ্রতিনিধি ও এলজিইডির বিভিন্ন দপ্তরে আমরা সব সময় জানাচ্ছি এই দুর্ভোগের কথা।  তার পরেও রাস্তা সংস্কার হচ্ছে না।  এসব রাস্তা সংস্কার না হওয়ায় পথচারীরা আমাদেরকে গালমন্দ করছেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জাকাউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স এর পক্ষে জাকাউল্লাহ বলেন, একই দিনে নয়টি কাজের লটারি হয়।  এর মধ্যে ছয়টি কাজের অর্ডার দিলেও অন্য তিনটি কাজে এলজিইডির ভুল আছে অজুহাত দেখিয়ে কাজের পুনরায় টেন্ডার দেয়।  ফলে দরপত্র আহবানের পরও কার্যাদেশ না পাওয়ায় আদালতে মামলা করতে বাধ্য হয়েছি।

এলজিইডি গাংনী উপজেলা প্রকৌশলী গোলাপ আলী শেখ বলেন- মামলার কারণে অন্য কোন প্রকল্প থেকেও ওই সড়কগুলো সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না।  তবে বন্যা পরবর্তী রাস্তা সংস্কার প্রকল্পে রাস্তা ৩টির নাম দেওয়া হয়েছে। এই মুর্হূতে যদি মামলা নিষ্পত্তি হয় অথবা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান যদি মামলা তুলে নেন তাহলে সংস্কার কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

মহাসিন আলী/টিপু

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়