RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৯ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ১৪ ১৪২৭ ||  ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

রায়হান হত্যা: জড়িতদের গ্রেপ্তারে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:১৭, ১৮ অক্টোবর ২০২০  
রায়হান হত্যা: জড়িতদের গ্রেপ্তারে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে মারা যাওয়া রায়হান হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবিতে এবার ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।

এ সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করা না হলে সিলেটে হরতাল-সড়ক অবরোধসহ বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে নগরের আখালিয়া নিহত রায়হানের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে রায়হানের পরিবার ও বৃহত্তর আখালিয়া এলাকাবাসী ছাড়াও আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ এবং সিসিকের বেশ কয়েকজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর বক্তব্য দেন।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত রায়হানের মা সালমা বেগমের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রায়হানের মামাতো ভাই শওকত। লিখিত বক্তব্যে রায়হান হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি করে ৬ দফা দাবিও তুলে ধরেন তিনি।

তাদের দাবিগুলো হচ্ছে— রায়হান হত্যাকাণ্ডে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন, জড়িত পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকবর ভূঁইয়াসহ দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, পলাতক এসআই আকবর ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তারে আইজিপির নির্দেশ, পুলিশ কমিশনারের পক্ষ থেকে পুর্ণাঙ্গ বক্তব্য, নিহতের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার না করলে হরতাল-সড়ক অবরোধসহ বৃহত্তর আন্দোলন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘রায়হান একটি ডাক্তারের চেম্বারে কাজ করতেন। কে বা কারা তাকে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে নির্যাতন করা হয়। ভোরে তৌহিদের মোবাইল থেকে রায়হান ফোন করে বলে তাকে বাঁচাতে বলেন। তিনি জানান, ১০ হাজার টাকা নিয়ে থানায় যেতে। ভোরে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে গেলে রায়হানের চাচাকে দেখা করতে না দিয়ে সকালে আসতে বলেন। সকালে গেলে রায়হানের শরীর খারাপ করেছে এবং মেডিক্যাল যেতে বলে। হাসপাতালে সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।’

‘এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দিতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে গড়িমিস করে। পরে উপ-পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) গেলে আমরা আশাবাদী হলেও এখন মামলার ভবিষ্যত অন্ধকার দেখতে পাচ্ছি। তাই তাদের আইনের আওতায় না আনলে কঠোর আন্দোলনে নামবো আমরা।’

রায়হানের মা আরও বলেন, ‘১০ হাজার টাকা জন্য আমার ছেলেকে হত্যা করা হবে, এটা আমি বিশ্বাস করি না। নিশ্চয়ই আরও বড় কোনো গ্যাং জড়িত রয়েছে। ১০ হাজার কেন ৫০ হাজার টাকা চাইলেও আমি দিয়ে দিতাম।’

তিনি বলেন, ‘ক্ষতিপূরণ বলতে আমি একটাই চাচ্ছি আমার ছেলের হত্যাকারীদের প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া হোক। কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিলেও আমার ছেলেকে ফিরে পাবো না। ক্ষতিপূরণ একটাই আমার, ছেলে হত্যার ফাঁসি চাই।’

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, ‘৭২ ঘণ্টার মধ্যে রায়হানকে গ্রেপ্তার করতে হবে। তাকে কে আশ্রয় দিয়েছে, পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে, তাকে মদদ দিয়েছে, তা খোলাসা হওয়া উচিত। অন্যথায়, এ নিয়ে ধ্রুমজাল সৃষ্টি হবে। বিতর্কের দেখা দিবে। আইনের লোক মানুষের নিরাপত্তা দেবে, কিন্তু আকবর নিজে আইন হাতে নিয়েছে। এর জবাব তাকেই দিতে হবে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে দাবি অতি তাড়াতাড়ি তাকেসহ সকল আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, স্থানীয় কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরান, ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারেক উদ্দিন তাজ, ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইলিয়াসুর রহমান, কাউন্সিলর তৌফিক বক্স লিপন, নারী কাউন্সিলর রেবেকা বেগম, সাবেক কমিশনার জগদীশ দাশ ও রায়হানের চাচা হাবিবুল্লাহসহ এলাকার মুরব্বিরা।

উল্লেখ্য, গত ১১ অক্টোবর (রোববার) ভোরে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হানের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রাতেই কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার।  এ ঘটনায় ওই ফাঁড়ি ইনচার্জসহ ৪ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত এবং তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মামলাটি এখন তদন্ত করছে পিবিআই।

নোমান/বুলাকী

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়